''উচ্চশিক্ষা হোক বৈষম্যহীন, দেশ হোক শিক্ষার আলোয় রঙিন''


Published: 2021-02-16 20:49:06 BdST, Updated: 2021-03-08 09:04:53 BdST

গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বশেমুরবিপ্রবি) গতকাল (১৫ ফেব্রুয়ারি) একাডেমিক কাউন্সিলের বৈঠকে পরবর্তী ভর্তি পরীক্ষায় বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলের জন্য ২০% আঞ্চলিক কোটার প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে প্রস্তাবটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি, রিজেন্ট বোর্ডে পাশ হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের নিকট ও সরকারের নিকট যাবে চূড়ান্ত অনুমোদনের লক্ষ্যে। এই খবর গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপে ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীদের কোটা বিষয়ে বিরূপ মন্তব্য ও কোটাবৈষম্য নিয়ে ফেসবুক ওয়ালে পোষ্ট করতে দেখা যায়।

দেশের অন্যতম বিদ্যাপীঠ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীর বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলের জন্য ২০% আঞ্চলিক কোটা নিয়ে ভাবনা তুলে ধরেছেন আমাদের ক্যম্পাসলাইভ২৪ প্রতিনিধি 'আর এস মাহমুদ হাসান'

"বৈষম্যমুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় চাই"
রেশমা খাতুন, পরিসংখ্যান বিভাগ: বশেমুরপ্রবির একাডেমিক কাউন্সিলে বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলের জন্য ২০% কোটা প্রস্তাব উঠানো হয়েছে। যেটা পর্যায় ক্রমে রিজেন্ট বোর্ডের মাধ্যমে স্হায়ী করণের কথা ব্যক্ত হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত বশেমুরপ্রবির জন্য খুবই লজ্জাজনক। এমন পরিস্থিতিতে ভর্তি পরীক্ষার্থীরা চরম বৈষম্যের শিকার হবে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চার মাধ্যমে মনুষ্যত্ববোধ জাগ্রত করে আর্দশ একটা জাতি গঠন করা। আর একটা সুষ্ঠ জাতি গড়তে হলে অবশ্যই তার মেধা, বুদ্ধির পরীক্ষা করতে হয়। যা ২০% কোটার মাধ্যমে কখনো সম্ভব নয়। তাই দেশ ও জাতির কল্যাণের জন্য কোটা বাদ দিয়ে মেধার পরীক্ষা খুবই প্রয়োজন।

রেশমা খাতুন

 

যেখানে গুচ্ছ পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সেখানে পরীক্ষার্থীরা ২০% কোটার বৈষম্যের শিকার কেন হবে? "নিজ নিজ মেধা দিয়ে নিজ জেলাকে রিপ্রেজেন্ট কর, কোটা দিয়ে নয়"। আমাদের জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর জন্মভূমিতে বৈষম্যমুক্ত শিক্ষার পরিবেশ চাই। বশেমুরপ্রবি অঞ্চলভিত্তিক (ফরিদপুর) কোটা মুক্ত শিক্ষাঙ্গন চাই।

"কোটা বৈষম্য বিশ্ববিদ্যালয় ধারণার পরিপন্থী"
উজ্জ্বল মন্ডল, আইন বিভাগ: আমরা জানি যে সারা পৃথিবীর মেধাবীরা যোগ্যতার প্রমাণ করে বিশ্ববিদ্যালয় নামক উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়। আমার কাছে মনে হয় অবাধ তথ্য প্রবাহের যুগে কোন এলাকা পিছিয়ে আছে এমনটা ভাবা উচিত নয় কারণ বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে যোগ্যতা প্রতিযোগিতার জায়গা।

উজ্জ্বল মন্ডল

 

এখানে নির্দিষ্ট এলাকার শিক্ষার্থীদের কোটায় ভর্তি করানো সিদ্ধান্তকে সমর্থন করতে পাচ্ছি না। এটা এক ধরনের শিক্ষা বৈষম্য যেটা বিশ্ববিদ্যালয় ধারণার সাথে যায় না।

"২০% আঞ্চলিক কোটা অনেক বেশি হয়ে যায়"
মোঃ নাঈম তালুকদার, ভেটেরিনারি মেডিসিন বিভাগ: যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয়ই সর্বোচ্চ মেধা বিকাশের বাতিঘর৷ নতুন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য সেই অঞ্চলের মানুষের উন্নতি সাধন করা। অর্থনৈতিক ভাবে উন্নয়ন এবং শিক্ষিত জনবল সৃষ্টির লক্ষে নতুন নতুন বিশ্ববিদ্যালয় সৃষ্টি হচ্ছে এবং হয়েছে। যেহেতু বৃহত্তর ফরিদপুরে তথা গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, শরিয়তপুর এবং রাজবাড়ী অঞ্চলে বশেমুরবিপ্রবি ছাড়া আর কোন বিশ্ববিদ্যালয় নেই, তাই কর্তৃপক্ষ বৃহত্তর ফরিদপুর জেলার জন্য আঞ্চলিক কোটা রেখেছেন। কিন্তু ২০% আঞ্চলিক কোটা অনেক বেশি মনে হয়েছে আমার কাছে। এতে বশেমুরবিপ্রবিতে মেধাবীদের ভর্তির সুযোগ কমে যাবে।

মোঃ নাঈম তালুকদার

 

অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় পিছিয়ে পড়বে বশেমুরবিপ্রবি, যা কাম্য নয়। ফরিদপুরের জন্য আঞ্চলিক কোটা সর্বোচ্চ ৫% রাখলে মানানসই লাগত।অত্র অঞ্চলের মানুষের কাছে দাবি থাকবে যেন তারা বশেমুরবিপ্রবি এবং বশেমুরবিপ্রবির শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ মূল্যায়ন করেন।

"কোটা মানেই বৈষম্য"
নাহিদ শেখ, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ: কোটা মানেই আমার কাছে বৈষম্য মনে হয়। এটা প্রসাশনের অবান্তর অযৌক্তিক পদক্ষেপ। মেধা যাচাইয়ের পথে এটি প্রধান অন্তরায় বলে আমি মনে করি। জন্মস্থান যদি কোন শিক্ষা বা মেধা পরিমাপক যন্ত্র হয়ে থাকে তাহলে সেই শিক্ষাব্যবস্থা ধীরে ধীরে মেরুদণ্ডহীন হয়ে পড়ে। কারণ সেখানে যোগ্যতার সঠিক মূল্যায়ন হয় না।

নাহিদ শেখ

 

প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা মানেই মেধার পরীক্ষা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ হয়তো ভুলে গেছে বাংলা ব্যাকরণের "গোবরে পদ্মফুল" উপমাটি। এমন অযৌক্তিক পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানাই। কারন এটা সাম্য ও ন্যায্যতা পরিপন্তি পদক্ষেপ।

"২০% কোটা, বৈষম্য ছাড়া আর কিছুই না"
সেলিম রেজা, রসায়ন বিভাগ: বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য এলাকা ভিত্তিক ২০% কোটা দেওয়ার সিদ্ধান্ত যদি নিতেই হয় তাহলে, প্রত্যেকটা জেলায় অন্তত একটি করে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা লাগবে। যে জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় আছে সে এলাকার শিক্ষার্থীরা এই সুযোগ পাবে কিন্তু যে এলাকায় নেই তাদের কি হবে? আমাদের বশেমুরবিপ্রবি তে যদি ১৬০০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি করে তাহলে ২০% কোটায় ৩২০ জন শিক্ষার্থী মেধা যাচাই ছাড়ায় ভর্তির সুযোগ পেয়ে যাবে। সে ক্ষেত্রে আসল মেধা গুলো নস্ট হয়ে যাবে, নিজএলাকা না হওয়ার জন্য।

সেলিম রেজা

 

আর একটি সমস্যা হবে, যখন এক এলাকার ৩২০ বা তার অধিক শিক্ষার্থী থাকবে তাদের প্রভাব টা বলবত রাখার জন্য যথেষ্ট চেস্টা করবে। যার ফলে শিক্ষার পরিবেশ অনেকাংশেই নস্ট হতে পারে।এছাড়াও, মুক্তিযোদ্ধা কোটা, উপজাতি কোটা, ছাড়াও অনেক কোটা সিস্টেম চালু আছে। এ ক্ষেত্রে যদি ২০% এলাকা ভিত্তিক কোটা দেওয়া হয় তাহলে সাধারণ মেধা গুলো যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও কোটার কাছে হার মেনে হইতো নিজেকেই হারিয়ে ফেলে খুঁজার চেস্টা করবে কিন্তু পাবে না। তাই এই ২০% এলাকা ভিত্তিক কোটা কোন ভাবেই আমাদের কাম্য না।

২০% আঞ্চলিক কোটা সংরক্ষণ, শিক্ষার মানের জন্য হুমকি
আলিফ লায়লা, কৃষি বিভাগ: বশেমুরবিপ্রবিতে আগামী ভর্তি পরীক্ষা থেকে ২০% এলাকা কোটা (বৃহত্তর ফরিদপুর) রাখার যে প্রস্তাব করা হয়েছে তার জন্য অদূর ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান যে কতটা নিচে নেমে যাবে তা কল্পনার ও বাইরে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্বের কোটা ছিল ৯% আর নতুন করে কোটা যুক্ত হল ২০% তাহলে মোট কত হল? ২৯%!!

আলিফ লায়লা

 

এমনিতেই বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্বের শিক্ষা বানিজ্যের জন্য ও অন্যান্য দুর্নীতির জন্য মেধাবী শিক্ষার্থীরা অনেক পিছিয়ে পড়েছে এরপর এই নতুন কোটা ব্যাবস্থা নতুন করে যে দুয়ার খুলে দেবে না তার কোন নিশ্চয়তা নাই।যা কোনভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

''উচ্চশিক্ষা হোক বৈষম্যহীন, দেশ হোক শিক্ষার আলোয় রঙিন''
এনামুল হক, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ: "কোটা" শব্দটির সাথে পরিচয় নেই এমন ব্যক্তি খুঁজে পাওয়া যাবে না। বিশেষ করে শিক্ষিত সমাজের চাকরি নামের বাজারে খুবই পরিচিত একটি শব্দ। তবে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে চালু হওয়া এই নিয়মের বিপক্ষে সম্প্রতি অনেকবারই অবস্থান নিয়েছে সাধারণ ছাত্র সমাজ। পক্ষেও অবস্থান নিয়েছে একটা মহল, তবে সংখ্যায় খুবই নগন্য। আর সেখানে যদি এমন হয় যে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে "আঞ্চলিক কোটা" ব্যাপারটি যেন অবাক করার মত।

এনামুল হক

 

একটি দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে এমন বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা আসলেই হতাশাজনক। জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি জায়গা যেখানে শুরু হবে উচ্চ শিক্ষা, সেখানের শুরটা যদি এরকম বৈষম্য দিয়ে শুরু হয়,তবে জাতি কীভাবে পৌছাবো উন্নতির শিখরে। কবিতার ছন্দের মত কি তাহলে বলতে হবে- গাহি সাম্যের গান, তবে কোটা পদ্ধতি থাকিবে বহমান। আমরা চাই সবাই তার নিজের যোগ্যতার পরিচয়ে আসুক বিশ্ববিদ্যালয়ে।

ঢাকা, ১৬ ফেব্রুয়ারি (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।