করোনাভাইরাসে ঢাকার ৩০ স্পট, ১২ জেলা চিহিৃত


Published: 2020-04-06 06:15:53 BdST, Updated: 2020-05-28 18:35:48 BdST

লাইভ প্রতিবেদক: মরণঘাতি করোনার ছোবল বেড়েই চলেছে। দ্রুত গতিতে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। চারদিকে কেবল আতঙ্ক আর শঙ্কা। কে কখন ধরা পড়ে করোনার জালে এই অজানা আতঙ্ক এখন সবখানে। কেবল দেশে নয় তাবৎ দুনিয়ার এই চিত্র। এ ব্যাপারে দেশের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) জানিয়েছে, গত ৫ এপ্রিল পর্যন্ত সারা দেশে ৮৯ জন ব্যক্তি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।

আইইডিসিআর ও আমাদের প্রতিনিধিদের তথ্যমতে কেবল রাজধানী ঢাকাতেই আক্রান্ত হয়েছেন অন্তত ৫৩ জন। এই ৫৩ ব্যক্তি বসবাস করেন খোদ রাজধানী ঢাকায়। বিভিন্ন সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে এপর্যন্ত ঢাকার ৩০ স্পটের নাম। এসব এলাকায় শনাক্ত হয়েছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। অন্যদিকে বাকি আক্রান্তরা বসবাস করেন দেশের ১২টি জেলায়।

তবে সরকারী ও বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার নিয়ম মেনে চললে ও সাবধানতা বাড়ালে এর আঘাত থেকে অনেকটাই রেহাই পাওয়া যাবে বলে মতামত দিয়েছেন সংশ্লিস্টরা।

আইইডিসিআর ও আমাদের প্রতিনিধিদের সূত্রে জানাগেছে সারা দেশে ৮৮ ব্যক্তি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন, যাঁদের জেলার নাম বলা হয়েছে। সুনির্দিষ্টভাবে আক্রান্ত ৫২ জন কোথায় থাকতেন সেই এলাকার নাম বললেও ২/৩ জন আক্রান্তের এলাকার নাম পরিস্কার ভাবে বলা সম্ভব হয়নি।

ঢাকার ৩০টি স্পট ও ৫৩ জন করোনাভাইরাসে আক্রন্ত হয়েছেন।
আইইডিসিআর ও আমাদের প্রতিনিধিদের সিরিয়াল অনুযায়ী স্পটগুলো হচ্ছে:

১. বাসাবোয়: ৯ জন।
২. মিরপুরের টোলারবাগ: ৬ জন।
৩. পুরান ঢাকার শোয়ারিঘাট: ৩ জন।
৪. বসুন্ধরা: ২ জন।
৫. ধানমন্ডি: ২ জন।
৬. যাত্রাবাড়ী: ২ জন।
৭. মিরপুর-১০: ২ জন।
৮. মোহাম্মদপুর: ২ জন।
৯. পুরোনো পল্টন: ২ জন।
১০. শাহ আলী বাগ: ২ জন।
১১. উত্তরা: ২ জন।
১২ মিরপুর: ১ জন

এদিকে রাজধানীর বাকি ১৯টি স্থানে একজন করে করোনা রোগীর সন্ধান মিলেছে। এ স্থানগুলো হলো হাজারীবাগ, জিগাতলা, মিরপুর কাজীপাড়া, উর্দু রোড ও ওয়ারী, মিরপুর-১১, লালবাগ, মগবাজার, মহাখালী, নিকুঞ্জ, রামপুরা, বুয়েট এলাকা, সেন্ট্রাল রোড, ইস্কাটন, গুলশান, গ্রিনরোড, শাহবাগ ও কাজী পাড়া-শেওড়া পাড়া।

আইইডিসিআর ও আমাদের প্রতিনিধিদের সূত্রে জানাগেছে প্রাণঘাতি ভাইরাসের আক্রমন করেছে দেশের অন্তত ১২টি জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে:

১. ঢাকা: ৫৫ জন ।
২. মাদারীপুর: ১১ জন ।
৩. নারায়ণগঞ্জ: ১১ জন।
৪. গাইবান্ধা : ৫ জন।

তাছাড়া বাকি ৮ জেলায় একজন কোথাও ২ জন করে ব্যক্তি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এ জেলাগুলো হলো চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, শরীয়তপুর, রংপুর, গাজীপুর, চুয়াডাঙ্গা, নেত্রকোনা ও কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন উপজেলায়।

তবে আইইডিসিআর ও আমাদের প্রতিনিধিদের সূত্রে জানাগেছে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় আঘাত হানতে পারে এই ভাইরাস। অনেকেই অসুস্থ হয়ে বাসায় থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। কাউকে জানাচ্ছেন না। নিরবে ও স্বজনদের সানিধ্যে থেকে নিরবে সয়ে যাচ্ছে আক্রান্তের আঘাত। এই চিত্রটার সঠিক হিসাব কেউ জানে না।

মীরজাদী সেব্রিনা বলেন, আপনারা জানেন মিরপুরের টোলারবাগে একজন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছিল, সেখানে আরও ছয়জন করোনায় আক্রান্ত হন। পুরো মিরপুরে এখন ১১ জনের শরীরে করোনার নমুনা পাওয়া গেছে।

এছাড়া বাসাবোতে ৯ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। তিনি বলেন, নতুন আক্রান্তরা সবাই ক্লাস্টারের (একজন রোগীকে কেন্দ্র করে তার পরিবারের সবার আক্রান্ত হওয়া) অংশ। সংস্পর্শে এসে তারা আক্রান্ত হয়েছেন। আমরা ক্লাস্টার পেয়েছি নরায়ণগঞ্জ, মাদারীপুর, গাইবান্ধা, ঢাকার বাসাবো এবং মিরপুরে।

আইইডিসিআরের তথ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৮ জন আক্রান্ত হয়েছেন, মারা গেছেন একজন।

ঢাকা, ০৫ এপ্রিল (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//বিএসসি

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।