স্কুলের জমি দখল করে ভবন নির্মাণ


Published: 2017-12-30 22:06:00 BdST, Updated: 2018-06-25 00:34:30 BdST

 

মেহেরপুর লাইভ: সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমি প্রভাবশালী পরিবার জবর-দখল করে ভবন নির্মাণ করে বসবাস করছে। জমিটি অর্ধশত বছর জবর-দখল করে ভবন নির্মাণ করে প্রভাবশালী একটি পরিবার। প্রশাসন এসব জেনেও ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালীদের ভয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার পাঁয়তারা চালিয়ে আসছে। মামলার সরকারি পক্ষের বাদী শিক্ষা অফিসারকে ভয়ভীতি দেখিয়ে শুনানিতে হাজির হতে দেয় না।

জানা গেছে, মেহেরপুর-কুষ্টিয়া সড়কের গাংনীর তেরাইল বাজারের পার্শ্বে ১৯০৪ সালে ১৪ শতক জমির ওপর তেরাইল প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। সে সময় গ্রামে শিক্ষার আলো জ্বালাতে এলাকার অলিনগর গ্রামের জহির শাহ ৪১নং মৌজাধীন ৩নং খতিয়ানে ৪৭২২ দাগের ১৪ শতক জমি বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে শিক্ষা বিভাগকে দান করেন।

পরে বিদ্যালয়ের জায়গা সংকুলান না হওয়ায় ১৯৬৬ সালে রাস্তার বিপরীত দিকে (তেরাইল বাজারের পশ্চিম দিকে) স্কুল ঘরটি স্থানান্তর করা হয়।

স্কুল (বিদ্যালয়) ঘরটি স্থানান্তরিত হলে ওই গ্রামের প্রভাবশালী মৃত নাদের হোসেনের ছেলে আবদুল গনি ও তার জামাই আজিজুল হক জোরপূর্বক খালি জায়গাটুকু জবর-দখলে নিয়ে ঘরবাড়ি স্থাপন করে দাপটের সঙ্গে প্রায় ৫০ বছর অবৈধভাবে বসবাস করে আসছে।

বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে শিক্ষা বিভাগের নামে আর এস রেকর্ডভুক্ত জমির ওপর কিভাবে একটি গোষ্ঠী জবরদখল করে বসবাস করতে পারে এটি বোধগম্য হয় না এলাকার সচেতন মহলের। এলাকাবাসীর ক্ষোভ, তাহলে কি প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই এই জবরদখল!

স্কুলের প্রধান শিক্ষক জানান, পুরাতন স্কুলের জমি নিয়ে কিছু সমস্যা আছে, সব কথা বলা যাবে না। গ্রামবাসী সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭২ সালে তেরাইল প্রাথমিক বিদ্যালয়টি সরকারিকরণের পর থেকে এ যাবত ওই প্রভাবশালী পরিবারের মধ্যেই বার বার সভাপতি মনোনীত করে স্কুলের সম্পদ আত্মসাৎ করে আসছে।

আবদুল গনি বামন্দী ইউনিয়ন তহলদার হিসাবে নামে-বেনামে স্কুলের জমি ছাড়াও অনেক জমি ভুয়া জাল কাগজপত্র বা দলিল করে গ্রামে আলোচিত হয়ে আছেন। একইভাবে স্কুলের ১৪ শতক জমি মহব্বতপুর গ্রামের আফতাব হোসেনের ছেলে আহাম্মেদ আলীর নামে ভুয়া দলিল করে দিয়ে তা পরে ক্রয় দেখিয়ে ফিরিয়ে নেন।

এক যুগ আগে বর্তমান স্কুল এরিয়ার ৫৩ শতক জমি জাল দলিল করে জবর-দখল করতে গেলে গ্রামবাসীর তোপের মুখে পড়ে। এ নিয়ে গ্রামে সালিস বসে। পরে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার, থানা কর্মকর্তা ও সকল ইউনিয়ন চেয়ারম্যান এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের চাপে উক্ত জমি ফেরত দিতে বাধ্য হয়। এছাড়াও ১নং খতিয়ানভুক্ত ২৯৯৫ দাগের ৪ বিঘা জমি, এনিমি সম্পত্তিসহ বাড়ির পার্শ্বের ১ বিঘা জমি ছাড়াও তেরাইল বিলের মধ্যে ৪ বিঘা জমি অবৈধভাবে দখল করে পুকুর কেটেছেন।

এ ব্যাপারে জমি জবর-দখলদার আবদুল গনির সঙ্গে আলাপকালে তিনি ক্রয়সূত্রে জমি দখল করেছেন বলে জানান। এ সময় তিনি কিছু ভুয়া কাগজপত্র দেখান। তিনি কৌশলে বলেন, উক্ত জমি ভুলবশত আর এস রেকর্ডে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে শিক্ষা বিভাগের নামে হয়েছে। এতে কোনো সমস্যা নেই, সব ঠিক করে নেব। সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি দম্ভোক্তি করে বলেন, আমার ক্ষমতাবলে আমি জমি দখল করে বসবাস করছি। আমার বিরুদ্ধে লিখে কোনো লাভ হবে না।

এ নিয়ে বামন্দী ইউনিয়নের সহকারী ভূমি কর্মকর্তার সঙ্গে মোবাইল ফোনে আলাপ করতে চাইলে একাধিকবার চেষ্টা করেও সংযোগ পাওয়া যায়নি। সরেজমিনে তদন্ত করে স্কুলের জমি জবর-দখলকারী তেরাইল গ্রামের আব্দুল গনি গংদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ ও সরকারি সম্পত্তি উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন এলাকার সচেতন মহল।

 

 

ঢাকা, ৩০ ডিসেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।