ভাল নেই চীন ফেরত শিক্ষার্থীরা


Published: 2020-07-07 11:28:06 BdST, Updated: 2020-08-06 01:36:54 BdST

করোনা পরিস্থিতির কারণে যেন থমকে আছে সারা পৃথিবী ৷ চীনের উহান শহরে প্রথম প্রাদুর্ভাব শুরু হয় করোনাভাইরাসের ৷ এরপর আস্তে আস্তে ছড়িয়ে পড়ে অন্যান্য দেশগুলোতে। এ কারণে চীনে অবস্থানরত অন্যান্য দেশের শিক্ষার্থীদের মতো বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরাও শুরুতেই অনেকে দেশে ফিরে আসেন ৷ আবার অনেকেই করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের আগেই দেশে ফিরে পরিস্থিতির কারণে আটকে গেছেন। এরই মাঝে অতিবাহিত হয়েছে কয়েকটি মাস ৷ তারা এখন ভা্ল নেই। দুশ্চিন্তায় সময় কাটছে তাদের। কেমন আছেন চীন ফেরত শিক্ষার্থীরা, পড়ালেখার অবস্থা কি, কোন কোন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন কি না, চায়নায় ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা আছে কি? তারা জানিয়েছেন তাদের সুখ দু:খের নানামুখি তৎপরতার কথা। তাদের তৎপরতা তুলে ধরেছেন আমাদের প্রতিনিধি। এমন সব প্রশ্ন এবং উত্তর নিয়ে ক্যাম্পাসলাইভ টুয়েন্টি ফোর ডটকমের চীন প্রতিনিধি জাহিদ হাসান তুহিনের সাথে কথা বলেছেন চীন ফেরত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা।

ক্যাম্পাসলাইভ: যখন চীনে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হয়েছিলো তখন কেমন অনুভব করেছিলেন?

জবাব: - মোঃ আজম হোসেন, শিক্ষার্থী, ইউনান ল্যান্ড রিসোর্স এন্ড ভোকেশনাল কলেজ ইয়াংজং লেক ক্যাম্পাস। তিনি বলেন, "প্রথম প্রথম স্বাভাবিক মনে হয়েছিলো। কিন্তু যখন আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকে তখন মানসিকভাবে ভেঙে পড়ি। পরিবারের সবার কথা খুব মনে পড়ে। আমার মতো আমার বন্ধুদেরও একই অবস্থা হয়৷ তাই সবার সামনে নিজেকে সাহসী হিসেবে উপস্থাপন করে তাদেরকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করতাম। কলেজ কর্তৃপক্ষ আমাদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেওয়ার কথা বললেও মনকে মানাতে পারিনি।"

মোঃ আজম হোসেন

 

ক্যাম্পাসলাইভ: চীন থেকে বাংলাদেশে আসার পর অনুভূতি কেমন ছিলো?

জবাব: তাহমিদা ইসলাম তামান্না, শিক্ষার্থী, হেবেই কলেজ অব ইন্ডাস্ট্রি এন্ড টেকনোলজি, সিজিয়াজোয়াং সি, হেবেই বলেন, "চীন থেকে আসার পর যেন বন্দী খাঁচা থেকে মুক্তি পেয়েছি। কারণ ভাইরাসের সংক্রমণের শুরুতেই যেইভাবে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে চলেছিলো,ঠিক সেইভাবে আমাদের দুশ্চিন্তা ও বাড়তে থাকে৷ নিজেরা দুশ্চিন্তায় থাকলেও বাড়িতে বুঝতে দিতাম না৷ কিন্তু কথা বলার সময় বুঝতে পারতাম আমাদের নিয়ে কতটা দুশ্চিন্তায় আছে তারা৷ ওই সময়টাতে বুঝেছি বন্দী জীবনের কষ্ট কতটুকু। কারণ কলেজ কর্তৃপক্ষ আমাদের নিরাপত্তার স্বার্থে আমাদের খুব নজরদারিতে রাখতো। রুম থেকে বাহির হওয়া নিষেধ ছিলো৷ তখন পরিবারের সান্নিধ্য খুব মিস করছিলাম। রুমে বন্দী জীবনে অতিষ্ঠ হয়ে গিয়েছিলাম। বাংলাদেশে আসার পর ঘরে থাকলেও পরিবারের কাছাকাছি থাকার কারণে মানসিক প্রশান্তি ফিরে পেয়েছি নতুন করে।"

ক্যাম্পাসলাইভ: বাংলাদেশে আসার পর প্রতিবেশী বা বন্ধু-বান্ধবের আচরণ কি স্বাভাবিক ছিলো নাকি পরিবর্তন খেয়াল করেছেন?

তাহমিদা ইসলাম তামান্না

 

জবাব: ফাইজুল ইসলাম, শিক্ষার্থী, চংশিং ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি, চংশিং বলেছেন, "বেশির ভাগ মানুষই অস্বাভাবিক আচরণ করেছিলো।বাংলাদেশে আসার পর নিয়ম মেনে কোয়ারান্টাইনে থাকার পর যখন স্বাভাবিক জীবনযাপন শুরু করলাম ঠিক তখনই যেন মানসিক অত্যাচার বেড়ে গেলো। মানুষের মধ্যে একটা ধারণা তৈরি হয়ে গিয়েছিলো চীন থেকে আসা মানেই আমরা করোনা আক্রান্ত। অনেক প্রতিবেশী বন্ধু-বান্ধব আমাদের এড়িয়ে চলতো যদিও তখন বাংলাদেশের সংক্রমণ শুরু হয়নি এবং আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনেই চলতাম। সবার এমন আচরণে নিজের কাছে খুব খারাপ লাগতো। মনে হতো যেন চীন থেকে এসে আমি বড় অন্যায় করে ফেলেছি। মানসিক শান্তি পাওয়ার জন্য দেশে আসলাম, কিন্তু হয়েছে তার উল্টো।"

ক্যাম্পাসলাইভ: আপনি তো উহানে ছিলেন এবং নিজ চোখে উহানের পরিস্থিতি দেখেছেন। উহান এবং বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে সচেতন থাকার প্রবণতা কেমন তফাৎ দেখছেন?

ফাইজুল ইসলাম

 

জবাব: মোহাম্মদউল্যাহ, শিক্ষার্থী, উহান ইনস্টিটিউট অব শিপ বিল্ডিং টেকনোলজি, উহান, হানিয়াং, হুবেই বলেন,  "রাতে দিনে পার্থক্য৷ বাংলাদেশে হাট-বাজার, শপিংমল, চায়ের দোকান দেখলে তো মনে হয় সবকিছু স্বাভাবিক। মানুষ চোর পুলিশ খেলা করে৷ পুলিশ দেখলে পালিয়ে যায়৷ মনে হয় যেন পুলিশের সাথে করোনা রয়েছে৷ অন্য সময় করোনা থাকে না। অন্যদিকে চীনের উহানে সরকারি কর্তৃপক্ষ যেমন সময় উপযোগী সিদ্ধান্ত নিতো মানুষও সেই সাথে সচেতন থাকতো পুরোপুরি।"

ক্যাম্পাসলাইভ: বাংলাদেশের পরিস্থিতি দেখে চীনের অভিজ্ঞতার আলোকে নিজস্ব দায়বদ্ধতা থেকে কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন কি?

মোহাম্মদউল্যাহ

 

জবাব: ফয়সাল মাহমুদ, জিয়াংসু এগ্রি-এনিম্যাল হাজবেন্ডারী ভোকেশনাল কলেজ, থাইজু, জিয়াংসু, চায়না বলেছেন, "আমরা বাংলাদেশের মানুষ। নিজেদের স্বপ্ন পূরণের জন্য অন্য দেশে পাড়ি জমালাম। যেহেতু আমরা চীনে ছিলাম এবং চীনের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার সুযোগ হয়েছে। আমরা দেখেছি তাদের সরকারি আইন এবং সাধারণ মানুষের আইনের প্রতি কতটা শ্রদ্ধাশীল। করোনা পরিস্থিতিতে তাইতো সাধারণ জনগণ সরকারি নির্দেশ মেনে সচেতন ছিলো। যার কারণে তাদের দেশে প্রথম সংক্রমণ হলেও অন্যান্য দেশের তুলনায় সহজেই তারা নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়েছে।

বাংলাদেশে নিজ এলাকায় চীনের অভিজ্ঞতার আলোকে মানুষকে সচেতন করার জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছি৷ অনলাইন,অফলাইনে সচেতন মূলক কাজ করেছি। কিন্তু বড় আফসোসের সাথে বলতে হয়, যখন সচেতন করতে সবার দ্বারে দ্বারে যেতাম তখন উল্টো মানুষের ঝাড়ি খেতাম। তবুও থেমে থাকিনি এলাকার সচেতন তরুণদের নিয়ে মানুষকে সচেতন করার কাজ অব্যাহত রাখি।"

ক্যাম্পাসলাইভ: দেশে ফিরে আসার কারণে পড়ালেখার উপর কোনো প্রভাব পড়েছে কি?

ফয়সাল মাহমুদ

 

জবাব: শান্তা আক্তার, গুইজো ভোকেশনাল এন্ড টেকনোলজি কলেজ অব ওয়াটার রিসোর্স এন্ড হাইড্রোপাওয়ার, গুইজো, গুইইয়াং, ছিংজাং খোলামেলাই বলেছেন, "চীন থেকে ডিসেম্বরে শীতের ছুটিতে দেশে আসলাম। বাংলাদেশে আসার পর ছয় মাসের ও বেশি সময় কেটে গেলো। বাংলাদেশসহ পৃথিবীর অন্যান্য দেশের পরিস্থিতি খারাপ হতে থাকে। আর আমাদের ও চায়না যাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। চীন লকডাউন শেষ করে তাদের পড়ালেখার কার্যক্রম শুরু করার সিদ্ধান্ত নেয়।

কিন্তু অবস্থার অবনতির কারণে আমরা যেহেতু যেতে পারবো না তাই চীন সরকার এবং কলেজ কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমাদের অনলাইনে ক্লাস কার্যক্রম শুরু হয়। তাদের অনলাইন ক্লাস সিস্টেম উন্নত হলেও আমরা বাংলাদেশে থাকায় বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হয়েছি। বিশেষ করে যারা অজয় পাড়া গ্রামের।

আমাদের নেটওয়ার্ক সিস্টেম দুর্বল হওয়ায় ঠিক সময়ে ক্লাসে অংশগ্রহণ করা অসম্ভব ছিলো। তারউপর আমাদের প্রতিষ্ঠানের নিয়ম অনুযায়ী আমাদের পড়ালেখা হয় চাইনিজ ভাষায়। আমরা চাইনিজ ভাষা শিখলেও পুরোপুরি শেখা সম্ভব হয়ে উঠেনি৷ তাই ভাষাগত সমস্যাটা সামনে আসে। যেটা চীনে থাকলে তেমন কোনো ঝামেলা হতো না।এছাড়া যেহেতু আমাদের পড়ালেখা অনেকটা প্রাকটিক্যালি হওয়ার কথা কিন্তু চলমান পরিস্থিতির কারণে আমরা এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছি।

বিষয়টা অনেকটা এমন যে অনলাইনে ক্লাস করে যদি ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হওয়া যেতো তাহলে তো আর স্কুল-কলেজের প্রয়োজনই ছিলোনা। কিন্তু হয়েছি পরিস্থিতির স্বীকার। তাই তো আমাদের পড়ালেখার কার্যক্রম অনলাইনের মাধ্যমে চলমান রয়েছে, হচ্ছে সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা। চাইনিজ স্টুডেন্টরা নিজ নিজ কলেজে ফিরে গেছে। কিন্তু আমাদের বেলায় অনির্দিষ্টকালের জন্য সবকিছু বন্ধ আছে। তাই আমরা এবং পরিবারের সদস্যরা আমাদের লেখাপড়া আর ভবিষ্যৎ নিয়ে খুবই চিন্তিত। এখন শুধু আল্লাহর কাছে দোয়া করে থাকতে হচ্ছে সুদিনের অপেক্ষায়।"

ক্যাম্পাসলাইভ: আপনার তো গ্রাজুয়েশন সম্পূর্ণ হওয়ার কথা। এই সময়টা জীবনের গুরুত্বপূর্ণ স্মরণীয় মুহূর্তগুলোর অন্যতম। গ্র‍্যাজুয়েশন অনুষ্ঠান এবং অন্যান্য কার্যক্রম থেকে যে বঞ্চিত হচ্ছেন এই জন্য আফসোস থেকে যাচ্ছে কি?

শান্তা আক্তার

 

জবাব: মাকসুদুর রহমান, শিক্ষার্থী, জিয়াংসু এগ্রি-এনিম্যাল হাজবেন্ডারী ভোকেশনাল কলেজ। থাইজু,জিয়াংশু, চায়না বলেন, "গ্রাজুয়েশন সম্পূর্ণ হওয়ার বাকি মাত্র তিন মাস ছিলো। খুব চিন্তায় পড়ে যাই আসবো নাকি আসবো না। কিন্তু পরিবারের কথা ও সবকিছু বিবেচনা করে চলেই আসলাম বাংলাদেশে। অনলাইনের মাধ্যমে আমাদের বাকি শিক্ষা কার্যক্রম সম্পন্ন হয়৷ চীনে থাকলে হয়তো আমরা এখন গ্র‍্যাজুয়েশন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতাম।সবার সাথে সীমিত পরিসরে হলেও আনন্দে শরিক হতাম। স্মৃতির পাতায় বন্দী হতো কিছু স্মরণীয় মুহুর্ত। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে সবকিছু থেকে বঞ্চিত হয়েছি। কিছুটা আফসোস থাকলেও কি আর করা হাসিমুখেই বরণ করে নিতে হবে। আর অপেক্ষায় রয়েছি সার্টিফিকেটের জন্য৷ কলেজের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমাদের ঠিকানায় পাঠিয়ে দেওয়া হবে তিন বছরের সাধনার ফল।

ক্যাম্পাসলাইভ: চীনে যাওয়ার পরিকল্পনা কি?

মাকসুদুর রহমান

 

জবাব: আমান উল্লাহ, নানজিং ভোকেশনাল সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি কলেজ, নানজিং, চায়না ক্যাম্পাসলাইভকে বলেছেন,  "আমরা চলমান পরিস্থিতির কারণে অধিকাংশ শিক্ষার্থীরা চলে এসেছি। তখন বিমানের টিকেটের মূল্য বেশি থাকলেও পরিবার আমাদের কথা চিন্তা করে আমাদের নিজ খরচে দেশে ফিরিয়ে আনে৷ যদি ও উহান থেকে বিশেষ ফ্লাইটে সরকারিভাবে কিছু শিক্ষার্থীকে নিয়ে আসা হয়৷ কিন্তু আমরা অন্যান্য সিটি/প্রদেশের শিক্ষার্থীরা নিজ খরচেই দেশে আসতে হয়। হয়তো পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আমরা আবারো ফিরে যাওয়ার ডাক পড়বে৷ চীনে যাওয়ার প্রবল ইচ্ছা। কিন্তু আমরা যারা মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তান রয়েছি আমাদের অনেকেরই স্বপ্ন থমকে যাবে অর্থের কাছে। হয়তো শেষ মুহূর্তে এসে এমন পরিস্থিতিতে ভেঙে যাবে আমাদের ডাক্তার,ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার আশা। তাই সরকারের কাছে অনুরোধ করবো চীনে ফিরে যাওয়ার সময় আমাদের বিশেষ সুবিধা দিয়ে টিকেটের মূল্য আমাদের আয়ত্ত্বে রেখে আমাদের স্বপ্নের পথে ছুটে চলার সুযোগ করে দেওয়া হোক৷ যেন উচ্চ শিক্ষা শেষ করে আমরা দেশে ফিরে এসে আবার দেশমাতৃকার সেবায় নিয়োজিত হতে পারি।"

আমান উল্লাহ

 

 

 চীনে করোনাভাইরাসের উৎপত্তিস্থল হলেও এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে চীন ফেরত কোনো শিক্ষার্থী আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে তাদের নিজেদের সচেতনতা এবং পরিবারকে সচেতন করে রাখতে পারার কারণেই এখন পর্যন্ত সুস্থভাবে জীবনযাপন করছে তারা। করোনা মহামারী কেটে গিয়ে সুস্থ হোক পৃথিবী। স্বাভাবিক হোক মানুষের জীবনযাত্রা। নিজেদের স্বপ্ন আশা পূরণ করতে আমাদের নিরাপদ থাকতে হবে, করতে হবে সবাইকে সচেতন।

ঢাকা, ০৭ জুলাই (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//জেডএইচটি//এআইটি

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।