‘বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা বিশ্ববিদ্যালয় হবে বিশ্বমানের বিদ্যাপীঠ’


Published: 2019-05-07 12:36:40 BdST, Updated: 2019-12-09 06:26:53 BdST

প্রফেসর ড. সৈয়দ সামসুদ্দিন আহমেদ; রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের প্রফেসর। বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন জামালপুরে সদ্যপ্রতিষ্ঠিত বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেফমুবিপ্রবি) ভিসি হিসেবে। ওই শিক্ষাবিদ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর করেছেন। এরপর যোগ দেন শিক্ষকতা পেশায়। পরবর্তীতে তিনি ভারতের যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করেন। তার বিভিন্ন গবেষণামূলক প্রবন্ধ ও নিবন্ধ দেশ-বিদেশের জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা সংক্রান্ত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানেও গবেষক হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। রাবির ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান ড. সামসুদ্দিন আহমেদ বিশ্ববিদ্যালয়টির সিনেট ও সিন্ডিকেট সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ছিলেন রাবি প্রেসের প্রশাসক। বঙ্গবন্ধু পরিষদ রাবি শাখার সভাপতি ড. সামসুদ্দিন দায়িত্ব পালন করেন বড়পুকুরিয়া কয়লা কোম্পানি লিমিটেডের পরিচালক হিসেবেও। এখনো দেশে-বিদেশে বিভিন্ন সৃজনশীল কাজের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন তিনি। প্রথম ভিসি হিসেবে শূন্য থেকে শুরু করেছেন বঙ্গমাতার নামে জামালপুরের মেলান্দহে প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কাজ। নতুন বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠা, অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনাসহ সার্বিক শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে কথা বলেন ড. সামসুদ্দিন আহমেদ। তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মাহবুব আলম

নতুন বিশ্ববিদ্যালয়, প্রতিষ্ঠাতা ভিসি আপনি। বিশ্ববিদ্যালয়টিকে সাজানোর ক্ষেত্রে আপনার পরিকল্পনা কী?

ড. সামসুদ্দিন আহমেদ : নতুন বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রথমেই আমাকে অনেকগুলো বিশ্ববিদ্যালয়কে দৃষ্টান্ত হিসেবে গ্রহণ করতে হবে এবং আমি করেছি। এছাড়া আমাদের দেশের নিজস্ব সংস্কৃতি এবং যে অঞ্চলে বিশ্ববিদ্যালয়টি স্থাপিত হচ্ছে সেখানকার ঐতিহ্য-সংস্কৃতির সঙ্গে সংগতি রেখেই বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির পাশাপাশি ভবিষ্যতে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় এখানকার ছেলে-মেয়েরা যেন উপযোগী হয় সেভাবেই পরিকল্পনা নিচ্ছি। যুগোপযোগী বিষয়ে শিক্ষাদানের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মননশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয় পরিবেশ সৃষ্টি করা হবে। যেখানে বিভাগ থাকবে রিসার্চ সেন্টার, ইনস্টিটিউট এবং শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের ক্ষেত্রে যা যা করণীয় সবই।

এরই মধ্যে ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের ক্লাস শুরু হয়েছে। অন্যান্য ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমন অগ্রগতি হয়েছে?

ড. সামসুদ্দিন আহমেদ : ২০১৮ সালের নভেম্বরের মাঝামাঝি আমি এখানে যোগ দেই। এরপর থেকেই আমাদের কার্যক্রম শুরু হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে ভর্তির উদ্যোগ নিই। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে তখন এ কার্যক্রম শেষের পথে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি), কমিশন চেয়ারম্যান, কমিশনের সদস্য প্রফেসর শাহনেওয়াজ আলী, স্থানীয় সংসদ সদস্য মির্জা আজমসহ সংশ্লিষ্ট সবাই আমাদের সহযোগিতা করেছেন এবং এখনো করে যাচ্ছেন। জামালপুর শহরের বঙ্গবন্ধু আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি ভবন ভাড়া নিই। ইউজিসি প্রতিনিধি দল অস্থায়ী ক্যাম্পাস সরেজমিনে ঘুরে শিক্ষা কার্যক্রম চালাতে অনুমোদন দেন। এবার আমাদের চারটি অনুষদের অধীনে চারটি বিষয় খোলার অনুমোদন দেওয়া হয়। এরপরই আমরা ভর্তি বিজ্ঞপ্তি দেই পত্র-পত্রিকায়। কোটাসহ প্রথমবার ১৩৬ জন শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়েছে। এবার ভর্তি পরীক্ষা হয়েছে ত্রিশালের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে, সাক্ষাৎকারও নেওয়া হয় সেখানেই। এক্ষেত্রে পুরোপুরি সহযোগিতা পাই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইটি সেলের। কয়েকজন শিক্ষকও আমাদের সহযোগিতা করেন। এরপর ৩১ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের ক্লাস শুরু হয়। আর ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম করেছি ১৮ এপ্রিল।

চালু হওয়া বিষয়গুলে কী কী? আগামী শিক্ষাবর্ষে কী কী বিষয় চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে?

ড. সামসুদ্দিন আহমেদ : প্রথম বছরে বিজ্ঞান অনুষদের অধীনে গণিত, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের অধীনে ব্যবস্থাপনা, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের অধীনে সমাজকর্ম এবং প্রকৌশল অনুষদের অধীনে কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল চালু হয়েছে। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের যে অর্গানোগ্রাম তৈরি করেছি সেখানে নয়টা অনুষদ চাইবো। ক্রমান্বয়ে এসব অনুষদের আওতায় বিভাগগুলো চালু করা হবে। এর মধ্যে প্রকৌশল অনুষদ, কৃষি অনুষদ, বিজ্ঞান অনুষদ, আর্থ সায়েন্স অনুষদ, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ, বিবিএ অনুষদ, কলা অনুষদ, আইন অনুষদ উল্লেখযোগ্য। তবে আগামী শিক্ষাবর্ষে ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং, পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মিনারেল রিসোর্স ইঞ্জিনিয়ারিং, বায়ো মেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ওয়াটার রিসোর্স ইঞ্জিনিয়ারিং চালু করার চিন্তা রয়েছে। এর মধ্যে যে এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়টি স্থাপিত হচ্ছে সেখানে ওয়াটার রিসোর্স বেশ গুরুত্বপূর্ণ। আমরা বিশেষজ্ঞদের দিয়ে কমিটি করবো। তারা ফিজিবেলিটি স্টাডি করে দেখবেন বিষয়টি। কেননা এসব বিষয় চালুর জন্য ভালো ল্যাব লাগবে, টিচার লাগবে। এছাড়া ম্যাটেরিয়াল সায়েন্স, ইনফরমেশন অ্যান্ড টেকনোলজি, ইনস্ট্রুমেন্টেশন অ্যান্ড কন্ট্রোল ইঞ্জিনিয়ারিং ছাড়াও যুগোপযোগী বিষয় চালু করা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে গবেষণা প্রত্যয়টি বেশ প্রাসঙ্গিক। গবেষণার জন্য আপনার কোন ধরনের উদ্যোগ থাকবে?

ড. সামসুদ্দিন আহমেদ : গবেষণার গুরুত্ব অবশ্যই থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজই নতুন নতুন জ্ঞান সৃষ্টি করা। যদিও আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো টিচিং-বেজড। তবে আমরা বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি গবেষণানির্ভর উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। তবে আমাদের টিচিং-বেজড ইউনিভার্সিটিগুলোতে যে বাজেট দেওয়া হয়, সেখানে গবেষণার অর্থ সীমিত। বড় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও তাই। তবে আমরা নতুন হিসেবে এখানে সামান্য বাজেট রেখেছি। পূর্ণাঙ্গ ক্যাম্পাসে ফেরার পর অবশ্যই গবেষণার ওপর জোর দেওয়া হবে। শিক্ষকদেরও সেভাবে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তাদের বলেছি-তারা যেনো বর্হিবিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ায়। নিজস্ব ফান্ড ছাড়াও বাইরের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে গবেষণায় ফান্ড আনার চেষ্টা থাকবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্রন্থাগার একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। গ্রন্থাগারকে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উপযোগী করে গড়ে তুলতে কী ধরনের পরিকল্পনা থাকবে?

ড. সামসুদ্দিন আহমেদ: গ্রন্থাগারের বিষয়ে আমরা শুরু থেকেই জোর দিচ্ছি। ক্লাস শুরুর আগেই প্রত্যেকটি বিষয়ের প্রয়োজনীয় বই কিনে আলাদা একটি কক্ষে লাইব্রেরি করে দিয়েছি। একজন কর্মকর্তাকে এরই মধ্যে দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে। ক্রমান্বয়ে এটিতে ডিজিটাল ও আধুনিক সব সুবিধা যুক্ত করা হবে। আর লাইব্রেরি একটা বিশাল পার্ট। বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই লাইব্রেরির প্রতি ওইভাবে আকৃষ্ট নয়। তারা ডাউনলোড করে কিংবা অনলাইনে পড়াশোনা করছে। লাইব্রেরিতে যাওয়ার অভ্যাস নেই বললেই চলে। তবে আমি আমার অভিজ্ঞতাগুলোকে কাজে লাগিয়ে শিক্ষার্থীদের কীভাবে লাইব্রেরিমুখী করা যায় সেভাবে পদক্ষেপ নেবো। এরজন্য যা যা করণীয় সবই করবো। পূর্ণাঙ্গ ক্যাম্পাসে গেলে যুগোপযোগী লাইব্রেরি করা হবে। সেখানে আলাদা আলাদা কর্নার থাকবে।

প্রতিষ্ঠাতা ভিসি হিসেবে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তা এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি আপনার কী ধরনের প্রত্যাশা থাকবে?

ড. সামসুদ্দিন আহমেদ : শিক্ষার্থীদের বলেছি, তোমরা একটা ইতিহাসের অংশ। ক্যাম্পাস নেই, অবকাঠামো নেই- এনিয়ে এখন কোনো হীনমন্যতায় ভুগবে না। এখন হয়তো তোমাদের ক্যাম্পাস নেই। একদিন তোমাদের সবই হবে, যা বিশ্বমানের এবং অন্যদের থেকেও ভালো। আমি তাদের বলেছি- তারা যেন আত্মবিশ্বাস নিয়ে ধ্যানীর মতো লেখাপড়াটা করে। কারণ আত্মবিশ্বাস ও আন্তরিকতা নিয়ে পড়লে কেউ-ই ব্যর্থ হয় না। সবার স্বপ্নই পূরণ হয়। শিক্ষক-কর্মকর্তাদের কাছেও আমি আন্তরিকতা, সততা ও একাগ্রতা আশা করি। তারা সব দিক দিয়ে পরিশ্রম করে কাজটা করে যাচ্ছেন।

কারিকুলাম, পাঠ্যক্রম ও সিলেবাস প্রণয়নে কোন কোন দিক প্রাধান্য পাবে?

ড. সামসুদ্দিন আহমেদ : এরই মধ্যে রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ শিক্ষকদের নিয়ে সিলেবাস প্রণয়ন করেছি। প্রথমেই হয়তো সবকিছু করতে পারবো না। প্রতি বিষয়ের জন্য দু’জন করে এক্সপার্ট নিয়ে সিলেবাস করেছি। তবে আমরা চেষ্টা করবো যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ছেলে-মেয়েদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে।

মেলান্দহ উপজেলার মালঞ্চ গ্রামে শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ফিশারিজ কলেজ নামে একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। বলা হচ্ছিল ওই কলেজটিকেই বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করা হবে-যা স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবিও। কিন্তু বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০১৮ এ ওই বিষয়ে কিছু বলা হয়নি। এ নিয়ে যদি বলেন?

ড. সামসুদ্দিন আহমেদ : বঙ্গমাতা ফিশারিজ কলেজ ১৮ বছরের পুরানো একটা প্রাইভেট কলেজ, যা বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতাভুক্ত। ভিসি হিসেবে যোগ দেয়ার পর এই কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর একটা নির্দেশনা পাই। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত বঙ্গমাতা বিশ্ববিদ্যালয় আইনে কোথায়ও এই কলেজের কথা উল্লেখ নেই। ফলে প্রথমে আমরা এটি নিয়ে কিছু করতে পারিনি। কারণ এর আইনগত কোনো ভিত্তিও নেই। তবে ফিশারিজ কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় না হওয়ায় এলাকার মানুষজনের মধ্যে ক্ষোভও ছিল। তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী ও বর্তমান এমপি মির্জা আজমসহ নেতৃস্থানীয় যারা আছেন তারাও একটু হতাশ হয়েছেন- কেন এটাকে অ্যাড করা হলো না। আইনটা করার সময় এটাকে (কলেজ) এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। সবাই খেয়াল করলে এর একটা ব্যবস্থা হয়ে যেতো। দায়িত্ব নেওয়ার পরে আমি মন্ত্রণালয় ও ইউজিসিতে এ বিষয়ে কথাবার্তা বলি। মির্জা আজমও চেষ্টা করেন। সবার চেষ্টায় আমরা সাকসেসফুল হই। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ইউজিসিকে একটা চিঠি দেয়, যেখানে এই কলেজকে কিভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে আত্তীকরণ করা যায় সে বিষয়ে নির্দেশনা রয়েছে। এক্ষেত্রে কলেজের সব স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি, কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষকদের আত্তীকরণ নিয়ে ইউজিসির সঙ্গেও আমাদের সভা হয়। এটা একটা পদ্ধতির মধ্য দিয়েই করতে হবে। তাই এ বিষয়ে কী ধরনের গাইড লাইন রয়েছে, তা দেখা হচ্ছে। রাজশাহী চারুকলা কলেজ ও রাজশাহী কৃষি কলেজকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আত্তীকরণ করে চারুকলা অনুষদ ও কৃষি অনুষদ করা হয়। কলেজ দু’টো ছিলো বেসরকারি। উদাহরণ হিসেবে আমরা কলেজ দুটোর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়েছি। এখন আমরা মন্ত্রণালয়-ইউজিসির নির্দেশনার অপেক্ষায় আছি। এরই মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশের পর ফিশারিজ কলেজ কর্তৃপক্ষ বোর্ড মিটিং করে তাদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে লিখে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শিগগির এসবের রেজিস্ট্রি হবে।

এক্ষেত্রে আপনারা একটা ক্যাম্পাস পাচ্ছেন; যেখানে প্রাথমিকভাবে কাজ চালানো সহজ হবে। এ বিষয়ে আপনার ভাবনা কী?

ড. সামসুদ্দিন আহমেদ : আত্তীকরণ হলে আমরা ছোট একটা ক্যাম্পাস পাবো। ছেলে ও মেয়েদের আলাদা ছোট ছোট হল আছে। একাডেমিক ভবন আছে, প্রশাসনিক ভবন আছে। কলেজের ৩০ একর জমির কথা বলা হচ্ছে, এর মধ্যে ১৭ একর কলেজের নামে আছে। বাকিটাও হয়তো পাবো, তবে পেমেন্টের মাধ্যমে। এই ক্যাম্পাসের পাশেই বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাস হবে ৫০০ একর জমিতে। ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠায় এই পরিমাণ জমি অধিগ্রহণের জন্য আমরা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক অনুমোদন পেয়েছি। স্থানীয় জেলা প্রশাসককেও এ বিষয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তারাই পরবর্তী পদক্ষেপ নেবেন। আমরা ৫০০ একর জমি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটা মাস্টারপ্ল্যান করছি। এরপর প্রকল্পের ডিপিপি করে জুনের মধ্যে সাবমিট করবো। মন্ত্রণালয় হয়ে সেটি একনেকে যাবে। এরপরই বিশাল অবকাঠামো নির্মাণের কাজ শুরু হবে।

ফিশারিজ কলেজের শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারী এবং শিক্ষার্থীদের বিষয়ে আত্তীকরণের প্রক্রিয়া কেমন হবে?

ড. সামসুদ্দিন আহমেদ : বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর যদি সেই ক্রাইটেরিয়া না থাকে সেক্ষেত্রে ইউজিসি সিদ্ধান্ত দেবে। এ বিষয়ে একটি কমিটি হবে। ত্রি-পক্ষীয় (বশেফমুপ্রবি-ইউজিসি-বাকৃবি) চুক্তির ভিত্তিতে বিষয়টির সুরাহা হবে। শেষ কথা আত্তীকরণ মানে পুরোটাই করতে হবে। এটা কমিটি বিষয়গুলো নির্ধারণ করবে।

 

ঢাকা, ০৭ মে (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//আরএইচ

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।