রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি


Published: 2017-11-21 16:32:22 BdST, Updated: 2017-12-14 04:25:38 BdST


লাইভ প্রতিবেদক: মিয়ানমার সরকারের দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়, “স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চি রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার ওপর বিশেষ জোর দেন এবং এই লক্ষ্যে একটি ‘ওয়ার্কিং গ্রুপ’ প্রতিষ্ঠা করতে বলেন।

এ ছাড়া মিয়ানমার থেকে যারা পালিয়ে গেছে তাদের কোন কোন স্থান দিয়ে ফিরিয়ে নেওয়া হবে সেগুলো নির্ধারণ করা হবে। সেই সঙ্গে মুসলমান ছাড়াও অন্য জাতিগোষ্ঠী যেমন রাখাইন, ম্রো, দাইংনেট ও ম্রামাগাইয়ের পাশাপাশি হিন্দু সংখ্যালঘুদের পুনর্বাসন (রিহেবিলিটেশন) ও পুনর্নিষ্পত্তি (রিসেটলমেন্ট) কর্মসূচির ওপর জোর দেন সু চি।”

রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়া ইস্যুতে এ সপ্তাহেই বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি হবে বলে আশা করছেন মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সুচি। সোমবার ১৩তম এশিয়া ইউরোপ মিটিং (এএসইএম) করেন তিনি। এরপর ওই আশা প্রকাশ করেন তিনি।

তবে রোহিঙ্গাদের ফেরত নেয়ার ক্ষেত্রে এর আগে সম্পাদিত চুক্তিই অনুসরণ করা হবে। এ কথাটি তিনি স্পষ্ট করেছেন। এবারও তিনি রোহিঙ্গাদেরকে ‘রোহিঙ্গা’ হিসেবে অভিহিত করেননি।

তাদেরকে তিনি ‘সীমান্ত পেরিয়ে যাওয়া’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। এতে আরো বলা হয়, রোহিঙ্গা ফিরিয়ে নেয়া ইস্যুতে সুচির কাছে জানতে চাওয়া হয়। তার জবাবে তিনি বলেছেন, বুধবার ও বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক হবে। এ ছাড়া দু’দেশের সরকারি পর্যায়ের নেতাদের মধ্যে গত মাসেই যেসব রোহিঙ্গা মিয়ানমারে ফিরতে চান তাদের বিষয়ে কিভাবে প্রক্রিয়া শুরু হবে সে আলোচনা শুরু হয়েছে।

মিয়ানমারের রাজধানী ন্যাপিডতে অনুষ্ঠিত হয় এএসইএমের বৈঠক। সেখানে এর সিনিয়র কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন সুচি। এপর তিনি বলেন, আমরা আশা করি, দ্রুততার সঙ্গে একটি সমঝোতা স্বারক স্বাক্ষরে ফলেই এই ফল আসবে।

যারা সীমান্ত পেরিয়ে গেছে তাদের ভিতর থেকে যারা স্বেচ্ছায় ফিরতে চায় তাদের ফেরা নিশ্চিত ও নিরাপদ করার কাজ শুরু হবে এর মাধ্যমে। উল্লেখ্য, ২৫ শে আগস্ট সৃষ্ট নৃশংসতার পর কমপক্ষে ৬ লাখ রোহিঙ্গা মুসলিম পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। এসব নৃশংসতার জন্য জাতিসংঘ, ওআইসি, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ সহ বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা সেনাবাহিনীকে দায়ী করেছে।

মানবাধিকার বিষয়ক গ্রুপগুলো প্রামাণ্য আকারে তথ্য সামনে এনেছে। তাতে নৃশংসতার স্বরূপ প্রকাশ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, গণহারে রাখাইনে ধর্ষণ করা হয়েছে। হত্যা করা হয়েছে। বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে। এসব করা হয়েছে জাতি নিধন অভিযানের অংশ হিসেবে।

এসব মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে সুচিকে প্রশ্ন করেছিলেন সাংবাদিকরা। জবাবে তিনি বলেছেন, আমরা বলতে পারি না, আদতে এমন কিছু ঘটেছে কিনা। দায়বদ্ধ সরকার হিসেবে আমি বলতে পারি, এসব ঘটেনি। এটা নিশ্চিত।

উল্লেখ্য, মুসলিম সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের রোহিঙ্গা হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না মিয়ানমার। তারা রোহিঙ্গাদের জাতি হিসেবে অস্বীকৃতি জানায়। সরকারি ভাষ্য অনুযায়ী, তারা হলো বাঙালি। এর মধ্য দিয়ে তারা বোঝাতে চায় রোহিঙ্গারা বাংলাদেশী। বাংলাদেশ থেকে গিয়ে রাখাইনে অবৈধভাবে বসবাস করছে তারা। এ নিয়ে বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় বইছে।

এই রোহিঙ্গা ইস্যুতে সারা বিশ্ব থেকে ভয়াবহ সমালোচনার মুখে পড়েছে সুচির দু’বছরেরও কম সময়ের সরকার। আসলে এ সরকারে তার কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা রয়েছে সেনাবাহিনীর হাতে। তিনি তাদের সঙ্গে ভাগাভাগি করে ক্ষমতার মালিক হয়েছেন। ফলে সেনাবাহিনী যেমনটি বলে, সুচিও তাই করেন।

রোহিঙ্গাদের ফেরত নেয়া বিষয়ে ১৯৯০ এর দশকের শুরুর দিকে যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে সেটাই এবারও অনুসরণ করবে মিয়ানমার। এ কথা জানিয়ে দিয়েছেন সুচি। কিন্তু ওই চুক্তিতে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্বের মর্যাদা কি হবে তার উল্লেখ নেই।

তবে এবার বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের ফেরত দেয়ার ক্ষেত্রে মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে এবং এবার যাতে অধিক নিরাপদ প্রত্যাবর্তন হয় তা নিশ্চিত করতে চাইছে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তন বিষয়ে সুচি বলেন, আবাসিক বা রেসিডেন্সির ওপর ভিত্তি করে প্রত্যাবর্তন হবে। সফলতার সঙ্গে দু’দেশের সরকার অনেক আগেই এ বিষয়ে চুক্তি করেছে। সুতরাং এটাই হবে ফর্মুলা যা আমরা অনুসরণ করবো।


ঢাকা, ২১ নভেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।