'সেলফ মেইড ম্যান'


Published: 2018-01-16 22:47:10 BdST, Updated: 2018-08-16 11:52:56 BdST

শওকত মাহমুদ। একটি নাম একটি প্রতিভা। সাংবাদিক জগতের মধ্যমণি। আধুনিক সাংবাদিকার প্রাণপুরুষ। তুখোড় নেতৃত্ব ও ব্যক্তিত্বের অধিকারী। হালে আলোচিত। সরকারের কাছে সমালোচিতও বটে। তবে ওই সমালোচনার সঙ্গে তার কোন মিল নেই। অনেক মামলা ও হুমকি-ধমকিতেও তিনি হাল ছাড়েননি।

তার নীতি আদর্শ ধরে রেখেছেন। থেকেছেন অটল ও অনড়। সরকারী বাঁধা বিপত্তিকে তিনি আমলে নেননি। সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় তাকে সাহস যুগিয়েছে। তিনি সাংবাদিক নেতৃত্বের ব্যাপারে লোকজ সৃস্টি শত সমস্যা কাটিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন বলে দাবী করেছেন। বলেছেন, আমার নিষ্টা, সততা ও সুন্দর মানসিকতা আমাকে সামনে বাড়াবার সাহস ও হিম্মত যুগিয়েছে। একান্ত আলাপচারিতায় তিনি ক্যাম্পাসলাইভকে এসব কথা বলেছেন। প্রতিবেদন তৈরী করেছেন আমাদের লাইভ প্রতিবেদক শাহাদাত হোসেন ফাহিম। 

 

এবারের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিনেট রেজিস্টার্ড গ্রাজুয়েটস প্রতিনিধি নির্বাচনে সেই শওকত মাহমুদ প্রার্থী হয়েছেন। তিনি জাতীয়তাবাদী পরিষদের প্যানেল থেকে নির্বাচন করছেন। জানাগেছে তার পক্ষে ব্যাপক জোয়ার উঠেছে। তার প্যানেল নির্বাচিত হলে বিভিন্ন পজেটিভ এজেন্ডা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন ।

‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিনেট ২৫জন রেজিস্টার্ড গ্রাজুয়েটস’ প্রতিনিধি নির্বাচন-২০১৭ আগামী ২০ জানুয়ারি-২০১৮ অনুষ্ঠিত হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিনেটে ২৫ জন রেজিস্টার্ড গ্রাজুয়েটস প্রতিনিধি নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী পরিষদের প্রার্থীরা হলেন, ড. আ ফ ম ইউসুফ হায়দার, ড. উম্মে কুলসুম রওজাতুল রোম্মান, শওকত মাহমুদ, এ কে এম ফজলুল হক মিলন, এ টি এম আবদুল বারী ড্যানী, এ বি এম ফজলুর করিম, এ বি এম মোশাররফ হোসেন, ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, কে এম আমিরুজ্জামান শিমুল, ড. চৌধুরী মাহমুদ হাসান।

ড. জিন্নাতুন নেছা তাহমিদা বেগম, অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার, ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, ড. মোহাম্মদ আবদুর রব, ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী, ডা. মোহাম্মদ রফিকুল কবির লাবু, মো. আশরাফুল হক, অ্যাডভোকেট মো. মাসুদ আহমেদ তালুকদার, ডা. মো. মোয়াজ্জেম হোসেন, ড. মো. শরীফুল ইসলাম দুলু, মো. সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়া, মো. সেলিমুজ্জামান মোল্যা সেলিম, ড. সদরুল আমিন।

শওকত মাহমুদ তৃণমূল থেকে উঠে আসা একজন সফল মানুষ। ছোটবেলা থেকেই ছিলেন যথেষ্ট বুদ্ধিমান। মেধাবী ও দূরন্ত প্রকৃতির। সেই সঙ্গে ছিলেন বৈষয়িক ও নৈতিক ভাবনার অধিকারী। পড়া শুনার প্রতি ছিলেন অদম্য উৎসাহী। চলার পথে নানা-ঘাত-প্রতিঘাত ও বিপত্তি এলেও, তাঁর পথচলাকে রুদ্ধ করতে পারেনি বলে তিনি জানিয়েছেন। জীবন সংগ্রাম তাঁকে শিক্ষা দিয়েছে সামনে এগোবার। মেধাবী, নান্দনিক ও উন্নত মন-মানসিকতার মুর্তপ্রতিক। তিনি গড়ে উঠেছেন জীবন শিক্ষায় সশিক্ষিত হয়ে। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় তিনি সর্ব্বোচ্চ ডিগ্রীধারী।

স্কুলের চার দেয়ালে সীমাবদ্ধ না থেকে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় মাড়িয়ে সাংবাদিকতার ব্যাপারে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন ও নিয়েছেন দেশ-বিদেশে। তবে পথের বাধা সরাতে গিয়ে পদে পদে তিনি সমস্যায় পড়েন। কিন্ত থেমে থাকেননি। এমন দাবীও তার। তার বর্ণাঢ্য জীবন তুলনাহীন। পরিশ্রম ও সংগ্রাম তাকে সফলতা দিয়েছে। কুমিল্লা থেকে আসা শওকত মাহমুদ নিজ গুনে সুপ্রতিষ্ঠিত। কঠিন পরিশ্রম অার সততা তাকে আজকের এ পর্যায়ে পৌঁছে দিয়েছে।

সময়ের ব্যবধানে আজ তিনি স্বনামে প্রতিষ্ঠিত। একজন সফল সংগঠক। সংবাদপত্র ও সাংবাদিকার প্রবাদপুরুষ। সাংবাদিকতার ব্রান্ডিং করছেন দেশ-বিদেশে। সাংবাদিকদের পেশাগত সংগঠনের নেতৃত্ব দিয়েছেন বার বার। সাংবাদিকদের নেতৃত্বের ব্যাপারে এমন নেতা আর নেই।

সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে সফলতা জয় করছেন শওকত মাহমুদ। তাঁর আজকের যা কিছু অর্জন, তা বিশেষ কোন সুযোগে সৃষ্টি হয়নি। কিংবা পৈতৃক সম্পদের উওরাধিকার নয় এসব। তাঁর যা কিছু- তা সবই তাঁর নিজ ঘামে- শ্রমের অর্জন। সেই কারণে তাঁকে ‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‍‍‍‍'সেলফ মেইড ম্যান' ও বেস্ট অরগেনাইজার বলা হয়।

বললে মোটেই অত্যুক্তি হবে না। সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানাগেছে শওকত মাহমুদের রয়েছে চমৎকার বিনয় গুণ। ইতিবাচক মনোভাবসম্পন্ন মানুষের কিছু বৈশিষ্ট্য সহজে নজরে পড়ে। তিনি দয়ালু, আত্নবিশ্বাসী, ধৈর্যশীল এবং নিরহঙ্কার। সরল, সদালাপি ও আন্তরিকতায় অন্যকে কাছে টানতে পারেন সহজেই। সাধারণ থেকে শিল্পপতিকেও কাছে টানতে পারেন তিনি। এযেন এক অনন্য সম্মোহনী শক্তি। যেন ক্যারিশমা। আত্মবিশ্বাস তাঁকে শক্তি যোগায়।

শওকত মাহমুদ বর্তমানে সুপরিচিত ইংরেজী পত্রিকা ইকোনোমিক টাইমসের সম্পাদক।
এর আগে তিনি বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও টেলিভিশনে কাজ করেছেন নিষ্টার সঙ্গে। এর মধ্যে উল্লেখ যোগ্য হলো দৈনিক সংবাদ, নির্বাহী সম্পাদক দৈনিক দিনকাল, সম্পাদক দৈনিক মাতৃভূমি, সিটি এডিটর ও নির্বাহী সম্পাদক দৈনিক মানবজমিন, সম্পাদক চ্যানেল ওয়ান ও হেড অব নিউজ বৈশাখী টেলিভিশন। এছাড়া প্রয়াত ও বিখ্যাত সাংবাদিক আতাউস সামাদ সম্পাদিত পত্রিকা 'এখন' এর উপদেষ্টা সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি সাংবাদিক আতাউস সামাদের প্রিয় ছাত্র ছিলেন।

সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠনে তিনি বার বার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বপালন করেছেন। জাতীয় প্রেস ক্লাবের ২ বার নির্বাচিত সভাপতি, ৪ বার নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক, ও ১ বার যুগ্ম সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। তাছাড়া বাংলাদেশ ফোরেল সাংবাদিক ই্উনিয়নের ২ বার নির্বাচিত সভাপতি ও ২ বার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বপালন করেছেন। তিনি সাংবাদিক বিভিন্ন দাবী দাওয়ার ব্যাপারে সব সময়ই সোচ্চার। এমনকি স্বৈরাচারী এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে তিনি সাহসী ভূমিকা পালন করেছেন।

 

অন্যদিকে নিরলস প্রচেষ্টা, কঠোর অধ্যাবসায় এবং সাধনালব্ধ অভিজ্ঞতার সংমিশ্রনে আজ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভাইস চেয়ারম্যান। বৃহৎ একটি রাজনৈতিক দলের (টপ) দ্বিতীয় সারির আসনে আরোহন করতে সক্ষম হয়েছেন তিনি । বিএনপির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। রাজনীতিতে এখন তার বেশী সময় কাটছে বলেও জানাগেছে।

শওকত মাহমুদ কুমিল্লা জেলার ব্রাহ্মণ পাড়া উপজেলার আছাদ নগর গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম মরহুম এডভোকেট আবদুল আজিজ ।

আলাপচারিতায় শওকত মাহমুদ বলেন, শিক্ষা কেবল জীবিকা অর্জনের পথ নির্দেশ করে না। কিভাবে জীবন যাপন করতে হয় তারও শিক্ষা দেয়। মানুষকে করে আলোকিত। সমাজ হয় সমৃদ্ধ। চর্চা হয় মানবতা আর মানবাধিকারের।

আর তারই শ্রোতধারায় শওকত মাহমুদ এক সময়কার নামকরা মিশনারী স্কুল পুরান ঢাকার সেন্ট গ্রেগরী স্কুল থেকে অস্টম শ্রেণী পাশ করেন। পরে তিনি ঢাকার ঐতিহ্যবাহী গভ: ল্যাবরেটরী স্কুল থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে এসএসসি পাশ করেন। ঢাকা কলেজ থেকে ইন্টারমেডিয়েট পাশ করে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। পরে সেখান থেকে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিষয়ে (প্রথম ব্যাচ) কৃতিত্বের সঙ্গে পাশ করেন।

তিনি জানালেন, জ্ঞানকে পরিকল্পনামাফিক ও অভিজ্ঞতার নিরিখে প্রয়োগ করলে তা হয় বিজ্ঞতা। আর বিজ্ঞতা সাফল্য নিশ্চিত করে। শিক্ষা যাদের হৃদয়ে আলো ছড়াতে পারেনি, সেসব কু-সংস্কারাচ্ছন্ন মানুষকে এড়িয়ে চলেন তিনি। এড়িয়ে চলেন ধর্মীয় গোড়ামীকেও।

তিনি একজন সমাজসেবী। 'মরিতে চাহিনা আমি সুন্দর ভূবনে' এই শ্লোগানকে ধারণ করে মানুষের মাঝে বেঁচে থাকার প্রাণান্তকর চেষ্টায় তিনি এলাকায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, মসজিদ, এতিমখানা, কন্যা দায়গ্রস্ত পিতার কন্যা সমর্পনে সাধ্যমত আর্থিক সহযগিতা করে যাচ্ছেন। বিরল মানবিক গুন সম্পন্ন এই ব্যক্তি নিরন্নকে অন্ন দান, বস্ত্রহীনকে বস্ত্র দান, গরীব মেধাবী শিক্ষার্থীকে লেখাপড়ার খরচ যোগানো ওই মানুষটির আনন্দের মাঝে অন্যতম।

মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রতি তার সম্মান ও স্বাধীনতার চেতনায় তিনি বিশ্বাসী। ওই চেতনাকে তিনি বুকে লালন করে দেশ মাতৃকার সেবা করতে চান। মৃত্যুর আগে পরম করুনাময়ের কাছে নিজেকে সমর্পনের জন্য স্রষ্টার আদেশ-নির্দেশ পালনে তিনি বদ্ধপরিকর।

সাদা মনের এ মানুষটির সাথে আলাপচারিতায় আরো উঠে আসে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি। তার সাফ কথা বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে আমরা উন্নয়ণের সিড়িতে অবস্থান করছি। তিনি জানান, নব্য স্বেরাচার দেশের জন্য কোন কল্যাণ বয়ে আনতে পারেনা। দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হবে। যোগ্য ও সৎ, সাহসী নেতৃত্ব ছাড়া দেশের সত্যিকার উন্নতি হবে না।

তিনি আরও বলেন একটি দেশের উন্নয়নের পূর্ব শর্ত হল শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিনিয়োগ, আমদানী, রপ্তানী, বৈদেশিক রেমিটেন্স, আইন শৃঙ্খলার উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থা, নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ ও গ্যাস। পাশাপাশি আইনের শাসন সুনিশ্চিত করা। এসব খাত যত দ্রুত এগিয়ে যাবে তত দ্রুতই দেশ উন্নয়নের সর্বোচ্চ শিখরে আরোহন করতে সক্ষম হবে।

একান্ত আলাপচারিতায় তিনি বলেন, আমাদের প্যানেল বিজয়ী হলে বিভিন্ন এজেন্ডা বাস্তবয়ন করবো। এসব এজেন্ডাগুলো হলো: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ও মান-মর্যাদা পুন:প্রতিষ্ঠিত করা, একাডেমিক কার্যক্রমের দৃশ্যমান উন্নয়নসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে সিনেটকে সম্পৃক্ত, কেবলমাত্র বাজেট অনুমোদন ও উপাচার্য প্যানেল নির্বাচন করার মধ্যেই সিনেটকে সীমাবদ্ধ না করা।

শিক্ষক নিয়োগে মেধার মূল্যায়নকেই একমাত্র মানদন্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় যানজট সমস্যার সমাধান করা ও নিরাপত্তা জোরদার, দলমত নির্বিশেষে সব ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য ক্যাম্পাসে সহাবস্থান নিশ্চিত এবং ছাত্র- ছাত্রীদের প্রাণের দাবি ডাকসু নির্বাচন নিয়মিত অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করা।

 

ঢাকা, ১৬ জানুয়ারি (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।