শি’র সঙ্গে কথা বলতে চাননা ট্রাম্প, চীনকে চাপ দিতে বিল পাস


Published: 2020-05-15 12:54:44 BdST, Updated: 2020-05-25 08:30:45 BdST

লাইভ প্রতিবেদক: করোনার থাবায় নাখাল বিশ্ববাসী। দিশেহারা বাঘা বাঘা রাস্ট্রপ্রধানরা। কিন্তু কেন? এই বিপর্যয়। কেন এই মহামারি। এর নেপথ্যে কি কোন মানুষ্য হাত আছে কি না তা এখনও স্পস্ট নয়। তবে মার্কিনীরা চীনকে বরাবর দায়ী করে আসছে। কোভিড-১৯ মহামারি নিয়ে চীন-যুক্তরাষ্ট্র বৈরিতা বেড়েই চলেছে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার তা আরো এক ধাপ বাড়িয়ে দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, এই মুহূর্তে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে কথা বলার কোনো ইচ্ছেই নেই তার।

এমনকি চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সকল সম্পর্ক ছিন্ন করার হুমকিও দিয়েছেন তিনি। ফক্স নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এমনটা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। বৃহস্পতিবার প্রচারিত ওই সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে চীনের ব্যর্থতায় খুবই হতাশ হয়েছেন তিনি। এই মহামারির জন্য জানুয়ারিতে দুই দেশের মধ্যে হওয়া বাণিজ্য চুক্তিও ফেকাশে হয়ে পড়েছে বলে জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। যদিও পূর্বে ওই চুক্তিটিকে বিশাল অর্জন হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন তিনি। করোনা নিয়ন্ত্রণে চীনের ব্যর্থতার প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প বলেন, তাদের এটা কোনোভাবেই ঘটতে দেয়া উচিৎ হয়নি।

আমি একটি বিশাল চুক্তি করলাম, কিন্তু এখন আর সেটা তেমন মনে হচ্ছে না। চুক্তির কাগজের কালি ঠিকঠাক শুকানোর আগেই এই মহামারি চলে এলো। এখন এটা আমার কাছে আগের মতো লাগছে না। চীনা প্রেসিডেন্ট শি’র প্রতিও বিরক্তি প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। যদিও পূর্বে বহুবার শি’র সঙ্গে ভালো সম্পর্ক থাকার কথা বলেছেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, এই মুহূর্তে আমি তার সাথে কথা বলতে চাই না।

সম্প্রতি এক রিপাবলিকান সিনেটর যুক্তরাষ্ট্রে জাতীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পড়তে ইচ্ছুক চীনা শিক্ষার্থীদের ভিসা না দেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। সে বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে ট্রাম্প বলেন, আমরা অনেক কিছুই করতে পারি। আমরা পুরো সম্পর্কই ছিন্ন করে ফেলতে পারি। তিনি বলেন, এমনটা করলে কী হবে? ৫০ হাজার কোটি ডলার বাঁচানো যাবে। প্রসঙ্গত, চীন থেকে প্রতি বছর আনুমানিক ওই আর্থিক মূল্যের পণ্য আমদানি করে থাকে যুক্তরাষ্ট্র। এই অর্থকে প্রায়ই হারিয়ে যাওয়া অর্থ হিসেবে বর্ণনা করে থাকেন তিনি।

চীনকে চাপ দিতে বিল পাস:

উইঘুরে মুসলিম নির্যাতন

 

চীনে উইঘুর সহ অন্যান্য সংখ্যালঘু মুসলিম জনগোষ্ঠীর উপর নির্যাতনের জবাবে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে মার্কিন পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সিনেটে বিল পাস হয়েছে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সিনেটে সর্বসম্মত ভোটে দ্বিপক্ষীয় বিলটি পাস হয়।

এতে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনকে চীনের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানানো হয়েছে। করোনা ভাইরাস (কভিড-১৯) মহামারি নিয়ে সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যে তীব্র বৈরি সম্পর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এর মাঝে নতুন এ বিল পাস হলো। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। খবরে বলা হয়, উচ্চকক্ষ সিনেটে কোনো বাঁধা না পেয়ে পাস হলেও বিলটি এখনো আইনে পরিণত হয়নি। সিনেট থেকে এখন বিলটি পাঠানো হবে নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে। সেখানে পাস হলে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

চাইলে তিনি বিলটিতে স্বাক্ষর করে সেটিকে আইনে পরিণত করতে পারবেন বা ভেটো দিতে পারবেন। করোনা ভাইরাস মহামারি নিয়ে চীনের বিরুদ্ধে প্রাথমিক পর্যায়ে তথ্য প্রকাশে অস্বচ্ছতার অভিযোগ এনেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ট্রাম্প একাধিকবার চীনের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে, চীনের সঙ্গে সকল সম্পর্ক ছিন্ন করতে পারেন বলেও হুমকি দিয়েছেন তিনি। চীন অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অপবাদের অভিযোগ এনেছে। দুই দেশের মধ্যকার চলমান উত্তেজনা নতুন এই বিলটির কারণে আরো বৃদ্ধি পাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে, চীন পূর্বে উইঘুরদের নির্যাতনের সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছে। বলেছে, এটা চীনের আভ্যন্তরীণ ব্যাপার। এজন্য দেশটির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণকে বিদ্বেষপরায়ণ আক্রমণ হিসেবে বর্ণনা করেছে। জাতিসংঘ অনুসারে, সাম্প্রতিক বছরগুলোয় চীনে শিনজিয়াং অঞ্চলে ১০ লাখের বেশি উইঘুরকে বন্দিশিবিরে আটক করা হয়েছে। তবে চীন এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, ওই শিবিরগুলোয় উইঘুরদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়ে থাকে।

নতুন বিলটি উপস্থাপন করেছিলেন রিপাবলিকান সিনেটর মারকো রুবিও। এর আগে গত নভেম্বরে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদ উইঘুর নির্যাতনের জন্য দায়ী জ্যেষ্ঠ চীনা কর্মকর্তাদের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়ে একটি বিল পাস করে। ওই বিলটিতে বিশেষ করে, শিনজিয়াংয়ের কমিউনিস্ট পার্টি সেক্রেটারি চেন কুয়ানগুয়োকে দায়ী করা হয়। তিনি চীনের কমিউনিস্ট পার্টির প্রভাবশালী পলিটব্যুরো স্ট্যান্ডিং কমিটির একজন সদস্য।

নতুন বিলটিতেও চেন কুয়ানগুয়োর বিরুদ্ধে বিশেষভাবে উইঘুর নির্যাতনের জন্য দায়ী করা হয়েছে। এছাড়া, শিনজিয়াংয়ে কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক ডেপুটি সেক্রেটারি ঝু হাইলুনকেও উইঘুর নির্যাতনের জন্য সরাসরি দায়ী করা হয়েছে। চীন পূর্বে হুশিয়ারি দিয়েছে যে, চেনের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়া হলে তার যথাযথ জবাব দেয়া হবে।

ঢাকা, ১৫ মে (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এআইটি

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।