গোল্ডেন বুট জয়ী আঁখিকে অভিনন্দন


Published: 2017-12-26 19:57:05 BdST, Updated: 2018-06-23 21:37:51 BdST


স্পোর্টস লাইভ: ফুটবল কন্যা আঁখিকে পেয়ে এলাকায় আনন্দের বন্যা বইছে। আঁখির যাদুকরী খেলায় তার এই অর্জন বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। এলাকাবাসীর ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছেন সাফ অনুর্ধ্ব-১৫ এর চ্যাম্পিয়নশিপ ফুটবল টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়ার গোল্ডেন বুট জয়ী আঁখি আকতার।

মঙ্গলবার দুপুরে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার পৌর সদরের পাড়কোলা গ্রামের বাড়িতে তিনি পৌঁছালে গ্রামবাসী ও শুভাকাঙ্খিরা তাকে ফুল দিয়ে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান।

আঁখি হতদরিদ্র তাঁতশ্রমিক আকতার হোসেন ও মা নাছিমা বেগমের জীর্ণ কুটিরে জন্ম। এই সফলতায় আঁখিকে দেখার জন্য উৎসুক মানুষের ভিড় জমে। এ সময় তিনি সবার সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।

এর আগে গ্রামবাসী, সহপাঠী, পাড়কোলা সরকারি প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা তাকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। পাড়কোলা বাসস্ট্যান্ড থেকে পায়ে হেঁটে বাড়ি ফেরার সময় আঁখি গ্রামবাসীর সঙ্গে কুশল বিনিময় ও সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। তার এ অসামান্য কৃতিত্বে গ্রামবাসী উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। তারা তাকে কাছে পেয়ে আবেগাপ্লুতও হয়ে পড়েন।

আঁখি জানান, দীর্ঘ জার্নির পরেও তিনি মোটেও ক্লান্ত নন। এক দিন বাড়িতে বিশ্রাম শেষে ফুটবল খেলায় আগ্রহী মেয়েদের অনুশীলন করাবেন তিনি। তার এ অনুশীলন আগামী ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে।

তিনি আশা করেন তার এ অনুশীলনের মধ্য দিয়ে আরও নতুন সম্ভাবনাময় ফুটবল খেলোয়ার তৈরি হবে। তিনি তার ছুটির ফাঁকে ফাঁকে এলাকায় এ কাজ চালিয়ে যাবেন বলে জানান।

আঁখির মা নাছিমা বেগম ও ভাই নাজমূল ইসলাম জানান, আঁখি আগামী ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত শাহজাদপুর উপজেলার পৌর সদরের পাড়কোলা গ্রামের টিনের এ জীর্ণ কুটিরেই থাকবেন।

আঁখির বাবা আকতার হোসেন জানান, তাদের সহায়-সম্বল বলতে এই দেড় শতক বাড়ি ও টিনের এ জীর্ণ ঘরটি। এছাড়া আর কিছুই নেই। অন্যের ফ্যাক্টরিতে তাঁতশ্রমিকের কাজ করে যে আয় হয় তা দিয়ে চলে তাদের ৪ সদস্যের সংসার।

তিনি জানান, আঁখির মা নাছিমা বেগমও চরকায় দিনরাত সূতা ভরার কাজ করেন। এতে তাদের দু'বেলা খাবার কোনোমতে জোগার করতে পারলেও ছেলে-মেয়ের পড়ার খরচ জোগার করা কোনোভাবেই সম্ভব হয়না। তাই তারা মেয়ের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত।

আঁখির বাবা আরও জানান, তৃতীয় শ্রেণিতে পড়াকালে স্কুলশিক্ষক মনছুর রহমানের অনুপ্রেরণায় শাহজাদপুরে বঙ্গমাতা স্কুল টিমে নাম লেখান আঁখি। সেই থেকে তার ফুটবল খেলা শুরু।

এরপর তিনি ২০১২ ও ২০১৩ সালে ফুটবল খেলায় রাজশাহী বিভাগীয় চ্যাম্পিয়ন হন। এরপর ২০১৬ সালে আঁখি বিকেএসপিতে চান্স পেয়ে অনুর্ধ্ব-১৪ দলের হয়ে ভারত, নেপাল, থাইল্যান্ড, ভূটান, চীন, জাপান, সিঙ্গাপুর, তাজাকিস্তান ও দক্ষিণ কোরিয়া সফর করেন। প্রতিটি খেলায়ই তিনি চ্যাম্পিয়ন শিরোপা অর্জন করেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকেও দু'বার পুরষ্কার গ্রহণ করেন আঁখি। থাইল্যান্ডের অনুর্ধ্ব-১৪ ফুটবল খেলায় তিনি স্বর্ণপদক লাভ করেন। তার এ সাফল্যে এলাকাবাসীসহ দেশবাসী আজ গর্বিত।

আঁখির মা নাছিমা বেগম বলেন, মেয়েকে কোনো দিন দু'বেলা পেট ভরে ভালো করে ভাতও খেতে দিতে পারিনি। আমাদের ভাঙা ঘরে বৃষ্টি এলে পানি পরে। শীতে ভাঙা ঘরে হু হু করে ঠাণ্ডা বাতাস ঢোকে। ভালো একটি লেপ-কম্বলও তাদের নেই।

তিনি বলেন, আঁখি ফুটবল ছাড়াও অ্যাথলেটিক্সে খুব ভালো। লং জাম্প ও হাই জাম্পেও একাধিকবার সে জেলা চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। এছাড়া সে লেখাপড়ায়ও খুব ভালো। গত জেএসসি পরীক্ষায় ৪.৬৩ পেয়ে নবম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয়েছে।

 


ঢাকা, ২৬ ডিসেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।