যবিপ্রবিতে একযোগে ২০ বিভাগের প্রধানের পদত্যাগ


Published: 2019-02-23 18:17:21 BdST, Updated: 2019-05-27 17:52:09 BdST

যবিপ্রবি লাইভ: যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) একযোগে ২০ বিভাগের প্রধান পদত্যাগ করেছেন। শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও অনুজীব বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান প্রফেসর ড. ইকবাল কবীর জাহিদকে প্রাণনাশের হুমকি ও শিক্ষক-কর্মকর্তাদের মানববন্ধনে হামলায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়ায় তারা পত্যাগ করেছেন। শনিবার যবিপ্রবি ভিসি বরাবর ওই পদত্যাগপত্র জমা দেন তারা।

তবে যবিপ্রবি ভিসি প্রফেসর ড. আনোয়ার হোসেন বলেন, প্রত্যেক বিভাগের প্রধানের আলাদা কাগজে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার নিয়ম। বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত অফিসে ছিলাম। আমার কাছে কোন পদত্যাগ পত্র আসেনি।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. নাজমুল হাসান বলেন, সমিতির সাধারণ সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক বিভাগীয় প্রধানদের পদ থেকে গণপদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শনিবার ভিসির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিতে গেলে তিনি গ্রহণ করেননি। কিন্তু আমরা তার চিঠি গ্রহণ শাখায় পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছি।

গণপদত্যাগ করেছেন যারা : বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও অনুজীব বিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর ড. ইকবাল কবীর জাহিদ, ব্যবস্থাপনা বিভাগের ড. মো নাজমুল হাসান, ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রকৌশলী ড. আমজাদ হোসেন, পরিবেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগের ড. সাইবুর রহমান মোল্লা, রসায়ন বিভাগের ড. সুমন চন্দ্র মোহন্ত, মার্কেটিং বিভাগের ড. মো. মেহেদী হাসান, ইংরেজি বিভাগের ড. মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন, হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের মোহাম্মদ কামাল হোসেন, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ড. ওয়াসিকুর রহমান, ফিশারিজ এন্ড মেরিন বায়োসায়েন্স বিভাগের ড. মো. আনিসুর রহমান, ইন্ডাস্ট্রিয়াল এন্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ড.এএসএম মুজাহিদুল হক, বায়ো মেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ড. মো. বিপ্লব কুমার বিশ্বাস, এগ্রো প্রোডাক্ট প্রসেসিং টেকনোলজি বিভাগের প্রফেসর ড. মৃত্যুঞ্জয় বিশ্বাস, কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ড. সৈয়দ মো. গালিব, গণিত বিভাগের মো. সাইফুল ইসলাম, শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের ড. জাফিউল ইসলাম, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ড.মো তানভীর হাসান, পুষ্টি বিজ্ঞান বিভাগের ড. মো. ওমর ফারুক, ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড বায়ো টেকনোলজি বিভাগের শেখ মিজানুর রহমান।

পদত্যাগপত্রে উলে­খ করা হয়েছে, গত ৮ ও ৯ জানুয়ারি র‌্যাগিংয়ে মদদদাতা কিছু উচ্ছৃঙ্খল শিক্ষার্থী কর্তৃক বিশ্ববিদ্যালয়ের র‌্যাগিং বিরোধী ব্যানার ছিড়ে ফেলে। এর প্রতিবাদ জানায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কর্মকর্তা কর্মচারীবৃন্দ।

এ কারণে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতিকে ফোনে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। ওই ঘটনার প্রতিবাদে ১২ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিক্ষক কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করে। সেখানে হামলা চালিয়ে মানববন্ধন কর্মসূচিতে বাধা দেওয়া হয়।

এই সব ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষক সমিতি কর্মসূচি ঘোষণা করে। কিন্তু ভিসি ও যশোরের সুশীল সমাজের ন্যায় বিচারের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তী রিজেন্ট বোর্ডের সভা পর্যন্ত কর্মসূচি স্থগিত করা হয়।

সর্বশেষ গত ১৯ ফেব্রুয়ারি ৫৩তম রিজেন্ট বোর্ডের সভায় শিক্ষক লাঞ্ছনাকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে ন্যায় বিচার ভুলুণ্ঠিত হয়েছে। লাঞ্ছনাকারীরা নিরাপত্তা ও উৎসাহ পেয়েছে বলে আমরা মনে করি। বিচারহীনতার কারণে শিক্ষকদের হুমকির মধ্যে ফেলা হয়েছে।


ঢাকা, ২৩ ফেব্রুয়ারি (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।