যবিপ্রবিতে বিজলী হত্যার বিচার দাবিতে শিক্ষার্থীদের মানবন্ধন


Published: 2018-07-04 20:22:24 BdST, Updated: 2018-11-16 20:24:43 BdST

যবিপ্রবি লাইভ: যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বিজলী খাতুনের হত্যার প্রতিবাদে মানব বন্ধন ও প্রতিবাদ সভা করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বুধবার দুপুর ২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক থেকে শেখ হাসিনা হল পর্যন্ত সব বিভাগের প্রায় ছয়শত এই প্রতিবাদ সভায় অংশগ্রহণ করেন।

বিজলী বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। ভালোবাসার মানুষকে বিয়ে করেও বেশি দিন পড়াশোনা করার সুযোগ হয়নি তার। বিয়ের দুই মাস না পার হতেই তার স্বামী বাঘার পাড়া থানার যোহরপুর ইউনিয়নের সলুয়া গ্রামের নজরুল বিশ্বাসের ছেলে সেলিম বিশ্বাসকে মোটরসাইকেল দিতে হয় বিজলীর পরিবারকে।

এতেই শেষ নয়, কিছুদিন পরপর শ্বশুর বাড়ির মানুষদের মনপুঁজ করতে দিতে হতো বিভিন্ন আসবাবপত্র। আর দিতে দেরি হলেই চলে অমানবিক নির্যাতন। বাবা কালীগঞ্জ থানার জামাদ ইউনিয়নের নাঠোপারা গ্রামের সাইফুল খানের সংসার ঠিকমত না চললেও জামাইয়ের মনতুষ্টি করতে কম করেননি তিনি। তার পরও যেন সুখ সইলনা বিজলীর। এক বছরের সন্তানকে রেখে দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে চলে গেল পরপারে।’

এমনটাই বললেন শোকে স্তব্দ বিজলীর ভাই যবিপ্রবি শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শাহিনুর রাহমান। তিনি বিজলীর জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন এবং বিজলীর হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

মানববন্ধনে শেখ হাসিনা হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হুমায়রা আজমিরা এরিন জানান, প্রধানমন্ত্রী যখন নারীর ক্ষমতায়ন বাস্তবায়ন করছেন ঠিক তখন, এই ২০১৮ সালে একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থী যৌতুকের কারণে মারা যাবে, এটা কখনই মেনে নেয়া যায় না, আমরা বিচার চাই, আমার বোন হত্যার বিচার চাই।

মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শাহিনুর রাহমান (বিজলীর ভাই), উপ-প্রচার সম্পাদক ইলিয়াস হাসান রকি, শহীদ মসিয়ূর রহমান হলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা, শেখ হাসিনা হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হুমায়রা আজমিরা এরিন, শহীদ মসিয়ূর রহমান হলের সাংগঠনিক সম্পাদক হোসেন ইছাদ ও মাহবুব হাসান।

উল্লেখ্য, গত রবিবার বিজলীকে তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন যশোর সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. আব্দুর রশিদ তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বিজলীর ভাই শাহিন ও তার সহপাঠীরা হাসপাতালে পৌঁছলে লাশ মর্গে থাকলেও বিজলীর শ্বশুরবাড়ির আত্মীয়স্বজন কেঊ হাসপাতালে ছিলেন না।

 

ঢাকা, ০৪ জুলাই (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।