স্বপ্ন পুরণের সেই রাজপূত্র-০১


Published: 2019-07-08 21:25:21 BdST, Updated: 2019-10-17 16:41:54 BdST

জাহিদুল ইসলাম শিশির : সুপারম্যান । স্বপ্ন পুরণের রাজপূত্র। নিজের ভালোর চেয়ে সে সব সময় অন্যেও ভাল করার কাজে রত থাকেন। যাকে দেখলেই পালিয়ে যায় সব অশনি । থেমে যায় সব অশুভ তৎপরতা। জীবনের পরতে পরতে যার অনেক ক্ষমতার বাহাদূরি। কিন্তু নিজের জন্য কোন ক্ষমতা সে ব্যবহার করে না। কারো অর্থ রুপ লাভে তিনি থাকেন নির্মাহ। প্রকৃতির প্রতিটি সদস্য যার প্রতি থাকেন অনুগত। রুপকথা বা কল্পনার জগতে তিনি থাকেন সবার কাঙ্খিত হয়ে। সবাই তাকে বলেন সুপার ম্যান।

গল্পের দানবেরা যখন পাখা মেলে দলিত করতে থাকে জনপদের পর জনপদ! নারি শিশু বৃদ্ধ বণিতা যখন হা হা কার করতে থাকে। একজন ত্রাণ কর্তার অপেক্ষা করেন সবাই। ঠিক সেই সময় সবার চোখের বা কল্পনার অলক্ষে এসে হাজির হন সুপারম্যানেরা। তার উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যেতে থাকে দানবের দল বা অনুচরেরা। কিন্তু সুপারম্যান সবাইকে পালিয়ে যেতে দেন না। পালের গোদা দু একটিকে ধরে ফেলেন।শাস্তি দেন। এতে স্বস্তি ফিরে আসে লোকালয়ে বা সভ্যতায়। অসুরের রাজ্যে ফিরে আসে দেবদূতের প্রশান্ত পরিবেশ। সাধারণ মানুষ মেতে থাকে সুপার ম্যানের বন্দনায়। দেবতার আরাধনায় সময় কাটে তাদের।

গল্প রুপকথার সুপারম্যানদের ধরা না গেলে বাস্তব সংসারের সুপারম্যানদের ধরা যায়। স্পর্শ করা যায়। এরা পাল্টে দেয় একটি জীবন ।একটি সমাজ বা একটি দেশ। একটি দিশা হারা জাতির জীবনে কোন একজন সুপারম্যান একে দেন প্রশান্তির নিশানা।

বাস্তব সংসারের সেই সব সুপারম্যানদের চিনতে গ্রহ থেকে গ্রহ ঘুরে বেড়াবার প্রয়োজন নেই। আপন বলয়ে আপন সংসারের সুপারম্যানকে চিনলেই হলো। তিনি কে । কি কারণে তিনি সুপারম্যান!কি ভাবেই বা তিনি পাল্টে দেন একটি জীবন একটি সমাজ। একটি দেশ!
গভীর নিরীক্ষা আর গবেষনা না করেই বাস্তব সংসারের সুপারম্যানদেরকে আমরা দুভাগে ভাগ করতে পারি।
১. পিতা
২. শিক্ষক
পিতা : বাবা যে কোন সন্তানের জীবনে অবশ্যই সুপারম্যান হিসেবে পরিচিত। প্রিয় সন্তানের হাত ধরে হাটা শেখানোর শুভ মুহুর্ত থেকে সন্তানের চিন্তা বা কল্প জগতের সব কিছু সম্ভব করে থাকেন একজন পিতা। এটা তারপক্ষে সম্ভব বলেই বিশ্বাস থাকে শিশু সন্তানের। তাই সব আব্দার, সব আবেদন তার পিতার কাছেই ঘুর পাক খেয়ে থাকে।

জীবন বোধের মোহন বাতিটি এখানেই প্রজ্জ্বলিত হয়। পিতার প্রশান্ত ও নিরাপদ ছায়ায় শিশুর স্বপ্ন বড় হতে থাকে। পিতার নির্মোহ জীবন সন্তানকে নিরাপদ দেবালয়ের মতোই ঘিরে থাকে সারাটা সময়।

প্রথম সুপারম্যানের ক্যাম্পাস পার হতে না হতেই আর্শিবাদ দয়া, স্নেহ ভালোবাসা আর বিশাল জীবন ক্যাম্পাসের স্বপ্ন পুরণ করতে ছুটে আসেন দ্বিতীয় সুপার ম্যান। তিনি শিক্ষক। তিনি দ্বিতীয় পিতা। জ্ঞানের রাজ্যে তিনি প্রিয় ছাত্রকে হাটি হাটি পা পা করে সাতার কাটতে শেখান। জীবন জগতের আলো আধাঁরির সব জ্ঞান সব নির্দেশনা একজন ছাত্র প্রিয় শিক্ষকের নিকট থেকেই শিখে থাকেন।

পিতা ও শিক্ষক নামক এ সুপারম্যাদের নির্মাহ ত্যাগ আর স্নেহ ভালোবাসার ডানায় ভর করেই প্রতিটি শিশু একদিন স্বপ্ন দেখেন, স্বপ্ন পুরণ করেন। সামাজ রাষ্ট্রকে বদলে দিতে তারা যার যার জায়গা থেকে দায়িত্বশীল হয়ে ওঠেন। এদেরই স্পর্শে অনুপ্রেলনায় যুদ্ধ জাড়ায় সৈনিক। বিমান চালায় বৈমানিক। গবেষক হয়ে কেউ আবিষ্কার করে। কেউ মাটির বুক চিরে ফসল ফলায়। সব মিলে পিতা ও শিক্ষক নামক এ সুপারম্যনরাই সভ্যতায় আলো জ্বেলে দিয়েছে সব সময় সব যুগে।

কিন্তু সময়টা বড়ই যেন অন্য রকম। এখন সুপারম্যানদের অনেকেই প্রশ্নবানে বিদ্ধ হচ্ছেন। পিতা নামক সুপারম্যানরা পরকীয়ায় জড়িয়ে শিশু সন্তানকে ফেলে দিচ্ছন অতল অন্ধকারে। শিক্ষক নামক সুপারম্যনরা হয়ে উঠছেন ধর্ষক, ক্রীড়ানক, প্রতারক।

আমাদের এই সম্পীতির বাংলাদেশে অতি সম্প্রতি সময়ে শিক্ষককের ধর্ষণ সংবাদে আতঁকে উঠতে গিয়েও থামতে হচ্ছে। ভাবতে হচ্ছে এটাও কি সম্ভব!একজন নিষ্পাপ শিশুকে যিনি অভয় দিবেন, আশ্রয় দিবেন, শেখাবেন অজানা জীবনের চ্যালেঞ্জ মোকাবলোর সব সূত্র। তিনিই ধর্ষণ লীলায় মত্ত হয়ে শেষ করে দিচ্ছেন শিশুর সব স্বপ্ন। সব আকাঙ্খা। বিশ্ব চ্যালেহ্জ দুরে থাক নিজ জীবনের উপরই বীত শ্রাদ্ধ হয়ে পড়ছে শিশু। তাহলে সভ্যতার দৗঁড়ে আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বা প্রগতির ক্ষিপ্রতায় তাল মেলাতে পারবে কি আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম!

যে গতিশীল জীবনের কামনায় আমরা এতসব করছি সে গতি শুরুর আগেই কি থমকে যাচ্ছে আমাদের অভিয়াত্রা। শুরুর আগেই কি বেজে যাচ্ছে সমাপ্তির হুইসেল! সময় এসে কঁড়া নাড়ছে। বেগের গতিকে ধারণ করতে গিয়ে আমরা কি আবেগ হত্যার মিশনে নেতৃত্ব দিতে শুরু করলাম? যদি তাই হয়, তাহলে নতুন সুপারম্যানদেরকে তাদের জাযগায় ফিরে যেতে দিতে হবে। পিতা পরকীয়ায় মত্ত হবে না। শিক্ষক ধর্ষক হবে না। এ স্পেসটুকু আপাতত দিতে হবে। না হলে সর্বনাশের বেপরোয়া হওয়ায় সবকিছুই লন্ড ভন্ড হতে বাধ্য। তখন প্রয়োজন হীন হয়ে পড়বে আমাদের গতি সৃষ্টির বা বিশ্ব সভ্যতায় সম্মানের আসন পাতার সব আয়োজন।

নতুন করে ভেবে দেখতে হবে পিতা কেন পরকীয়ায় মত্ত হচ্ছে আর শিক্ষক কেন ধর্ষক হয়ে উঠছেন। এখানের বাস্তবতা কতটা গভীর নাকি এর পেছনেও রয়েছে ভিন্ন কোন খেলা ভিন্ন কোন আয়োজন!
চলবে .......

লেখকঃ
জাহিদুল ইসলাম শিশির
সিনিয়র সাংবাদিক

ঢাকা, ০৮ জুলাই (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//আরএইচ

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।