"মুসলিম নই, তবু প্রতিবাদ ছাড়ব না"


Published: 2019-12-17 20:39:38 BdST, Updated: 2020-04-08 08:47:55 BdST

ইন্টারন্যাশনাল লাইভ: নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরুদ্ধে উত্তাল হয়ে উঠেছে ভারত। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে চলছে উত্তেজনা। ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বাতিলের আন্দোলনে অংশ নিচ্ছেন কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। সম্প্রতি বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয় এবং হায়দরাবাদের মওলানা আজাদ উর্দু বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। এতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে বাধা দেয়ায় পুলিশের সঙ্গে কয়েক দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এছাড়াও দিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পুলিশ প্রবেশ করে শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের মারধর করার প্রতিবাদে প্রায় গোটা দেশেই ছড়িয়ে পড়েছে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ।

পুলিশ ঢুকেছিল ক্যাম্পাসে ঢুকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর চালায় দমন পীড়ন। তাদের মারমুখী চেহারার সামনে কেউ আঘাত পেয়েছেন। কেউ লুকিয়ে প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টা করেছেন। তবে নাগরিকত্ব আইন সংশোধনের (সিএএ) প্রতিবাদ থেকে সরে আসেননি জামিয়া মিলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কেউই। প্রতিবাদী সেই মুখগুলোর মধ্যে উজ্জ্বল কয়েক জন ছাত্রী।

পুলিশি নির্যাতনের শিকার বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী অনুজ্ঞা ঝা গণমাধ্যমকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে ক্যাম্পাসে আন্দোলনের করুণ চিত্র। অনুজ্ঞা ঝা আইন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। বিশ্ববিদ্যালয়ের হস্টেল ছাড়ার আগে কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলেন, ‘‘মনে হয়েছিল, দিল্লি পড়ুয়াদের জন্য সব চেয়ে নিরাপদ জায়গা। একটা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়। আমাদের কিছু হবে না ভেবেছিলাম। কাল সারা রাত কেঁদেছি। কী হচ্ছে এ সব?

এসময় তিনি আরো বলেন, আমাদের বন্ধুদের মারা হচ্ছে। হাত পা ভেঙে দেওয়া হচ্ছে।’’ এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থা দেখে মর্মাহত অনুজ্ঞা। ‘‘মনে হচ্ছে, আমার বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দিয়েছে। গোটা ক্যাম্পাস যেন কবরখানার মতো। চার দিকে রক্ত আর ভাঙচুর।’’

জামিয়া মিলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে এক শিক্ষার্থী সংবাদমাধ্যমকে জানান, আমরা তো শান্তিপূর্ণ ভাবেই প্রতিবাদ করছিলাম। রাস্তাতেও নীরবতা বজায় রাখা হচ্ছিল। তবু পুলিশ কেন ঢুকল?’’

ক্যামেরার সামনে অনুজ্ঞা নিজের পরিচয় দিয়ে সমালোচনা করেছেন মোদী সরকারের। এর পরে কী হবে? ‘‘খুবই ভয় করছে। আমি এখনই নানা উল্টোপাল্টা নম্বর থেকে ফোন পাচ্ছি। সোশ্যাল মিডিয়াতেও মেসেজ আসছে। কিন্তু প্রতিবাদ থামাবো না,’’ বললেন অনুজ্ঞা।

টিভিতে তাঁকে বলতে শোনা গিয়েছে, ‘এ দেশে আমি নিরাপদ নই। কোথায় যাব জানি না। কোথায় গণপিটুনি দেওয়া হবে জানি না। জানি না, কাল আমার বন্ধুরা ভারতীয় থাকবে কি না।’ ‘‘আমি তো মুসলিমও নই। তবু প্রথম থেকে প্রতিবাদের পুরোভাগে আছি। কারণ এরাই আমার পরিবার। বন্ধুবান্ধব থেকে শিক্ষক, সবাই।’

সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও দুই ছাত্রী আয়েশা রেনা (২২) এবং লাদিদা সাখালুনের (২২) প্রতিবাদী বক্তব্য। কেরলের মলপ্পুরম জেলার ইতিহাসের ছাত্রী আয়েশা এবং তাঁর বন্ধু লাদিদা (আরবি ভাষা ও সাহিত্যের ছাত্রী) পুলিশের নির্যাতনের শিকার হয়েছিলে তারাও।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে আয়েশা জানান, ‘‘লড়াইটা আমাদের সবার। কেউ ভয় পাই না। মরতে হলে সবাই মরব। লাঠি চালানো হয়েছে আমাদের উপরে।’’ আয়েশাদের দাবি, শাহিনকে আড়াল করায় পুলিশ চড়াও হয় তাঁদের উপরেই। উঁচু পাঁচিলের উপরে ওঠা তাঁদের আর একটি ছবিও ভাইরাল হয়েছে। আয়েশা বলেন, ‘‘চেয়েছিলাম আমাদের কথাটা সবাই শুনুক। আর কিছু নয়।’’

ঢাকা, ১৭ ডিসেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।