ইবির কে এই বিতর্কিত ছাত্রলীগ নেতা সজল?


Published: 2018-04-13 22:19:29 BdST, Updated: 2018-07-17 11:46:16 BdST

ইবি লাইভ: কে এই বিতর্কিত ছাত্রলীগ নেতা সজল? এমন প্রশ্ন এখন সকলের মুখে মুখে। সবাই জানতে চায় তার রহস্য। তার খুটির জোড় কোথায়? কিভাবে দাবড়ে বেড়াচ্ছেন গোটা ক্যাম্পাস। বিষয়টি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি)। জানাগেছে ভূইফোঁড় ছাত্রলীগ নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদ সজল।

চাকরির আশায় ২০১৬ সালে লেখাপড়া শেষ করে যোগ দেয় শাখা ছাত্রলীগে। এর পর থেকে শুরু করে নানা অনৈতিক কাজ। যার ফলে সম্প্রতি তার বেশ কিছু কর্মকান্ডে দিন দিন শাখা ছাত্রলীগ বিতর্কিত হচ্ছে। সর্বশেষ কোটা সংস্কার আন্দোলনে অংশ নেয়া মুক্তিযোদ্ধা সন্তানসহ ২২ জনকে হল থেকে নামিয়ে দেয় সে। এ নিয়ে শাখা ছাত্রলীগের গায়ে কালিমা লেপন হচ্ছে প্রতিনিয়ত। এমনটি দাবী করেছেন খোদ শাখা ছাত্রলীগের ত্যাগি নেতা কর্মীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সজল ২০০৯-১০ শিক্ষাবর্ষে ব্যবস্থাপনা বিভাগে ভর্তি হয়। সেসময় বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবিরের ব্যাপক প্রভাব ছিল। শুরু থেকেই শিবিরের সাথে আঁতাত করে সজল। শিবিরের সিটে সে লালন শাহ হলে থাকতে শুরু করে।

সে সময়ে তার ফেসবুক আইডিতে সরকার বিরোধী নানা পোস্ট ছড়িয়ে বেড়িয়েছে। কয়েকদিন আগে তার পোস্ট নিয়ে ক্যাম্পাসে সমালোচনা শুরু হলে সেসব ডিলেট করে দেয় সজল। ছাত্রজীবনে কোন দিনও সে কোন রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলনা। তবে ২০১৬ সালে মাস্টার্স শেষ করে ছাত্রলীগের সাথে মিশতে শুরু করে। ছাত্রলীগের সাইফুল-অমিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক অমিত কুমার দাশের সাথে ব্যাপক সখ্যতা গড়ে তোলে।

এর পর ২০১৭ সালের এপ্রিলে শাহিন-হালিম কমিটি হলে সজল সভাপতি শাহিনুর রহমান শাহিনের গ্রুপে যোগ দেয়। অল্প দিনেই সে শাহিনের ডান হতে পরিণত হয়। বিশ্বাসের খাতিরে শাহিন তার পুরো গ্রুপের দায়িত্ব দেয় সজলের ওপর। সেই থেকে শুরু হয় সজলের তান্ডব। একে একে ছাত্রলীগকে বিতর্কিত করতে প্রশ্নবিদ্ধ কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে সে।

নিজেকে লালন শাহ হলের একচ্ছত্র অধিপতি মনে করে রাজত্ব চালিয়ে আসছে দীর্ঘ দিন ধরে। অহেতুক কারনে পেটুয়া বাহিনী দিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মারধর, বিনা কারনে হল থেকে নামিয়ে দেয়া তার নিত্য নৈমত্তিক কাজ।
এছাড়া মাদকের আড়ৎ খ্যাত লালন শাহ হলের মাদক ব্যবসার সাথে তার শক্ত সম্পৃক্ততারও অভিযোগ রয়েছে। গত ২৭ মার্চ মাদকসেবী ও ব্যবসায়ীকে বাঁচাতে প্রক্টরের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামে সভাপতি গ্রুপ। এতে নেতৃত্ব দেয় সজল।

ওই দিন ক্যাম্পাসে তাদের ব্যাপক তান্ডবলীলা গণমাধ্যমে ফলাও করে প্রচার হয়। প্রক্টর বিরোধী ওই আন্দোলনের মিছিল থেকে তার নেতৃত্বে কর্মীরা বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। যা এখনো চলমান রয়েছে।

সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার সকালে কোটা সংস্কার দাবিতে আন্দোলনে অংশ নেয়া ২২ জন শিক্ষার্থীকে জোরপূর্বক হল থেকে বের করে দেয় সে। এদের মধ্যে দুই জন মুক্তিযোদ্ধার সন্তানও ছিল। শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক আন্দোলনে ছাত্রলীগ একাত্বতা পোষণ করলে বুধবার মধ্য রাতে তাদের ডেকে আন্দোলনে যাওয়ায় হুমকি দিতে থাকে।

সকাল দশটার মধ্যে তাদের হল থেকে বের হয়ে যাবার নির্দেশ দিয়েও হুমকি দেয় সে। খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, ওই ২২ জনের প্রত্যেকেই ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। কিছুদিন আগে লালন শাহ হল থেকে শিবির নামিয়ে দেয়ার পেছনে অনেকেরই প্রত্যক্ষ অবদান ছিল। অথচ বিনা কারনে তাদের হল থেকে নামিয়ে দেয় সজল।

তার ব্যাপারে সাবেক সাধারণ সম্পাদক অমিত কুমার দাশ ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, আমার সময়ে সে ছাত্রলীগের সাথে জড়িত ছিল কিন্তু বর্তমানে সে কোন অবস্থায় আছে এটা আমার জানা নাই।

শাখা সভাপতি শাহিনুর রহমান শাহিন ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, ছাত্ররা নিজেদের মধ্যে ভুল বুঝাবুঝি করে ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে গিয়েছিল আবার তারা নিজেদের মধ্যে সমাধান করে হলে ফিরে এসেছে। তবে তিনি সজলের ব্যাপারে কোন কথা বলতে রাজি হননি।

এ ব্যাপারে সালাহউদ্দিন আহমেদ সজলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন এসব সত্য নয়। আমার বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগ এসেছে তা ভিত্তিহীন। আমি এসবের সঙ্গে জড়িত নই। আমার প্রতিপক্ষ ছাত্রলীগ নেতারা এসব বানিয়েছে।

ঢাকা, ১৩ এপ্রিল (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//বিএসসি

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।