ইবির শিক্ষক হচ্ছেন জাবির সেই বিতর্কিত ছাত্রী!


Published: 2018-07-14 16:11:56 BdST, Updated: 2018-08-18 09:11:41 BdST

ইবি লাইভ : জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজাল্ট নিয়ে বিতর্কিত সেই ছাত্রী ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক নিয়োগ পেতে যাচ্ছেন। ওই শিক্ষার্থীর নাম আতিফা কাফি। ওই ছাত্রীর বিরুদ্ধে বিভাগের শিক্ষকদের ছত্রছায়ায় রেজাল্ট ভাল করার অভিযোগ রয়েছে।

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগে ৪টি বিজ্ঞাপিত পদে শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে প্রশাসন। এতে ১জন অ্যাস্ট্যান্ট প্রফেসর এবং ৩ জন লেকচারার নেওয়া হবে।

গত ৫ জুলাই ওই বিভাগের নিয়োগ বোর্ড (লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা) অনুষ্ঠিত হয়। বোর্ডে ৫৬ জন প্রার্থী অংশগ্রহন করে। এদের মধ্য ২৪ জন প্রার্থী লিখিত পরীক্ষায় পাশ করে মৌখিক সাক্ষাৎকারে অংশগ্রহণ করেন।

এতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী আতিফা কাফি লিখিত ও ভাইভা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। পরীক্ষা শেষে ওই নিয়োগে আতিফাকে চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে বিভিন্ন মহলে গুঞ্জণ উঠেছে। নিয়োগ বোর্ডে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. রাশিদ আসকারী, প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. শাহিনুর রহমান, বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. নাসিম বানু। বোর্ডে বহিরাগত বিশেষজ্ঞ ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের প্রফেসর ইলিয়াস হোসেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আতিফা কাফি জাবির লোক প্রশাসন বিভাগের (৪১ ব্যাচের) ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। স্নাতক পরীক্ষায় তার রেজাল্ট ৩.৫১। মেধাক্রম ১১ তম। তবে বিভাগের কয়েকজন শিক্ষকের সাথে এবং পরীক্ষা কমিটির সভাপতির সাথে ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারণে স্নাতকোত্তরে প্রথম বিভাগে প্রথম স্থান অধিকার করেন তিনি। বিভাগে ইতিহাস গড়ে সিজিপিএ পান ৩.৯৭।

তিনি স্নাতকোত্তর পরীক্ষা কমিটির সভাপতি ও বিভাগীয় সভাপতির সাথে বিশেষ সম্পর্ক তৈরি করে মেধা তালিকায় প্রথমে উঠে আসেন বলে অভিযোগ করেন সহপাঠীরা। এর প্রেক্ষিতে ওই সময় তার সহপাঠীরা জাবি ভিসি বরাবর আতিফার খাতা পূনর্মূল্যায়নের দাবি জানিয়ে লিখিত প্রতিবাদলিপিও দেন। গত ৬ মার্চ আবেদনটি ভিসি বরাবর পৌঁছায় ।

এ বিষয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের সভাপতি ড. জেবুন্নেসা বলেন, আমি নিজে বিষয়টাকে বিতর্কিত মনে করে একটি তদন্ত কমিটি চেয়েছি। বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন আছে। যেহেতু এখনো বিষয়টি তদন্তাধীন আছে, সেহেতু আমি মনে করি যে বিষয়টা এখনো সুরাহা হয়নি। তাই ছাত্রছাত্রীদের স্বার্থের কথা চিন্তা করে বিষয়টি সুরাহা হওয়া প্রয়োজন।

এছাড়া ওই প্রার্থীর রেজাল্ট বিতর্ক নিয়ে দেশের বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ফলে এর আগে একটি পাবলিক বিশ্বাবিদ্যালয়ে তার নিয়োগ হয়নি বলেও জানা গেছে। বিতর্কিত ছাত্রী ইবিতে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেলে নতুন এই বিভাগটি শুরুতেই বিতর্কের জন্ম দিবে বলে মনে করছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. রাশিদ আসকারী বলেন, ‘এরকম অভিযোগ সিন্ডিকেটের আগে পেলে সে কোন ভাবেই পার পাবে না। এমনকি নিয়োগের পরেও এমন অভিযোগ পেলে তার নিয়োগ বাতিল করা হবে। এমন সৎ সাহস আমার আছে।’

ঢাকা, ১৪ জুলাই (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।