ইবি শিক্ষার্থীর আত্মহনন


Published: 2018-10-19 22:19:55 BdST, Updated: 2018-11-14 15:26:58 BdST

ইবি লাইভ: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) এক শিক্ষার্থী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। ওই শিক্ষার্থীর নাম নাজমুল হাসান। সে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।

শুক্রবার রাত পৌনে ৮টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদ্দাম হোসেন হলের ২২৯ নং কক্ষে সে গলায় ফাঁস নিলে তার বন্ধুরা তাকে উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যায়। এরপর সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষাণা করেন।

আত্মহননকারী নাজমুলের বাড়ি সাতক্ষীরা জেলার তালা থানার বারাত নামক গ্রামে। তার বাবার নাম আব্দুল মালেক গাজী এবং মাতা রোকেয়া বেগম। তার সহপাঠীরা জানায়, নাজমুল হাই প্রেসারের রোগী। বেশ কিছুদিন ধরে সে অসুস্থ্যতার মধ্যে ছিল। প্রতিদিন সে ১২টি করে ট্যাবলেট সেবন করত এবং সবসময় বিষণ্ণতা ও হতাশার মধ্যে থাকতো।

নাজমুলের বন্ধু নাদিম, সাগর, আব্দুল্লাহ তার আত্মহত্যার বিষয়ে জানায়, দুর্গা পূজার ছুটিতে ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় নাজমুলের রুমমেটরা সবাই বাড়িতে গেছে। এর মধ্যে নাজমুল গত কয়েকদিন ধরে একা রুমে থাকে। আমরা তাকে বিভিন্ন সময় বাইরে ঘুরতে যাওয়ার কথা বললেও সে যেতে তেমন রাজি হত না এবং সবসময় হতাশার মধ্যে থাকতো।

আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় নাদিমকে ফোন করে তার রুমে আসতে বলে নাজমুল। পরে নাদিম নাজমুলের রুমে গিয়ে দেখে রুম ভেতর থেকে বন্ধ করা। এরপর নাদিম নাজমুলকে কয়েকবার ডাকার পরও কোন সাড়া না পেয়ে সে রুমের দরজা ধাক্কা দিতে থাকে।

একপর্যায়ে পাশের রুমের কয়েকজন শিক্ষার্থী জড়ো হয়ে রুমের দরজা ভাঙ্গার চেষ্টা করে। এরপর দরজা ভেঙ্গে রুমে ঢুকে তারা দেখে নাজমুলের গলায় ফাঁস দেওয়া। এরপর তারা তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যায়। পরে মেডিকেল সেন্টারে কর্মরত ডাক্তার বদিউজ্জামান তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ বিষয়ে নাজমুলের রুমমেট মনজুর হাসান বলেন, আমি গত দুই-তিন ধরে গ্রামের বাড়িতে অবস্থান করছি। আবার অন্য রুমমেটও বাড়িতে আছে। আমরা ক্যাম্পাসে থাকলে এমনটা হতে দিতাম না।

মেডিকেল সেন্টারে কর্মরত ডা. বদিউজ্জামান বলেন, ‘নাজমুলকে মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে আসা হলে আমরা তাকে মৃত অবস্থায় পায়। সে যে আত্মহত্যা করেছে এটাও নিহ্নিত হয়েছে।’

ইবি থানার ওসি রতন শেখ বলেন, ‘এটা আত্মহত্যা বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। লাশ কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এরপর সেখান থেকে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তার পরিবারের নিকট লাশ হস্তান্তর করা হবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড. মাহবুবর রহমান বলেন, ‘আমি ঘটনা শোনামাত্রই কুষ্টিয়া থেকে ক্যাম্পাসে চলে আসি। এরপর পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে ওই শিক্ষার্থীর রুম পরিদর্শন করেছি। বিষয়টি তার পরিবারকে জানানো হয়েছে। এই ঘটনায় আমরা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার মর্মহত। এ ধরনের ঘটনা কোনভাবেই কাম্য নয়।’

 

 

ঢাকা, ১৯ অক্টোবর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।