দিনের অর্ধেক না যেতেই পেঁয়াজ উধাও


Published: 2019-10-04 19:21:21 BdST, Updated: 2019-10-23 16:44:09 BdST

লাইভ প্রতিবেদকঃ ভারত রপ্তানি বন্ধ করে দেয়ায় দেশে অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যায় পেঁয়াজের দাম। এর কারণেই পণ্যটির দাম কমাতে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) মাধ্যমে খোলা বাজারে পেঁয়াজ বিক্রির কার্যক্রম শুরু করে সরকার।

দাম কম ও চাহিদা খুব বেশি থাকায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দুপুরের আগেই শেষ হয়ে যায় টিসিবির গাড়িতে থাকা পেঁয়াজ। গাড়িতে প্রতি কেজি পিয়াজের দাম রাখা হচ্ছে প্রতি কেজিতে মাত্র ৪৫ টাকা। ক্রেতাপ্রতি সর্বোচ্চ দুই কেজি করে পেঁয়াজ কিনতে পারবেন।

কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, রাজধানীর ৩৫টি স্থানে টিসিবির মাধ্যমে পেঁয়াজ বিক্রয় করা হলেও
দির্ঘক্ষন লাইনে দাঁড়িয়েও পেঁয়াজ না পাওয়ায় অভিযোগ করেছেন ভোক্তারা। এছাড়া সরবরাহ কম ছিল, আবার নির্দিষ্ট সময়ে পিয়াজের ট্রাক না আসাসহ বিভিন্ন অভিযোগ বিক্রেতাদের।

গতকাল রাজধানীর সচিবালয় গেটে গিয়ে দেখা যায়, দিনের অর্ধেক যেতে কি না যেতেই শেষ হয়ে গেছে পেঁয়াজ।

অন্যান্য সব পণ্য থাকলেও পেঁয়াজ শেষ। এদিকে, দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও পেঁয়াজ না পেয়ে খালি হাতে ফেরত যেতে হয়েছে অনেক ক্রেতাকেই।

টিসিবি’র এক পিয়াজ বিক্রেতা বলেন, প্রতিদিন ৪০০ কেজি করে পিয়াজ পাই। আজ (গতকাল) পিয়াজের ক্রেতা একটু বেশি, তাই দ্রুত শেষ হয়ে গেছে। টিসিবির প্রতিটি গাড়িতে ১ হাজার কেজি পিয়াজ দেয়ার কথা থাকলেও তারা ৪০০ কেজি করে প্রতি গাড়িতে পিয়াজ দিচ্ছে।

একজন ক্রেতা জানান, সকাল ১০টায় এসে দেখি টিসিবির গাড়ি এখনও আসেনি। তাই নিজের কিছু কাজ শেষ করে এসে দেখছি পেঁয়াজ শেষ। তারেক নামে এক ক্রেতা পেঁয়াজ কেনার পর পলিথিন খুলে দেখান তার মধ্যে বেশ কিছু পচা পেঁয়াজ । আর রয়েছে অতিরিক্ত আবর্জনাও। আর পেঁয়াজের সাইজও তুলনামূলক অনেক ছোট।

এ প্রসঙ্গে টিসিবির মুখপাত্র মো. হুমাউন কবির বলেন, এতদিন প্রতি ট্রাকে ৪০০ কেজি পেঁয়াজ দেয়া হয়েছে। শনিবার থেকে ১ হাজার কেজি করে পেঁয়াজ দেওয়া হবে। তখন পেঁয়াজ না পাওয়ার ভোগান্তি থাকবে না।

তিনি বলেন, পেঁয়াজ নিয়ে আতঙ্কিত হবার কিছু নেই। প্রতিদিনই মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পেঁয়াজ আসছে। যার কারণে ২/১ দিনের মধ্যে পেঁয়াজের দাম কমে যাবে বলে আশা করছি। বর্তমানে রাজধানীর ৩৫টি স্থানে পেঁয়াজ বিক্রি করা হচ্ছে। প্রয়োজনবোধে আরো বাড়ানো হবে বলেও তিনি জানান।

জানা যায়, কোরবানি ঈদের পর থেকেই পেঁয়াজের দাম বাড়তে শুরু করে। এরপর হঠাৎ করেই ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়ার ফলে এক লাফে দাম বেড়ে গিয়ে দাঁড়ায় ১৩০ টাকায়। তবে অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়া পিয়াজের দাম কমতে শুরু করেছে।

গত দুই দিনে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যটির দাম কেজিপ্রতি ২৫-৩০ টাকা কমেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। অবশ্য খুচরা বাজারে ততটা প্রভাব পড়েনি। শ্যামবাজারে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ৭০ থেকে ৭৫ টাকা, ভারতীয় পেঁয়াজ ৬৫ থেকে ৭০ টাকা এবং মিয়ানমারের পেঁয়াজ ৫৮ থেকে ৬০ টাকা দরে বিক্রি হয় বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

ভারত রপ্তানি বন্ধের আগে শ্যামবাজারে প্রতি কেজি ভারতীয় পেঁয়াজ ৫৫-৫৬ এবং দেশি পেঁয়াজ ৬০-৬৫ টাকায় বিক্রি হতো। খুচরা বাজারে বাছাই করা দেশি পেঁয়াজ ৭৫-৮০ টাকা, সাধারণ দেশি পেঁয়াজ ৭০ টাকা এবং ভারতীয় পেঁয়াজ ৬০-৬৫ টাকা কেজিতে বিক্রি করতেন বিক্রেতারা। যার কারণে, পাইকারিতে দাম আগের দরের কাছাকাছি চলে এসেছে।

ঢাকার কয়েকটি খুচরা বাজার ঘুরে জানা যায়, দেশি পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ১০০ টাকা এবং ভারতীয় পেঁয়াজ ৯০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে। ফলে, আগের চেয়ে কেজিপ্রতি দাম ১০ টাকার মতো কমেছে। অবশ্য কোথাও কোথাও সেরা মানের দেশি পিয়াজের দাম কেজিপ্রতি ১২০ টাকায় উঠেছিল, যা এখন ১১০ টাকায় নেমেছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, বুধবারের কেনা দেশি পেঁয়াজ ১১০ টাকা দরে বিক্রি করছেন। তবে বৃহস্পতিবার কেনা প্রতি কেজি পেঁয়াজ ১০০ টাকা দরে বিক্রি করছেন। তারা বলছেন, দু’একদিনের মধ্যে দাম আরো কমবে। শান্তিনগরের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী বলেন, ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেয়ার ফলে হঠাৎ করে দাম বেড়েছে।

তবে মিয়ানমারসহ অন্যান্য দেশ থেকে সরকার জরুরি ভিত্তিতে পেঁয়াজ আমদানি করায়, বিদ্যমান সংকট কমে আসছে। এ কারণে পিয়াজের দাম কমে আসছে।

বুধবার বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি গণমাধ্যমকে জানান, আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে পেঁয়াজের দাম ৮০ টাকায় নেমে আসবে। ইতিমধ্যে মিয়ানমার থেকে ৪৮৩ টন পেঁয়াজ আনা হয়েছে। আরো ৫০০ টন পিয়াজ দেশে পৌঁছানোর অপেক্ষায়।

মন্ত্রী জানান, প্রতিদিনই পেঁয়াজ কম বেশি আমদানি করা হচ্ছে। কেজি প্রতি পিয়াজের আমদানি মূল্য ৪৫ টাকা। যাতায়াত মূল্য, পাইকারি মূল্য, সব মিলিয়ে ৫০ কিংবা ৬০ টাকা কেজি হওয়া উচিৎ। পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির কারণ খুঁজতে ১০টি মনিটরিং টিম কাজ করছে। বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং গুদামকে জরিমানা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, বর্তমানে প্রতিবছর দেশে পেঁয়াজের চাহিদা প্রায় ২৪ লাখ টন। এর মধ্যে গত ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে দেশে উৎপাদন হয়েছে ২৩.৭৬ লাখ টন। এছাড়া এই সময়ে আমদানি ১০ থেকে ১১ লাখ টন পিয়াজ আমদানি হয়েছে। ফলে, দেশে পর্যাপ্ত পেঁয়াজ মজুত থাকার পরেও দাম বেড়েই চলেছে।

যে ৩৫টি স্থানে পেঁয়াজ বিক্রিয় করছে: সচিবালয়ের গেট, শাহজাহানপুর বাজার, ফকিরাপুল বাজার ও আইডিয়াল জোন, মতিঝিল বক চত্বর, জাতীয় প্রেস ক্লাব, মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল, বাংলাদেশ ব্যাংক চত্বর, দৈনিক বাংলা মোড়,ভিক্টোরিয়া পার্ক, কাপ্তান বাজার, শান্তিনগর বাজার, মালিবাগ বাজার, বাসাবো বাজার, রামপুরা বনশ্রী,

খিলগাঁও তালতলা বাজার, রামপুরা বাজার। এছাড়া সায়েন্সল্যাব মোড়, নিউ মার্কেট/নীলক্ষেত মোড়, ঝিগাতলা মোড়, পলাশী মোড়, শ্যামলী/কল্যাণপুর, খামারবাড়ি ফার্মগেট, রজনীগন্ধা সুপার মার্কেট, কলমীলতা মোড়, কচুক্ষেত, আগারগাঁও তালতলা ও নির্বাচন কমিশন অফিস।

অপরদিকে, উত্তরার রাজলক্ষ্মী কমপ্লেক্স, আশকোনা হাজি ক্যাম্প, মহাখালী কাঁচাবাজার, মিরপুর-১ নম্বর মাজার রোড, মিরপুর-১০ নম্বর গোল চত্বর, শেওড়াপাড়া বাজার, মোহাম্মদপুর টাউনহল কাঁচাবাজার, দিলকুশা, মাদারটেক নন্দীপাড়া কৃষি ব্যাংকের সামনে টিসিবির পেঁয়াজ বিক্রি করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, কলম্বোতে এখন পেঁয়াজের দাম শ্রীলঙ্কার মুদ্রায় ২৮০ থেকে ৩০০ (ভারতীয় মুদ্রায় ১২০ থেকে ১৩০ টাকা)। শ্রীলঙ্কা ইতিমধ্যেই চীন এবং মিশর থেকে আমদানির অর্ডার দিয়েছে। নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর এক সবজির বাজারে গৃহিণী সীমা পোখারেল রয়টার্সকে বলেন, পিয়াজের এবারের মূল্যবৃদ্ধি রীতিমতো ভয়ংকর। গত মাসের তুলনায় এবার দামটা দ্বিগুণ।

পেঁয়াজ রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে ভারত। এর জেরে গোটা দক্ষিণ এশিয়ার পেঁয়াজের বাজারে আগুন লেগেছে। সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, ও নেপালের। এই তিন দেশে কোথাও দ্বিগুণ, কোথাও বা তিনগুণ বেড়ে গেছে পেঁয়াজের দাম।

ঢাকা, ০৪ (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।