বিশ্ববিদ্যালয়ে ডানা মেলছে ‘গানের পাখি’ (ভিডিও)


Published: 2018-06-29 10:28:44 BdST, Updated: 2018-11-16 11:56:06 BdST

মুনিরা জান্নাত : বাবা সংগীতের শিক্ষক। তাই ছোটবেলা থেকেই নামকরা সংগীত শিল্পী হওয়ার স্বপ্ন দেখেছেন তিনি। নতুনকুঁড়ি থেকে শুরু করে স্কুল-কলেজের সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় নজড় কেড়েছেন সবার। বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে সাবিনা ইয়াসমিনের তকমাও লেগেছে। সেটাও মিস্টি সুরের গুনেই। বন্ধু-বান্ধবরা তাকে ওই নামেই ডাকেন। বলতে গেলে স্বপ্নডানা মেলে ধরার অপেক্ষায় নিজেকে প্রস্তুত করছেন তিনি। বলছি সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী নন্দিতা দিশার কথা। আন্ত:বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় সেরাদের সেরা হয়েছেন ওই ছাত্রী। এতকিছুর মাঝেও পড়াশোনায় পিছিয়ে নেই নন্দিতা। এসএসসি ও এইচএসসিতে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়েও তার মেধার স্ফুরণ ঘটিয়ে যাচ্ছেন। আড্ডা, ঘোরাঘুরি আর হৈ-চৈয়ের পাশাপাশি অনুষদীয় প্রোগ্রামসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সারা বছর মাতিয়ে রাখেন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। অলরাউন্ডার ওই ছাত্রীকে নিয়েই আমাদের আজকের আয়োজন।

বন্ধুদের সঙ্গে গানের পাখি নন্দিতা দিশা

আন্ত:বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচজন কৃতি শিল্পী ৬ টি পুরস্কার জয় করেছেন। এর মধ্যে নজরুল সংগীতে ২য় ও ভক্তিমূলক সংগীতে ৩য় হয়েছেন নন্দিতা দিশা।

ছোটবেলায় স্বপ্ন ছিল প্রতিষ্ঠিত সংগীত শিল্পী হওয়ার। মানে চর্চাটা ছোটবেলা থেকেই হয়েছে। এখন সবার আগে মানুষের মত মানুষ হতে চান তিনি। পড়াশোনাটাকে প্রাধান্য দিয়ে পাশাপাশি সমানভাবে গানের চর্চা চালিয়ে যেতে চান। বাবা সংগীত শিক্ষক হওয়ায় ছোটবেলা থেকেই গানের চর্চা হয়েছে। ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশোনা করার শখ ছিল। ঢাকায় পড়াশোনা করার স্বপ্নও ছিল। চান্স না পাওয়ায় আক্ষেপ থাকলেও এখন সেটা অনুভব করেন না তিনি। ২০০৪ সালে নতুনকুঁড়িতে জাতীয় পর্যায়ে নজরুলে প্রথম স্থান অধিকার করেন তিনি। জাতীয় শিশু পুরষ্কার প্রতিযোগিতায় লোকসংগীতে ৩য়, রবীন্দ্রে ২য়। জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহ দেশের গানে ৩য়, জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মেলন সঙ্গীত বিভাগে ১৪১৩ বঙ্গাব্দে ১ম স্থান এবং ১৪১৫ বঙ্গাব্দে ২য় স্থান অর্জন করেন। ২০১৫ সালের মিস্টার অ্যান্ড মিস সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে গান বিভাগেও সেরা হয়েছিলেন নন্দিতা।

হবিগঞ্জে কেটেছে স্কুল ও কলেজলাইফ। সেসময়ের স্মৃতির কথা বলতেই নস্টালজিয়ায় পড়ে যান নন্দিতা। জানালেন, ‘দেশবরেণ্য ব্যক্তিত্ব ওয়াহিদুল হক এসেছিলেন হবিগঞ্জে, জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মেলন পরিষদের কর্মশালায়। তখন আমি প্রাইমারিতেও ভর্তি হইনি। খুব ছোট। উনি আমার কথাবার্তা গান শুনে বিশ্বাসই করেননি আমি এখানকার। ভেবেছিলেন কলকাতার। আমাকে খুব আদর করতেন। পরের বছর ওই পরিষদের প্রতিযোগীতায়ই যখন ঢাকায় গেলাম, তখন ওয়াহিদ দাদু শ্রদ্ধেয় মিতা হককে ডেকে বললেন, দেখে যা, হবিগঞ্জ থেকে একটা কক্টেল এসেছে। ওয়াহিদুল দাদু আমাদের মাঝে এখন নেই। উনাকে মিস করি
সাথে সেই দিনগুলোও’

নন্দিতা স্কুল ও কলেজ লাইফের মত বিশ্ববিদ্যালয় লাইফও এনজয় করছেন বেশ। যদিও পড়াশোনা আর প্রাক্টিক্যালের চাপ একটু বেশি, যার জন্য গানের চর্চাটা তেমন হয়ে ওঠে না তার। তবুও স্বপ্নডানা মেলে ধরছেন তিনি।

উল্লেখ্য, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে প্রথমবার স্টেজে উঠার পর নন্দিতার নাম রটে যায় সাবিনা ইয়াসমিন হিসেবে। আড্ডা, মাস্তি, হৈ-হুল্লোড়, ঘুরে বেড়ানো, রান্নাবান্না সংগঠন বেশ ভালোই সময় কেটে যাচ্ছে নন্দিতার। কৃষ্ণচূড়া সাংস্কৃতিক সংঘ, metronome musical club, একুশ ও Sylhet agriculture University Debating Society (SAUDS) এর সঙ্গে জড়িত রয়েছেন তিনি।

বন্ধুদের আড্ডায় মধ্যমনি নন্দিতা দিশা

তবে এতকিছুর মাঝেও ঠিকঠাক পড়াশোনাও চালিয়ে যাচ্ছেন নন্দিতা। আগে থেকেই প্ল্যান করে পড়াশোনা গুছিয়ে রাখেন তিনি। ব্যস্ততা বেশি থাকলে আগের রাতের পড়াশোনা করেই পরীক্ষা দেন। মূলত সব ধরনের গান করলেও নজরুল ও উচ্চাঙ্গ সংগীত বেশি পছন্দ নন্দিতার। এসএসসি ও এইচএসসিতে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়ে ভর্তি হন সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে। এখানেও মেধার স্ফুরণ ঘটিয়েছেন তিনি। তার এ পর্যন্ত সিজিপিএ ৩.৬৮। ভবিষ্যতে বিসিএস ক্যাডার হয়ে দেশসেবা করার ইচ্ছা রয়েছে তার।

নন্দিতা জানালেন, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় যেন মুক্তমঞ্চ। এখানে এসে নিজের অনেক জড়তা কাটিয়ে উঠতে পেরেছেন তিনি। শিক্ষকদের পাশাপাশি বন্ধুবান্ধব সবসময় উৎসাহ দিয়ে এসেছেন। আশপাশ থেকে বাধা বিপত্তি বা ডিস্কারেজমেন্ট আসলেও নিজের মনোবল আর বন্ধু বান্ধবীদের সাপোর্টে অনেকটা বাধা কাটিয়ে উঠতে পেরেছেন তিনি। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংস্কৃতিক চর্চার ক্ষেত্রে কোন প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হননি তিনি।

নন্দিতা জানান, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ট্যাকনিক্যাল ভার্সিটি হওয়া সত্ত্বেও এখানে নিয়মিত সাংস্কৃতিক চর্চা হয়। অনুষদীয় প্রোগ্রামসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সারা বছর তারা মাতিয়ে রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়। ছোটবেলা থেকে তার নাচের খুব শখ ছিল। এই ক্যাম্পাসে এসে তার সেই শখও পূরণ হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের প্রিয়মুখ নন্দিতা জানালেন, সফল হতে হলে নিজের লক্ষ্য ঠিক রেখে সে অনুযায়ী স্থিরতা নিয়ে ধৈর্য্যসহকারে কাজ করে যেতে হবে। একাগ্রতা থাকলে স্বপ্ন পূরণ হতে বাধ্য। বিশ্ববিদ্যালয় নিজের প্রতিভা তথা নিজের সত্তা মেলে ধরার জায়গা। তাই নিজেকে কোন গণ্ডিতে আবদ্ধ না রেখে প্রকাশ বা শেখার উদ্দেশ্যে বেরিয়ে আসতে হবে গণ্ডির ভেতর থেকে এমনটাই পরামর্শ নন্দিতার।

গানের ভিডিও :

হিন্দি গানেও কম যান না নন্দিতা :

ঢাকা, ২৯ জুন (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//সিএস

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।