পাবলিক ভার্সিটতে চান্স পাননি, ভালো চাকরি হয়নি?


Published: 2017-12-09 15:54:45 BdST, Updated: 2018-09-24 12:29:28 BdST

সত্যজিৎ চক্রবর্তী : পাবলিক ভার্সিটতে চান্স পাননি? ভালো চাকরিটা এবারো হয়নি? ভাবছেন জীবনটাই শেষ! বস, জীবনতো শুরু। দেশের সেরা ভার্সিটিতে পড়লেই সেরা চাকরিটা পাওয়া যায় না। সেরা চাকরিটা পেলেই কী সেরা সুখী হওয়া যায়? আপনার জীবনটা কী ওই ভার্সিটিতে চান্স পাওয়ার জন্য জন্মেছে? নাকি শুধু ভালো চাকরিটা করার জন্যই আপনার জন্ম হয়েছে? আল্টিমেটলি আমরা এতসব কিছু চাই শুধু সুখী হওয়ার জন্য। অথচ এগুলো সব পেয়েওতো অসংখ্য মানুষ অসুখে আছে। আবার এতসব না পেয়েও কেউ কেউ বেশ সুখে আছে।

যে দামি ভার্সিটিতে চান্স পেয়েছে, সে হয়তো ভালো সাবজেক্ট নিয়ে পড়তে পারেনি। যে দামি ভার্সিটিতে ভালো সাবজেক্ট নিয়ে পড়েছে, সে হয়তো ভালো চাকরিটা পায়নি। কিন্তু যে দামি ভার্সিটিতে ভালো সাবজেক্ট নিয়ে পড়ে ভালো চাকরিটা পেয়েছে, সে হয়তো সেই চাকরিতে জয়েন করেই দেখতে পেল; দামি ভার্সিটিতো দুরে থাক, যে কি-না ভালো একটা সাবজেক্ট নিয়েও পড়তে পারেনি, সে-ই ছেলেটিই এখানে তার Boss হয়ে বসে আছে। আল্টিমেটলি সবচেয়ে ভালো চাকরিটা পেয়েও সে সুখী না।

আমরা অতীত নিয়ে আফসোস করি, ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তায় থাকি; আমাদের জীবনে বর্তমান বলতে কিছুই নেই। যে ছেলেটি প্রচুর টাকা বেতনের চাকরি পেয়ে সুখি হতে চেয়েছিল, সে আজ সত্যিই লাখ টাকা বেতনের চাকরি করে। অথচ তবুও সে সুখী না। কারণ চাকরিটি তাকে লক্ষ টাকা বেতন দেয়; কিন্তু কাজের এত বেশি চাপ যে, বেতনের টাকা খরচ করার মত সে সময়ই পায় না। যে ছেলেটি জীবনকে উপভোগ করতে চেয়েছিল, তার জীবনকে উপভোগ করার মত যথেষ্ট সময় আছে। কিন্তু সে সময়কে উপভোগ করার মত তার পর্যাপ্ত টাকা নেই।

আপনি ভাবছেন প্রচুর টাকা পেলে সুখী হবেন। অথচ পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি টাকার মালিক হয়েও বিল গেটস ভিক্ষুকের চেয়েও বেশি চিন্তায় থাকেন আরো টাকার জন্য। কারণ প্রতি সেকেন্ডে তাকে চিন্তায় থাকতে হয় অন্য কেউ না জানি তাকে টপকে সেরা ধনী হয়ে যাচ্ছে! আপনি লাইফটাকে কম্পিটিশনে নামিয়ে দিলে আজীবন আপনাকে দৌঁড়ের উপর থাকতে হবে। কখনো সুখী হতে পারবেন না।

পৃথিবীর কারো সাধ্য নেই আপনাকে সুখী করার; আবার কারো ক্ষমতা নেই আপনার সুখ কেড়ে নেয়ার। সুখটা আপনার দৃষ্টিভঙ্গির ফসল। ঘটে যাওয়া ঘটনাকে কে কিভাবে দেখছে তার উপরই নির্ভর করে কেউ সুখি হয়, কেউ দুঃখী হয়। পাবলিক ভার্সিটিতে চান্স না পাওয়ার কারণে যখন আপনার মনে হচ্ছে 'জীবনটাই শেষ', তখন একবার সেই ছেলেগুলোর দিকে তাকান, যারা পাবলিক ভার্সিটি কী চিনেই না। আপনি যে এখন গ্র্যাজুয়েট হয়েছেন এটাই তাদের কাছে অনেক কিছু। পৃথিবীর অসংখ্য মা বাবা তার ছেলেকে আপনার মত গ্র্যাজুয়েট বানাতে চায়। পৃথিবীর অসংখ্য ছেলে মেয়ে আফসোস করে আপনার মত গ্র্যাজুয়েট হতে না পেরে। তার মানে আপনি নিজেই যেখানে অনেক মানুষের ড্রিম, অনেকের কাছে আপনি নিজেই একটা টার্গেট, সেখানে অযথা সামান্য এক দামি ভার্সিটিতে চান্স না পাওয়া নিয়ে আপনার মন খারাপের কী আছে!

৩ বার চেষ্টা করেও বিসিএস ক্যাডার হতে না পেরে যখন একটা সেকেন্ড ক্লাস গভর্নমেন্ট জব পেয়ে আপনার কাছে মনে হচ্ছে 'জীবনটাই বৃথা', তখন একবার সেই গ্র্যাজুয়েটদের দিকে তাকান, যারা গত কয়েকবছর ধরে আপ্রাণ চেষ্টা করছে আপনার মত একটা সরকারি চাকরি পেতে, হোক সেটা সেকেন্ড ক্লাস! বারবার চেষ্টা করেও যখন আপনি সরকারি চাকরি না পেয়ে প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি করে মনে হচ্ছে 'জীবনটাই শেষ', তখন একবার সেসব ক্যান্ডিডেটদের দিকে তাকান, যারা আপনার মত একটা জবের জন্য সিভি দিয়েও বারবার রিজেক্ট হচ্ছে। তাদের কাছে আপনি একটা হিরো।

আপনিতো তাদের কাছে রীতিমত সুপারস্টার, যারা আপনার সাথে প্রাইমারি স্কুলে ভর্তি হয়েও কলেজের বারান্দায় হাঁটতে পারেনি। গ্র্যাজুয়েশন শেষ করে আপনি যখন ভাবছেন বিসিএস দিয়ে পুলিশ বা ম্যাজিস্ট্রেট হবেন নাকি ব্যাংকের অফিসার হবেন, ঠিক তখন গ্র্যাজুয়েট হতে না পারা ছেলেগুলো পত্রিকায় খুঁজছে কোথায় দাঁড়োয়ানের পোস্টে বিজ্ঞাপন দিল, কোথায় তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিলো। আপনিতো তাদের কাছে সুপারস্টার। সুখগুলো এভাবেই খুঁজে নিতে হয়। উপরের দিকে তাকালে আপনাকে আজীবন দুঃখেই কাটিয়ে দিতে হবে। কারণ আপনি যত উপরেই উঠেন না কেন, পৃথিবীতে সবসময় কেউ না কেউ থাকবেই যে আপনার চেয়ে উপরে বসে আছে। সবচেয়ে বড় কথা, যে অবস্থায় আছেন সে অবস্থায় নিজেকে সুখি ভাবার অর্থই হলো সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করা, কারণ আপনার জীবনটা হয়তো এর চেয়েও খারাপ থাকতে পারত।

আপনি আপনার পজিশান নিয়ে আফসোস করেন বলেই, আপনার উপরের পজিশানে থাকা লোকটি ভাব নেয়ার সুযোগ পায়। আপনি যদি আপনার পজিশান নিয়ে হ্যাপি থাকতেন, তবে আপনার উপরের পজিশানের লোকটির ভাব তো এমনিতেই কমে যেত। বস, জীবন তো একটাই। পৃথিবীর সব কিছু আপনাকে দিলেওতো এই এক জীবন আপনি আর দ্বিতীয় বার পাবেন না। কেন অযথা না পাওয়া বিষয়গুলো নিয়ে আফসোস করে জীবনটাকে দুর্বিষহ করে তুলছেন? শুন্য হাতেই তো পৃথিবীতে এসেছেন। সেই শুন্য থেকে আজ পর্যন্ত যা কিছু পেয়েছেন সবই তো বোনাস।

Satyajit Chakraborty
Public Speaker & Corporate Trainer
Founder, Bangladesh Career Club
Writer, Motivational Book

ঢাকা, ০৯ ডিসেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//সিএস

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।