মৃত্যুও আজ সৌন্দর্য হারিয়েছে!!


Published: 2020-03-20 15:03:01 BdST, Updated: 2020-04-10 23:58:19 BdST

মো: রিয়াজুল ইসলামঃ শরৎ বাবুর 'বিলাসী' গল্পের নায়িকাকে আমরা দেখতে পাই মৃত স্বামীর কাছে একরাত অতিবাহিত করতে বলা হলে " ওরে ন্যাড়া আমি একলা থাকতে পারবোনা" বলে চিৎকার করে কান্নাকাটি করতে। লেখক সেখানে অট্টহাসি দিয়ে বলেছিলেন- হায়রে বিলাসী ২৫ বছর যার সাথে একঘরে বসবাস করলে আর আজকে মৃত্যুবরণ করার পর তাঁর সাথে একটি রাত থাকতে পারলেনা!! ( সুত্র- বিলাসী, লেখক শরৎ চন্দ্র)।

দীর্ঘদিন যে স্বজন- ভাই, স্বামী, সন্তান বিদেশে থেকেছে, দিনের পর দিন যে স্বজনের জন্য আত্বীয়-স্বজন অপেক্ষায় থেকেছে কবে আসবে আমার ভাই, স্বামী, সন্তান!! যে সন্তানের বা স্বামীর কাছ থেকে অর্থ নিয়েছে পরিবার বা স্ত্রী!! আজ সেই সন্তান যখন প্রাণঘাতী রোগ নিয়ে দেশে এসেছে তাঁকে রেখে স্ত্রী, আত্বীয় স্বজন পালিয়ে বেড়াচ্ছে। এই রোগ প্রমাণ করে দিলো, পৃথিবীতে নিজের জীবন সবচেয়ে দামী, নিজের জীবনের প্রতি প্রেম সবচেয়ে চিরন্তর, মধুর, নিরেট ও অমলীন! অন্য সব প্রেম, সব ভালবাসা আসলেই প্রয়োজনের ভালবাসা, প্রয়োজনের প্রেম।! সুতারাং সাধু সাবধান!! প্রেমের মরা এবার জলে ডুববেই। পৃথিবীর কোন সংগীত, যাদু কিংবা টান এখন আর কাজে আসবেনা।

মানুষ মাত্রই মরণশীল, পবিত্র কোরআন পাকেও মহান রাব্বুল আলামীন ঘোষণা করেছেন- 'প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে'। আমিও চাই সেজদারত অবস্থায় আমার মৃত্যু হোক। আমার মৃত্যুর পর কেউ না কাঁদলেও শত শত মুমিন-বান্দা এসে আমার জানাযার নামায পড়ুক। আমাকে বড়ই পাতা, নীমপাতার গরম পানিতে গোসল করিয়ে, সুঘ্রাণ মেখে সাদা কাপঁড় পড়িয়ে পরম মমতায় চির-শয়ণের স্থানে রেখে আসুক, কোরআন তেলোয়াতে হোক আমার চির-শয়ণের পাশে। আমার মৃত্যুটি হোক মুমিন-বান্দার মতন, সে মৃত্যুতে থাক শান্তির স্নিদ্ধময় সৌন্দর্য!!! নিশ্চয় মানুষই মাত্রই চাই, তাঁর সৌন্দর্যময় মৃত্যু!! এটা আমার দৃঢ় বিশ্বাস।।

তবে কেন, এই মহামারী! এই করোনা ভাইরাস?? এর অনেক অনেক কারন রয়েছে। মানুষ দীর্ঘদিন যাবৎ প্রকৃতিকে নিয়ন্ত্রণ করে যা ইচ্ছে তাই করে যাচ্ছে, প্রকৃতি তাই একটু প্রতিশোধ নিয়েছে। যদি ভবিষৎতে আরো করা হয় তাহলে এমন দুর্যোগ, এমন মহামারী বারবার ফিরে আসবে। সমাজে অনাচার, দুর্নীতি, কালো টাকার পাহাড়, সুদ-ঘুষ, রাহাজানি, অন্যের সম্পদহরণ, হানাহানি এত বেড়ে যাচ্ছিলো যে এটা সৃষ্টিকর্তার তরফ থেকে একটি সতর্কবার্তাও হতে পারে।

মানুষ যদি এরপরও মহান আল্লাহ্ ভয় না পায়, শুধু ভাইরাসকে ভয় পাই, তাহলে হয়তো এরপরে এরচেয়ে বড় বড় ভাইরাস আসবে, সেদিন আর পালানোর পথ হয়ত থাকবেনা। এই সামান্য ভাইরাস পৃথিবীকে তালমাটাল করে দিয়েছে, মৃত্যুর যাবতীয় সৌন্দর্য এক নিমিষেই উড়িয়ে দিয়েছে। কেউ মৃত ব্যক্তির কাছে যাচ্ছেনা, তাঁর কবর পর্যন্তু দিতে রাজি হচ্ছেনা। তাই আসুন, আল্লাহ্ পাকের পথে ফিরে আসি, ধনী-গরীবের ব্যবধান কমিয়ে আনি। নিজে সৎ থাকি, অন্যকে সৎ থাকতে উৎসাহ প্রদান করি।। আমীন।।

লেখকঃ মো: রিয়াজুল ইসলাম
প্রভাষক, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় ।

ঢাকা, ২০ মার্চ (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//টিআর

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।