মৃত্যুর আগে গার্লফ্রেন্ডকে যে চিঠি লিখে গেলেন ইবি ছাত্র!


Published: 2018-04-19 03:20:29 BdST, Updated: 2018-08-19 06:13:07 BdST

ঝিনাইদহ লাইভ : ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ছাত্র মো. সাইমুজ্জামান খান সাঈম। প্রথম বর্ষের গণ্ডি না পার হতেই তিনি চলে গেছেন না ফেরার দেশে। কলেজছাত্রী গার্লফ্রেন্ডের জন্য তিনি ওই ভয়ংকর পথ বেছে নিয়েছেন। সহপাঠী ও স্বজনদের কাঁদিয়ে তিনি চলে গেছেন না ফেরার দেশে। তার ডায়রিতে লিখে গেছেন, ‘আমি পুরা ছন্নছাড়া হয়ে পড়ছি, আমায় বেঁধে রেখো।’ এমন অনেক আবেগঘন শব্দচয়নে ৩ পৃষ্ঠায় মৃত্যুর কারণ ব্যাখ্যা করে গেছেন।
ডায়রির আরও তিন পৃষ্ঠাজুড়ে লেখা ছিল- ‘আজ আমার কেন জানি মনে হচ্ছে, আমি হয়তো তোমার জীবন নষ্ট করে দেবো। তোমায় কি কোনও দিন সুখে রাখতে পারবো, জানি না— আমি তোমার জন্য ঠিক কি না। বাবু তোমায় অনেক ভালোবাসি। যেই দিন শেষ প্রশ্বাস নেব এই দিন তোমায় হয়ত একটু বোঝার সুযোগ দিব যদি বুঝতে পারো বুঝে নিও এই দিন।’

জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুর থেকেই সাঈমের রুমের দরজা বন্ধ পাওয়া যায়। একপর্যায়ে তারা দরজা ধাক্কা দিয়ে ডাকাডাকি করলেও তার কোনও সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে এলাকাবাসী পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড. মাহবুবর রহমান ঘটনাস্থলে আসেন। দরজা ভাঙা পর ভেতরে তার লাশ পাওয়া যায়।

সাঈমের সহপাঠী মুজাম্মেল ও শিহাব বলেন, গত কয়েকদিন যাবত সে হতাশায় ভুগছিল। আমাদের সঙ্গে তা শেয়ারও করেছিল। তবে, এরকম কিছু করবে আমরা বুঝিনি। সে সব সময় একাকী থাকলেও সোমবারও বৈশাখী মেলার শেষদিন আমাদের সঙ্গে আড্ডায় মেতেছিল।

বন্ধুরা জানিয়েছেন, ফরিদপুর সরকারি সারদী সুন্দর কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের এক মেয়ের সঙ্গে সাইমের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। কিছুদিন ধরে তার সঙ্গে বনিবনা হচ্ছিল না সাঈমের। এনিয়ে তিনি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। মঙ্গলবার (১৭ এপ্রিল) রাত ৯টার দিকে শৈলকূপা থানার ক্যাম্পাসের পাশের শেখপাড়া বাজারের ফরহাদের মেস থেকে সাঈমের লাশ উদ্ধার করা হয়। সাঈম ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র ছিলেন। তার বাড়ি ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা উপজেলার ১২ নম্বর লস্কারদিয়া ইউনিয়নের আজিয়া গ্রামে। বাবার নাম আজম খান ও মায়ের নাম হাবিবুন্নাহার।

ঢাকা, ১৯ এপ্রিল (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//সিএস

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।