বর্ণবাদবিরোধী বিক্ষোভ: সাংবাদিকদের উপর হামলা


Published: 2020-06-02 18:53:08 BdST, Updated: 2020-07-06 12:03:12 BdST

লাইভ ডেস্কঃ আফ্রিকান আমেরিকান জর্জ ফ্লয়েডের হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বর্ণবাদবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল যুক্তরাষ্ট্রে নিউজ সংগ্রহের সময় নিরাপত্তা বাহিনীর টার্গেট হয়েছে অন্তত ডজনের বেশি সাংবাদিক। নিরপত্তা বাহিনীর সদস্যরা এসময় তাদের লক্ষ্য করে কাঁদানে গ্যাস, রাবার বুলেট ও মরিচের গুড়া স্প্রে করে। খবর বিবিসির।

হামলার শিকার হওয়া অধিকাংশ সাংবাদিকই বলেছেন, তারা প্রেসের ডকুমেন্ট দেখার পরও হামলার শিকার হয়েছে। তবে সাংবাদিকরা যে কেবল নিরাপত্তা বাহিনীর হামলার শিকার হয়েছে, তা নয়। বিক্ষোভকারীদেরও রোষের মুখে পড়ে সাংবাদিকরা।

সাংবাদিকদের ওপর পুলিশি হামলার শুরু হয় শুক্রবার। ওইদিন লাইভ সম্প্রচারের সময়ই সিএনএনের টিমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সিএনএনের টিম ওই সময় মিনিয়াপোলিস থেকে বিক্ষোভের নিউজ কভার করছিল।তবে পরবর্তী কয়েকদিন সোশ্যাল মিডিয়ায় আরও বহু সাংবাদিক শারীরিকভাবে হামলার শিকার হওয়ার খবর সামনে আসে।

অলাভজনক একটি প্রজেক্ট ইউএস প্রেস ফ্রিডম ট্র্যাকার বলছে, গত তিনদিনে ১০০টির বেশি ‘গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ভঙ্গের’ ঘট্না ঘটেছে। এগুলোর মধ্যে ৯০টিই হামলার ঘটনা ছিল।
শনিবার রাতে রয়টার্স নিউজের টিভি ক্রুর দুজন সদস্য পুলিশের ছোঁড়া রাবার বুলেটে আহত হয়। কারফিউ ভেঙ্গে মিনিয়াপোলিসে বিক্ষোভের সময় তারা আহত হন।

আহত সাংবাদিক

 

রয়টার্সের ক্যামেরাম্যান জুলিও-সিজার চাভেজ বলেন, একজন পুলিশ অফিসার, যাকে আমি ফিল্ম করছিলাম তিনি আমার দিকে ঘুরে সরাসরি তার রাবার বুলেট রাইফেল তাক করে। রয়টার্স জানিয়েছে, তারা মিনিয়াপোলিস পুলিশ বিভাগকে ভিডিও ফুটেজ দেয়ার পরও তারা কোনও মন্তব্য করেনি।

রোববার সন্ধ্যায় পুলিশি আক্রোশের শিকার হয় বিবিসির একজন ক্যামেরাম্যান। ওয়াশিংটন ডিসিতে হোয়াইট হাউজের কাছে এ ঘটনা ঘটে। ওই সময় এক দাঙ্গা পুলিশ অফিসার তার শিল্ড দিয়ে বিবিসির ওই ক্যামেরাম্যানের দিকে তেড়ে আসেন।

ভাইস নিউজের সাংবাদিক মাইকেল অ্যান্থনি অ্যাডাস বলেছেন, শনিবার রাতে তার মুখে মরিচের গুড়া স্প্রে করে একজন পুলিশ অফিসার। এসময় তিনি তার কার্ড দেখিয়ে চিৎকার করে প্রেসও বলেছিলেন। শুক্রবার রাতে পুলিশের দিক থেকে ছোঁড়া এক প্রজেক্টাইল ফ্রিল্যান্স ফটোজার্নালিস্ট লিন্ডা টিরান্ডোর বাম চোখে লাগে।তার চোখ পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে।

একই রাতে কেন্টাকির লুইসভাইলে স্থানীয় নিউজ স্টেশন ওয়েভ থ্রির একজন সাংবাদিক লাইভের সম্প্রচার গুড়া মরিচের বল হামলার শিকার হন। একজন পুলিশ অফিসার তাকে লক্ষ্য করে ওই বল ছোঁড়েন।

এদিকে বিক্ষোভের সংবাদ লাইভ কাভারেজের সময় হামলার শিকার হয়েছেন নিউইয়র্কে সময় সংবাদের বিশেষ সংবাদদাতা হাসানুজ্জামান সাকী।

হামলার শিকার সংবাদদাতা 

 

লাইভ ভিডিওতে দেখা যায়, হাসানুজ্জামান সাকী দাঁড়িয়ে লাইভ দিচ্ছিলেন। এমন সময় পেছন থেকে কয়েকজন উগ্র বিক্ষোভকারী তাকে আঘাত করেন।

সাকী বলেন, ১১টার কিছু আগে টাইমস স্কয়ারে গিয়ে পৌঁছাই। তখন দেখি নিউইয়র্কের রাস্তার অলিতে-গলিতে মানুষ। তখন আমি লাইভে পিটিসি দিচ্ছি, অতর্কিতভাবেই তারা হামলা চালিয়েছে। আমি টিভি রিপোর্টার বলার পরও একের পর এক কিল-ঘুষি মারে আমাকে তারা। আমি রাস্তায় পড়ে যাই।

তারা ক্যামেরাও কেড়ে নিতে চেয়েছিল কিন্তু পারেনি। পুলিশ এই বিক্ষোভকারীদের কাছে অসহায় হয়ে পড়েছে। তারা প্রচুর লুটপাট করেছে। আমি কোনমতে প্রাণ নিয়ে বেঁচে এসেছি। আমি যে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে নিজেই সংবাদ হয়ে যাব সেটি কখনো ভাবিনি।

এদিকে বিক্ষোভ দমনে সেনা মোতায়েনের হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ঢাকা, ০২ জুন (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।