ইন্দোনেশিয়ায় বিয়ের আগে যৌন সম্পর্ক স্থাপনে নিষেধাজ্ঞা আসছে!


Published: 2019-09-25 20:41:37 BdST, Updated: 2019-10-15 03:39:23 BdST

লাইভ ডেস্কঃ এবার বিয়ের আগেই যৌন সম্পর্ক স্থাপনে নিষেধাজ্ঞা আসছে ইন্দোনেশিয়ায়। এনিয়ে দেশ জুড়ে চলছে নানান আলোচনা ও সমালোচনা। জানাগেছে এ বিষয়ে অপরাধ বিষয়ক নতুন একটি প্রস্তাব আনার কথা দেশটির পার্লামেন্টে।

কিন্তু এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় তরুণ, তরুণীরা। মঙ্গলবার পার্লামেন্টের বাইরে এই বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়েছে পুলিশের। তাদেরকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছুড়েছে। ব্যবহার করেছে জলকামান।

এমন বিক্ষোভ হয়েছে দেশটির অন্য শহরগুলোতেও। বিলটি পাস হলে বেশিরভাগ গর্ভপাতকে নিষিদ্ধ করা হবে। একই সঙ্গে প্রেসিডেন্টকে অবমাননাকে করা হবে বেআইনি। তবে বিলটি এখনও উত্থাপন করা হয়নি পার্লামেন্টে। বিলম্বিত করা হচ্ছে।

এ নিয়ে উদ্বিগ্ন ব্যক্তিরা মনে করছেন, বিলটি এরই মধ্যে পাস করা হয়েছে পার্লামেন্টে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। বিলটিকে বিতর্কিত বলা হচ্ছে।

এতে যেসব বিষয় রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম- ১. বিয়ের আগে যৌন সম্পর্ক স্থাপনকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। কেউ এমন সম্পর্ক স্থাপন করলে তার শাস্তি হিসেবে এক বছরের জেল রাখা হচ্ছে।

২. বিয়ে ছাড়া একসঙ্গে বসবাস করাকে বা লিভটুগেদারকেও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এমন সম্পর্ক স্থাপনকারীর বিরুদ্ধে শাস্তি রাখা হচ্ছে ৬ মাসের জেল। ৩. প্রেসিডেন্ট, ভাইস প্রেসিডেন্ট, ধর্ম, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এবং প্রতীক- যেমন পতাকা, জাতীয় সঙ্গীতের প্রতি অবমাননাকে অবৈধ করা হয়েছে।

৪. গর্ভপাতকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। জরুরি চিকিৎসা বা ধর্ষণের কারণ ছাড়া গর্ভপাত করানো হলে তার শাস্তি রাখা হচ্ছে চার বছরের জেল। এই বিলটি প্রাথমিকভাবে মঙ্গলবার পার্লামেন্টে ভোটে দেয়ার কথা ছিল।

কিন্তু শুক্রবার ওই ভোট স্থগিত করে দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট জোকো উইডোডো। তিনি বলেছেন, নতুন এই আইনে আরো অনেক বিষয় বিবেচনার প্রয়োজন রয়েছে।

বিলটি পার্লামেন্টে উত্থাপনে বিলম্ব হলেও অনেক ইন্দোনেশিয়ান মনে করছেন, এরই মধ্যে বিলটি পার্লামেন্টে পাস হয়ে গেছে। ফলে তরুণ তরুণীরা এর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করছেন। এর বেশির ভাগই শিক্ষার্থী।

এ ছাড়া আরও একটি নতুন আইন পাস করা নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে। এই আইনটি পাস হলে দুর্নীতি উৎখাত কমিশন দুর্বল হয়ে পড়বে বলে উদ্বেগ রয়েছে। মঙ্গলবার ইন্দোনেশিয়ার বিভিন্ন শহরের রাস্তাগুলোতে বিক্ষোভ করেছেন হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী। এ সময় রাজধানী জাকার্তায় বিক্ষোভকারীরা পার্লামেন্ট স্পিকার বামবাং সায়েসাতিও’র সঙ্গে সাক্ষাত দাবি করে বিক্ষোভ করলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়।

এ সময় বিক্ষোভকারীদের প্রতি পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে। ব্যবহার করে জলকামান। জবাবে শিক্ষার্থীরা পুলিশের প্রতি ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে। এ সময় একজন তরুণীর হাতে একটি প্লাকার্ড দেখা যায়। তাতে লেখা- আমার জননেন্দ্রিয়ের মালিক সরকার নয়। ওদিকে বিক্ষোভ হয়েছে যোগাকার্তা, মাকাস্কারে।

দ্বিতীয় দিনের মতো সেখানে বিক্ষোভ অব্যাহত ছিল। বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন পশ্চিম জাভায় একটি ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১ বছর বয়সী একজন শিক্ষার্থী ফুয়াদ ওয়াহিউদ্দিন।

ঢাকা, ২৫ সেপ্টেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।