ইবির ‘সি’ ইউনিটের প্রশ্নে অসঙ্গতি, বাতিলের আশঙ্কা


Published: 2018-11-05 16:29:30 BdST, Updated: 2018-11-14 11:20:04 BdST

ইবি লাইভ: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদভুক্ত ‘সি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র এবং উত্তর পত্রের ক্রমিক সংখ্যায় অসঙ্গতি থাকায় পরীক্ষা বাতিলের আশঙ্কা করছেন অনেক শিক্ষক। এতে বিপাকে পড়েছে প্রায় সাড়ে ৭ হাজার ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী।

সোমবার প্রথম শিফটে সকাল সাড়ে ৯টায় ‘সি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষা শুরুর ৫ মিনিটের মধ্যেই প্রশ্নপত্র ও উত্তর পত্রের ক্রম বিন্যাসে অমিল পাওয়া যায়। এসময় পরীক্ষার হলে কর্তব্যরত শিক্ষকরা ‘সি’ ইউনিটের কন্ট্রোল রুমের দ্বারস্থ হয়। এসময় কন্ট্রোল রুম একেক পরীক্ষার হলে একেক ধরনের নির্দেশনা দেয় বলে জানিয়েছেন শিক্ষকরা।

এতে উত্তরপত্র মূল্যায়নে ভর্তিচ্ছুরা বৈষম্যের শিকার হবে বলে ধারনা শিক্ষকদের। আবার অনুষদ ভবনের কয়েকটি কক্ষে উত্তর পত্রে হিসাব বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা অংশের উপরের শিরোণাম কলম দিয়ে কেটে পরিবর্তনের নির্দেশ দেয় কর্তব্যরত শিক্ষকরা।

এতে ওএমআর শিটে অপ্রয়োজনীয় দাগ দেওয়ায় ওএমআর মেশিনে ওই উত্তরপত্রগুলো বাতিল করে দিবে। এতেকরে ওইসব কক্ষের ভর্তিচ্ছুদের পরীক্ষা সম্পূর্ণ বাতিল হয়ে যাবে। ফলে এই ইউনিটের পরীক্ষা বাতিলের আশঙ্কা রয়েছে বলে জানা গেছে।

ভর্তিচ্ছুদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এই ইউনিটের প্রশ্নপত্র বণ্টনের ২-৩ মিনিটের মধ্যে পরীক্ষার হলে হৈ-চৈ শুরু হয়। প্রশ্নপত্রে হিসাব বিজ্ঞান অংশের প্রশ্নের ক্রমিক নম্বর রয়েছে ৪৬-৬০, কিন্তু উত্তর পত্রে এই অংশের ক্রমিক নম্বর ৩১-৪৫।

আবার ব্যবসায় শিক্ষা অংশের প্রশ্নের ক্রমিক নম্বর ৩১-৪৫, কিন্তু উত্তর পত্রের ক্রম হলো ৪৬-৬০। এছড়াও লিখিত অংশের প্রশ্নের নম্বর ৬১-৮০, কিন্তু উত্তর পত্রে লিখিত অংশের ক্রম ১-২০। এসব অসঙ্গতি দৃষ্টিগোচর হওয়ার পরে পরীক্ষার হলে কর্তব্যরত শিক্ষকরা কন্ট্রোল রুমের সাথে যোগাযোগ করেন। এসময় কন্ট্রোল রুম বিভ্রান্তিকর সিদ্ধান্ত দেয়া হয় বলে জানা যায়।

জানা গেছে, প্রথমে কন্ট্রোলরুম অনেক কক্ষের শিক্ষকদের উত্তরপত্রের ক্রম অনুযায়ী উত্তর দিতে ভর্তিচ্ছুদের নির্দেশনা দিতে বলে। এ অনুযায়ী ওইসব রুমের পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। আবার কন্ট্রোল রুম থেকে অনেক কক্ষের শিক্ষকদের প্রশ্নপত্রের ক্রম অনুযায়ী উত্তর দিতে বলে। সে অনুযায়ী ওইসব কক্ষের পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। এছাড়াও অনেক কক্ষ কোন ধরনের নির্দেশনা ছাড়াই পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে।

ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ ভবনের ১০১ নং কক্ষের এক পরীক্ষার্থী বলে, ‘প্রথমে এক ধরনের সিদ্ধান্তের আলোকে আমি উত্তর পত্রের বৃত্ত ভরাট করি। কিন্তু ৫ মিনিটি পরে আবার সিদ্ধান্ত চেঞ্জ করে তারা। পরে আমার উত্তরপত্র চেঞ্জ করে নতুন উত্তরপত্র দেয়। কিন্তু আমাকে সময় বাড়িয়ে দেওয়া হয়নি।’

রাজশাহী থেকে মেয়েকে ভর্তি পরীক্ষা দিতে নিয়ে আসা শামিমা নামের এক অভিভাবক মা জানান, ‘এক ঘন্টায় বিবিএ এর মত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ৮০ মার্কের উত্তর দিতে হয়। পরীক্ষার হলে ঝামেলার কারনে মনোযোগ বিচ্ছিন্ন হলে বাচ্চারা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। এতে নেগেটিভ রেজাল্ট হয়।’

রবীন্দ্র-নজরুল কলা ভবনের ২০৫ নং কক্ষে দায়িত্বরত শিক্ষক প্রফেসর মিজানুর রহমান বলেন, ‘কন্ট্রোল রুমকে অসঙ্গতি জানালে পরীক্ষা শুরুর ৫ মিনিটের মাথায় উত্তরপত্র অনুযায়ী পরীক্ষা সম্পন্নের নির্দেশ দেয়।

এর প্রায় ১০ মিনিট পরে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে প্রশ্নের ক্রম অনুযায়ী পরীক্ষা নেওয়ার জন্য বলে। ইতোমধ্যে পরীক্ষা ১৫ মিনিট অতিবাহিত হওয়ায় আমি আগের সিদ্ধান্তে পরীক্ষা নিই। তাদের সিদ্ধান্তহীনতার দায় ভর্তিচ্ছুদের উপর চাপাতে পারি না।’

ভিসি প্রফেসর ড. হারুন উর রশিদ আসকারী বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমারা আলোচনায় বসব। শিক্ষার্থীরা যাতে শতভাগ বিচার পায় তার যা করার দরকার তাই করব। আর মেধাবী শিক্ষার্থী বাছাই আমাদের পরীক্ষার উদ্দেশ্য। তাই কোনভাবেই ধামাচাপা বা গোঁজামিলের আশ্রয় নেওয়া হবে না।’

 

ঢাকা, ০৫ নভেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।