একজন ম্যাক্রো ছবিয়ালের চোখে বিশ্ব আলোকচিত্র দিবস


Published: 2020-08-19 21:22:39 BdST, Updated: 2020-10-30 08:01:28 BdST

আজ ১৯ আগস্ট, ‘বিশ্ব আলোকচিত্র দিবস’। ২০০৯ সালে অস্ট্রেলীয় আলোকচিত্রী কোরসকে আরা পৃথিবীর সব আলোকচিত্রিদের একত্রিত করার লক্ষ্যে ‘ওয়ার্ল্ড ফটো ডে’ আয়োজন করে।

এর মাধ্যমে ১৯ আগষ্ট, ২০১০ সালে প্রথম অনলাইন গ্যালারীর আয়োজন করা হয়। এতে বিশ্বের ১০০টি দেশ থেকে ২৭০ জন আলোকচিত্রি গ্যালারী শেয়ার করেন। এই ইভেন্টেই প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ওয়ার্ল্ড ফটোগ্রাফি ডে’ হিসেবে পালিত হয়।

ম্যাক্রো ছবিয়ালের চোখে আলোকচিত্র

 

“বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বশেমুরবিপ্রবি)” ক্যাম্পাসের প্রিয় মুখ আলোকচিত্রগ্রাহক দীপ্ত পাল। এই ম্যাক্রো ফটোগ্রাফার পড়াশুনা করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগে।

তার ফটোগ্রাফিতে আসা, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, নানা প্রতিবন্ধকতা এবং ফটোগ্রাফি নিয়ে চিন্তা ভাবনা, ফটোগ্রাফির মতো শৈল্পিক আগ্রহ মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিতে ফটোগ্রাফি দিবসের মতো দিনকে কিভাবে আরো ভালোভাবে কাজে লাগানো যেতে পারে। এসব নিয়ে কথা বলেছেন ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম এর প্রতিনিধি আর এস মাহমুদ হাসানের সাথে।

ম্যাক্রো ছবিয়ালের চোখে আলোকচিত্র

 

 

ক্যাম্পাসলাইভ: করোনাকালে দিনকাল কেমন যাচ্ছে?

দীপ্ত পাল: পুরো বিশ্ব যে স্থবির হয়ে গেছে কোভিড-১৯ মহামারীর দাপটে। সংক্রমণ প্রতিরোধ করতে আমাদের দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি অফিস, খেলাধুলা, রেস্টুরেন্টসহ গণজমায়েতের সবগুলো স্থানই বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

তাই করোনার সময়টা বাসায় থেকে বাসার মানুষের সময় দিতে পারার ভেতর অন্যরকম ভালো লাগা কাজ করে এবং এ সময়ে একটা নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে গবেষণা করার সুযোগ তৈরী হয়ে যায়। দিনগুলো খারাপ যাচ্ছে না।

ম্যাক্রো ছবিয়ালের চোখে আলোকচিত্র

 

ক্যাম্পাসলাইভ: কি ধরণের ছবি তুলতে পছন্দ করেন?

দীপ্ত পাল: ফটোগ্রাফি শুরু করছিলাম মূলত বন্যপ্রাণী এবং পরিবেশের উপর ভালোবাসা এবং তাদের আকর্ষিক মুহূর্তগুলো ফ্রেমবন্দি করার জন্য। তবে গত এক বছর যাবত ম্যাক্রো নিয়েও কাজ করছি। তাছাড়া মহাকাশ নিয়েও ফটোগ্রাফির চর্চা শুরু করেছি। যেকোনো ধরণের ফটোগ্রাফিকেই পছন্দ করি।

ম্যাক্রো ছবিয়ালের চোখে আলোকচিত্র

 

ক্যাম্পাসলাইভ: কোয়ারেন্টাইনে বাড়ি থেকে কি কি ছবি তোলা হয়?

দীপ্ত পাল: কোয়ারেন্টাইন আমাদের জীবনকে সীমিত করেছে। বাইরে যাবার ইচ্ছা থাকলেও উপায় নেই। তাই বন্যপ্রাণীদের ছবি তুলতে একটু বেগ পেতে হয়। তবে সারাক্ষণ বাসায় থাকার সুবাদে ম্যাক্রো এবং মহাকাশ নিয়ে কাজ করেই যাচ্ছি। অনেক নতুন নতুন জিনিস শিখছি। ভালো লাগছে।

ম্যাক্রো ছবিয়ালের চোখে আলোকচিত্র

 

ক্যাম্পাসলাইভ: এ পর্যন্ত ফটোগ্রাফিতে প্রাপ্তি?

দীপ্ত পাল: প্রাপ্তির সংঙ্গা মানুষভেদে ভিন্ন। কিছু এওয়ার্ড, টাকা, সার্টিফিকেট এগুলো দিয়ে ফটোগ্রাফির মতো ক্রিয়েটিভ বিষয় জাজ করা যায় না। অনেকগুলো দেশি-বিদেশি প্রাপ্তি আছে কিন্তু সেগুলো আমার স্বপ্নের তুলনায় নগন্য।

তাছাড়া সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি বাবা-মা'র ভালোবাসা আর আমার ছবি যারা পছন্দ করেন তাদের সবার ভালোবাসা একটুকুই। শখের বশে শুরু করা ফটোগ্রাফিকে নিয়ে যেতে চাই অনেকদূর।

ম্যাক্রো ছবিয়ালের চোখে আলোকচিত্র

 

ক্যাম্পাসলাইভ: কোয়ারেন্টাইনে তো অনেক ছবির প্রতিযোগিতা হচ্ছে অনলাইনে, কোনো প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করছেন কি?

দীপ্ত পাল: “অনলাইন ফটোগ্রাফি কনটেস্ট” এ বিষয়ে আমি তেমন আগ্রহী না। এটার ফলাফল নির্ধারণ করা হয় দর্শকের লাইক, কমেন্ট, শেয়ার উপর ভিত্তি করে। আর লাইক, কমেন্ট, শেয়ার পেতে হলে আপনাকে অবশ্যই দর্শকের দ্বারে দ্বারে যেতে হবে আপনার প্রিয় ছবিটি নিয়ে। তাই বিষয়টা আমার কেমন যেনো টানে না। ছবিগুলোর সুষ্ঠু নিবার্চন প্রক্রিয়া থাকা দরকার। তবেই ক্রিয়েটিভিটি বাড়বে।

ম্যাক্রো ছবিয়ালের চোখে আলোকচিত্র

 

ক্যাম্পাসলাইভ: আগামীতে ফটোগ্রাফি নিয়ে ভাবনা কি?

দীপ্ত পাল: ফটোগ্রাফি নিয়ে দেশের বাইরে কাজ করার ইচ্ছা আছে। সবচেয়ে বড় ইচ্ছা আমার ছবি দিয়ে আমি নিজের দেশকে বাইরের বিশ্বে পরিচিত করে দিবো। ফটোগ্রাফির উপর পড়াশুনা করার ইচ্ছা আছে। কয়েকটা বিদেশি সংস্থার হয়ে কাজ করারও খুব বেশি ইচ্ছা আছে। জানি না হবে কিনা।

যদিও বাংলাদেশে এর পরিব্যাপ্তি অনেক নগন্য। তবে রিসেন্ট সময়ে অনেক সংস্থা বাংলাদেশের ফটোগ্রাফি নিয়ে কাজ করছে। সেসব জায়গায় সুযোগ হলে অবশ্যই করবো। ফটোগ্রাফি দিয়ে অনেক ভালোবাসা, সম্নান, আগ্রহ, আলোচনা-সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়েছে। এগুলো খুব ভালো লাগে।

ক্যাম্পাসলাইভ: ফটোগ্রাফির মতো শৈল্পিক আগ্রহ মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিতে ফটোগ্রাফি দিবসের মতো দিনকে কিভাবে আরো ভালোভাবে কাজে লাগানো যেতে পারে?

দীপ্ত পাল: ফটোগ্রাফি একটা ভালোবাসার নাম, ভালোবাসার কাজ। ফটোগ্রাফিকে আঁকড়ে ধরে জীবন পার করে দিতে চাই। ফটোগ্রাফির শুরু থেকে আজ অব্দি অনেক কলাকৌশলী, ফটোগ্রাফার তাদের ভালোবাসার পেছনে নিরলসভাবে পরিশ্রম করে গেছেন, প্রথমেই তাদের জন্য শুভকামণা এবং শ্রদ্ধা। এই শ্রদ্ধা জানানোর জন্যই আজ এই দিনটি পালন করা হয়। ১৭০টিরও বেশি দেশে দিবসটি পালিত হয়।

ম্যাক্রো ছবিয়ালের চোখে আলোকচিত্র

 

বাংলাদেশেও দিবসটি সম্মানের সাথে পালন করা হয়। মূলত আলোকচিত্র বা ফটোগ্রাফি বলতে কোন আলোকসংবেদী তলের উপর আলো ফেলার মাধ্যমে তৈরি ছবিকে বোঝায়। আলোকসংবেদী তলটি ফটোগ্রাফিক ফিল্ম হতে পারে আবার সিসিডি বা সিমস চিপের মত কোন ইলেকট্রনিক ছবি নির্মাণকারীও হতে পারে। সাধারণত ক্যামেরা দিয়ে আলোকচিত্র নেয়া হয়। এখানে ক্যামেরার লেন্স বড় ভূমিকা পালন করে। এই আলোকচিত্র নেয়ার বা তোলার পদ্ধতিকে ফটোগ্রাফি বলে। একে আলোকচিত্র শিল্পও বলা যায়।

আধুনিক যুগে বাংলাদেশে আলোকচিত্রের ধরণটাই অনেকখানি বদলে গেছে। এখন অনেক নাম করা ফটোগ্রাফার বাংলাদেশে আছেন। ফটোগ্রাফি শুধু এখন আর শখই নয়, অনেকে এটাকে পেশা হিসেবে নিচ্ছেন। আলোকচিত্রের গুণগত মানও বেড়েছে অনেক।

তাছাড়া অনেক ধরণের ক্যামেরা বাজারে পাওয়া যায়। ডিএসএলআর, ডিজিটাল ক্যামেরা, তাছাড়া মুঠোফোনেও এখনও অনেকে ছবি তোলে।সময়ের আবর্তনে হারিয়ে যায় অনেককিছু।

ম্যাক্রো ছবিয়ালের চোখে আলোকচিত্র

 

যুগে যুগে অনেক কিছু পরিবর্তন হয়েছে, হচ্ছে। যখন ক্যামেরা তৈরি হয়নি এমনি কি কাগজও তখনও মানুষ মাটি, পাথর বা কাঠে খোদাই করে বিভিন্নভাবে ছবি এঁকে নানা দৃশ্য ধরে রাখত। আর এখন বিজ্ঞানের অবদান ক্যামেরা।

শুধুমাত্র সাটার টিপে দিলেই ক্লিক ক্লিক ফ্রেমে বন্দী হয় অসংখ্য ছবি। আলোকচিত্র একটি সৃজনশীল কাজ। এই শিল্পকে আরও প্রতিষ্ঠিত করতে দেশের বিভিন্ন জায়গায় তৈরি হয়েছে ফটোগ্রাফিক সোসাইটি। তাছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও ফটোগ্রাফি অনেক প্রাধান্য পায়। এই আলোকচিত্র নিয়ে হয় অনেক প্রতিযোগিতা।

ক্যাম্পাসলাইভ: অন্যান্য ফটোগ্রাফারদের জন্য উপদেশ বা যারা নতুন ফটোগ্রাফিতে আসতে চাই তাদের উদ্দেশ্যে কিছু বলতে চান কিনা?

দীপ্ত পাল: আগে বলি যারা নতুন ফটোগ্রাফিতে আসতে চায় তাদের উদ্দেশ্যে, আমি সবসময়ই নতুনদের উদ্দেশ্যে বলি একটা ক্যামেরা সেটাপের অনেক দাম, যে শখটা পূরণ করা বাংলাদেশের বেশিরভাগ পরিবারের কাছে দুর্সাধ্য। তাই যারা নতুন কিনতে আগ্রহি তারা যেনো পরিবারের উপর অনেক বেশি চাপ না দেয়। বাবা মাকে এবিষয়ে কষ্ট না দেয়। যদি তারা ভালোবসে আপনাকে গিফ্ট করে তবে সেটার মতো আনন্দের কিছু নেই।

এবার যারা অলরেডি শুরু করেছেন তাদের উদ্দেশ্যে, আপনাকে একটা বিষয়ে পারদর্শী হতে হলে অবশ্যই সে বিষয়ের সকল খুটিনাটি রপ্ত করতে হবে। ক্যামেরার প্রতিটি বাটনের কাজ না পারলে আপনি ভালো ফটোগ্রাফার হতে পারবেন না।

তাই আগে নিজের ক্যামেরা সম্পর্কে জানতে হবে,শিখতে হবে। প্রথম এক বছর অনেক ভুল হবে, তারপরও থেমে যাওয়া চলবে না। আমি অনেককে দেখেছি, অনেক টাকা দিয়ে ক্যামেরা কিনে মাঝপথে থেমে যেতে।

এগুলো খুব কষ্ট দেয়। দরকার হলে ক্যাম্পাসের ফটোগ্রাফিক সোসাইটির সাথে যুক্ত হোন, নিজে ঘাটুন, বড়দের সাহায্য নিন, অনলাইন থেকে শিখুন। তারপরও শখ এবং স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে যান।

ঢাকা, ১৯ আগস্ট (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।