নির্বাচনী ভাবনা : বেসামাল ছাত্র সংগঠন ঢেলে সাজাতে ১১ প্রস্তাব


Published: 2018-12-27 12:03:58 BdST, Updated: 2019-03-22 23:11:13 BdST

রেজাউল হক নাঈম : যদিও অতীত ইতিহাস অন্যরকম, বর্তমানে প্রায়ই আমাদের দেশীয় রাজনৈতিক ছাত্রসংস্থাগুলোর তাণ্ডবে আঁতকে উঠে পুরো দেশ। এ যেন মনে হয় দেশী মানবসম্পদ দিয়ে দেশেরই ক্ষতিসাধন। নানা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে বেড়ে উঠা রাজনীতিবিদরাই অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেশের রাজনৈতিক কর্ণধার হন।

কোন দলই তাদের ছাত্রগঠনকে কিভাবে ঢেলে সাজাবেন এ ব্যাপারে কখনো কোন বক্তব্য আজ অবধি দেননি। ছাত্রসংস্থাকে কিভাবে জনগণের আস্থাভাজন করার পাশাপাশি দেশের ও জনগণের কাজে লাগানো যায় তার কিছু উপায় তুলে ধরলাম। যে কোন দল ইচ্ছা করলে তাদের ইশতেহারে এসব যোগ করে নিতে পারে।

১) বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক ছাত্রসংস্থার সাধারণ কর্মী হিসাবে যোগ দানের জন্য নূন্যতম মেয়াদী (যেমন মাঘের শীতে বা গ্রীষ্মকালীন ৩০-৫০ ঘন্টা) জনসেবামূলক কাজের অভিজ্ঞতা যোগ করে দেওয়া উচিৎ।

ব্যাখ্যা : একজন রাজনীতিবিদের জীবনের একমাত্র উদ্দেশ্য হলো জনসেবা ও দেশপ্রেম। দেশপ্রেমের নিদর্শন হিসাবে ছাত্রজীবনে রাজনৈতিক অঙ্কুরোদগমের সময় অবশ্যই বিভিন্ন মেয়াদী ২-৩ টি জনসেবা সনদ জমা দিতে হবে। এতে প্রকৃত দেশপ্রেমী ছাত্রদের নিয়ে গঠিত রাজনৈতিক দলের প্রতি সাধারণ মানুষের ভক্তি বাড়বে।

২) ছাত্র রাজনীতির সাথে জড়িত হওয়ার সময় যে দলে অংশগ্রহণে ইচ্ছুক সে দলের আদর্শের উপর একটি লিখিত পরীক্ষা নেয়া যেতে পারে।

ব্যাখ্যা : হুজুগে, ক্ষমতার বাহার দেখে যাতে সুযোগ সন্ধানীরা দলে গোষ্ঠীবদ্ধ হতে না পারে, সেজন্য আগ্রহীদের দলের নীতি, আদর্শ ও কিংবদন্তী জাতীয় নেতার নানান ত্যাগের উপর লিখিত পরীক্ষা নেওয়া যেতে পারে। এদের দেশের তথা দলের ইতিহাস ঐতিহ্য সম্পর্কে ছাত্রদের ধারণা হবে।

৩) কেন রাজনীতিতে ইচ্ছুক সে মর্মে একটি বিস্তারিত রচনা জমা দিতে হবে।
ব্যাখ্যা : এতে করে নতুন কর্মীর রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সৎ নাকি অসৎ তা সম্পর্কে কিছু ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

৪) অতি উচ্চ পদের প্রার্থী যেমন : বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি, সহ সভাপতি বা অন্যান্যদের ক্ষেত্রে :
উপরোক্ত তিনটি ছাড়া ও নানা ধরণের সঙ্কট নিরসণে আগ্রহীদের কাছ থেকে প্রপোজাল চাওয়া যেতে পারে। যে যত সুন্দরভাবে সমস্যা সমাধানের পথ বর্ণণা করবে সেই সর্বোচ্চ পদে আসিন হবার যোগ্যতা রাখবে।

ব্যাখ্যা : প্রায়ই ছাত্রনেতাদের টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজির টাকা ভাগ বাটোয়ারায় কোন্দলে জড়াতে দেখা যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক পদের প্রার্থীদের কাছে দেশের নানা সমস্যা যেমন : ঢাকা শহরের যানঝট সমস্যা, ভিক্ষাবৃত্তি, জনসংখ্যাকে কিভাবে সম্পদে পরিণত করা যায়, রাজনৈতিক সহাবস্থান বাড়ানো, নির্লজ্জ রাজনৈতিক মিথ্যাচার, ক্ষমতার অপব্যবহার বা দীর্ঘায়িত করাসহ আরো নানা সমস্যা সমাধানের উপায় চেয়ে লিখিত প্রপোজাল চাওয়া যেতে পারে। বিজয়ী প্রার্থীর পরিকল্পনা মিডিয়া তথা জনসমক্ষে ফলাও করে প্রকাশ করা যেতে পারে।

৫) দেশের সঙ্কটময় মুহূর্তে একজন ছাত্র রাজনীতিবিদ হিসেবে কি কি বিষয়ে অবদান তার জন্য নানা গবেষণা কর্মকাঠামো বের করা যেতে পারে।
ব্যাখ্যা: এতে করে একজন ভবিষ্যত জনসেবক হিসেবে কোন বিভাগে তার আগ্রহ, আদিপত্য ও দক্ষতা আছে তা জানা যাবে।

৬) বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩য় বর্ষের আগে কোন ছাত্র রাজনীতিতে যোগদান করতে পারবে না, শুধুমাত্র তৃতীয় বর্ষেই সাধারণ কর্মী হিসাবে শর্ত ১,২,৩ পূরণকল্পে যোগ দিতে পারবে।
বর্তমান রাজনৈতিক শোডাউনে বিপদজনক পরিস্থিতিতে ১ম ও ২য় বর্ষের ছাত্রদের সব সময় সামনে দেওয়া হয়। এতে অনেকে ছাত্র বিনা কারণে রাজনৈতিক সহিংসতায় সংশ্লিষ্টটা না থাকলে ও আহত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম দুই বছর পরিস্থিতি বুঝতে ও জনসেবামূলক অভিজ্ঞতা অর্জনে সময় দিতে হবে।

৭) ভেঁড়ার পালের মতো ঝাঁকে ঝাঁকে কোন কারণ ছাড়াই নৈরাজ্য সৃষ্টি করার জন্য যাতে কেউ দলে যোগ দিতে না পারে তার জন্য নূন্যতম জিপিএ বেঁধে দেয়ার নিয়ম করা যেতে পারে।

৮) ১ম বা ২য় বর্ষে দলে যোগ দানের জন্য যারা অতিআগ্রহী, তাদের জনসেবামূলক কাজের অভিজ্ঞতা সাধারণদের চেয়ে বেশি হলে যোগ দিতে পারবে।

৯) টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, চুরি, চিনতাই ও মাদকে আসক্তিসহ নানা ন্যাক্কারজনক কাজে যুক্ত হওয়া কেউ কোন ছাত্র সংগঠনে কখনো যোগ দিতে পারবে না, এবং সদস্য থাকা অবস্থায় কেউ এসব কোনটির সাথে যুক্ত প্রমাণিত হলে তাকে নির্দিষ্ট পরিমাণ জনসেবামূলক কর্মঘন্টা পূরণপূর্বক দল থেকে বহিষ্কারের আদেশ রহিত থাকবে, অন্যথায় সদস্য পদ বাতিল হবে।

১০) খাই খাই রাজনীতি, জ্বালাও পোড়াও, ক্ষমতার অপব্যবহার, অবৈধভাবে ক্ষমতা দীর্ঘমেয়াদী করা, অবৈধ অর্থ পাচার, নানা রকম অবৈধ চেতনা ব্যবসার মতো জঘন্য কাজে জনরোষাণলের শিকার হয়ে দেশান্তরি ও জেলে অন্তরীণ নেতা-নেত্রীদের করুন দশা ও জাতীয় বীরদের জীবন আলোচনা পূর্বক স্বান্ধ্যকালীন সাটিফিকেট কোর্স পরিচালনা করা যেতে পারে। যেখানে মাঝে নানা কেস স্টাডি দিয়ে ছাত্ররা সঠিক পথে চিন্তা করে কিনা তা মূল্যায়ন করা যাবে।

১১) ক্ষমতায় থাকাকালীন জনগণ ও বিরোধী মহলের সমালোচনা সহ্য, সত্যকে সত্য, মিথ্যাকে মিথ্যাসহ সততার চর্চার করার জন্য পলিটিক্যাল ইথিক্স কোর্স ম্যান্ডাটরি করা যেতে পারে।

জনসেবামূলক কাজের কয়েকটি নমুনা : জনগণের আস্থাভাজন হতে হলে জনগণের জন্য ঘাম ঝরাতে হবে, রোদে পুড়তে হবে, বৃষ্টিতে ভিজতে হবে, বিশেষ করে কমিটির সদস্যদের এমন সেবা বাধ্যতামূলক।

ক) কাঠ ফাটা রোদে বা বৃষ্টিতে নূন্যতম ১৫ থেকে ২০ ঘন্টা ব্যস্ত ট্রাফিক সিগনালে পুলিশকে সহায়তা।

খ) প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপর্যস্ত কমিউনিটিকে পুনর্বাসনে সহায়তা করা।

গ) প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রাথমিক বা হাই স্কুলে বেতনহীন নির্দিষ্ট কর্মঘন্টা শিক্ষকতা করা ইত্যাদি ইত্যাদি...

লেখক : রেজাউল হক নাঈম
Teaching assistant
Purdue University

ঢাকা, ২৭ ডিসেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//সিএস

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।