ইবির মানসিক ভারসাম্য হারানো সেই ছাত্রীর বাবার লিখিত অভিযোগ


Published: 2018-07-21 20:46:04 BdST, Updated: 2018-10-23 05:36:14 BdST

ইবি লাইভ: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) মানসিক ভারসাম্য হারানো সেই ছাত্রীর বাবা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বরাবর অভিযোগ দায়ের করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে হয়রানি ও নির্যাতনের অভিযোগ করেন তিনি।

শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এসএম আব্দুল লতিফ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘আমরা অভিযোগটি পেয়েছি। হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী বিষয়টি এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নির্যাতন প্রতিরোধ সেলকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। পূর্বের তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি বাতিল করা হয়েছে।’

এদিকে অভিযোগ পত্রে ভুক্তভূগী ছাত্রীর বাবা উল্লেখ করেন, ‘আমার মেয়ে চুমকি (ছদ্মনাম) আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের ২য় বর্ষের একজন মেধাবী ছাত্রী। আমি গত ৪ জুলাই আমার মেয়ের এক বান্ধবীর ফোন কলে জানতে পারি যে, আমার মেয়ে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে যত্রতত্র ছুটাছুটি করছে। সে এখন আবোল তাবোল কথা বলতেছে।

এমতবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক পরিচয় দিয়ে আরো একজন ফোন করে তার অসুস্থতার সংবাদ দিয়ে তাকে নিয়ে আসার জন্য বলে। আমি ঐ সময় আমার গ্রামের বাড়ি ফেনীতে ছিলাম। আমার শারীরিক অসুস্থতার কারনে এবং ফেনী হতে কুষ্টিয়া অনেক দূর বিধায় জরুরী ভিত্তিতে আমার মেয়েকে নিয়ে আসার জন্য ঢাকা হতে আমার ছেলে (জাহিদুল হাসান তারেক) কে কুষ্টিয়া পাঠাই।

আমার ছেলে কুষ্টিয়া যাওয়ার পর জানতে পারে যে, আমার মেয়ের মানষিক ভারসাম্য হারানোর মূল কারণ হলো ফিন্যান্স বিভাগের শিক্ষক সঞ্জয় কুমার সরকার। ওই শিক্ষক চুমকিকে মানসিক নির্যাতন এবং প্রাণনাশের হুমকিসহ আরো খারাপ ধরনের আচরণ করেছে।

শিক্ষক সঞ্জয় কুমার মৌখিক পরীক্ষায় তাকে চরম ভাবে মানসিক হেনেস্তা করেছে বলে জানা যায়। কিছুদিন আগে বাড়িতে এসে সে (চুমকি) আমার বড় মেয়ের কাছে ঐ শিক্ষকের খারাপ চরিত্র সম্পর্কে অভিযোগ করেছিল। সে বলেছিল তাকেসহ অন্যান্য বিভাগের অনেক মেয়েকে তিনি যৌন উত্যক্ত করেন।

শিক্ষক সঞ্জয় কুমারের অসৎ চরিত্র এবং কুপ্রবৃত্তির প্রতিবাদ করায় সে আমার মেয়েকে মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণ কালে তার সঙ্গে হিংসা স্বভাবের আচরণ করে এবং লিখিত পরীক্ষায় তাকে অকৃতিকার্য করে। শিক্ষক সঞ্জয় কুমারের পশু সুলভ আচরণে আমার এতিম ‘মা’ হারা মেয়েটি হাসপাতালের বেডে যত্রতত্র যথারীতি প্রলেপ বকে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে।

বর্তমানে আমার মেয়ে বারংবার শিক্ষক সঞ্জয় কুমার এর হুমকির কথা এবং তার সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনা কথা মনে করে মানসিক ভাবে ঠিক থাকতে পারতেছে না। শিক্ষক সঞ্জয় কুমার এর অপরাধ বিভিন্ন জাতীয় ও দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। আমি চুমকির অসুস্থ পিতা উক্ত অপরাধের সঠিক বিচার এবং প্রয়োজনীয় কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ এর জন্য আবেদন করছি।

অতএব মহোদয়ের নিকট আকুল আবেদন, আমার মেয়েকে মানসিক নির্যাতন এবং প্রাণনাশের হুমকির দৃষ্টান্ত মূলক বিচার দাবি করছি, যাতে আমার মেয়ের মতো আর কোনো মেয়ের মানসিক ভারনসাম্য হারিয়ে হাসপাতালের বেডে মাথা ঠুকে মরতে না হয়।

বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নির্যাতন প্রতিরোধ সেলের আহ্বাক প্রফেসর ড. নাসিম বানু বলেন, ‘এটি বেশ সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। মেয়েটি এখনো অসুস্থ। বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্তে তার সুস্থ্য হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।’

 

ঢাকা, ২১ জুলাই (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।