স্টুডেন্ট ভিসায় নিউজিল্যান্ড, লাশের স্তূপে জীবন রক্ষা বাংলাদেশী ছাত্রের!


Published: 2019-03-16 17:07:27 BdST, Updated: 2019-07-19 08:26:30 BdST

কিশোরগঞ্জ লাইভঃ স্টুডেন্ট ভিসায় নিউজিল্যান্ডে গিয়েছিলেন ওমর জাহিদ মাসুম। মিরপুর বাংলা কলেজের ওই ছাত্র নিউজিল্যান্ডে গিয়ে ভয়ানক পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন। উগ্র শেতাঙ্গ সন্ত্রাসীর ভয়ঙ্কর নৃশংসতা দেখেছেন নিজের চোখে।

লাশের স্তূপে মৃতের ভান করে শুয়ে থেকে প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন মাসুম। তবে এখনও তিনি ভুলতে পারছেন না সেদিনের ভয়ানক স্মৃতি।

ভয়ে আঁতকে উঠছেন বারবার। নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের আল নূর মসজিদে ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসী হামলায় অলৌকিকভাবে বেঁচে যাওয়া সেই বাংলা কলেজের ছাত্র মাসুমের বাড়ি কিশোরগঞ্জে।

জানা গেছে, শুক্রবার বন্ধু-স্বজন ও সহপাঠীদের সঙ্গে জুমার নামাজ আদায় করতে গিয়েছিলেন তিনি। হামলার সময় একটি গুলি তার পেটের মাংস স্পর্শ করে চলে গেলে তিনি মৃত্যুর ভান করে লাশের স্ত‚পের আড়ালে সটান পড়ে থাকে।

দীর্ঘ সময় নির্জীব নিঃস্পন্দন অবস্থায় থাকার পর পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেয়। সুস্থ হয়ে তিনি বাসায় ফিরলেও স্বাভাবিক হতে পারছেন না।

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার মুমুরদিয়া ইউনিয়নের ধনকীপাড়া গ্রামের প্রয়াত বিএনপি দলীয় এমপি হাবিবুর রহমান দয়াল ও মমতাজ বেগম দম্পতির ছোট ছেলে ওমর জাহিদ মাসুম।

মাসুমের বড় ভাই অ্যাডভোকেট ওমর জাকির বাবুল ও ভগ্নিপতি সানাউল­াহ জানান, চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরলেও সন্ত্রাসী হামলার সেই ভয়ঙ্কর ও বিভীষিকাময় দুঃসহ স্মৃতি এখনও তাড়া করছে মাসুমকে।

চার ভাই এবং তিন বোনের মধ্যে সবার ছোট মাসুম নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে আসায় স্বজনরা শুকরিয়া আদায় করছেন, করছেন দোয়া মাহফিলের আয়োজনও।

জানা গেছে, মিরপুর বাংলা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে তথ্য প্রযুক্তি (আইটি) তে উচ্চতর ডিগ্রি লাভের উদ্দেশ্যে স্টুডেন্ট ভিসায় নিউজিল্যান্ডের উদ্দেশ্যে দেশ ত্যাগ করে ওমর জাহিদ মাসুম।

পড়াশোনা শেষ করে সেখানকার একটি সুপার শপ এবং একটি পেট্রল পাম্পের ব্যবস্থাপক হিসেবে চাকরি নেন তিনি।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার জুমার নামাজে একটু আগে ভাগেই মসজিদে যান মাসুম। তিনি প্রথম কাতারের ইমাম সাহেবের পিছনে মিম্বরের কাছে ছিলেন। পেছন থেকে গুলির শব্দে মুসল্লিরা যখন ছুটাছুটি করছিল মাসুম তখন নুয়ে পড়েন। এ অবস্থায় একটি গুলি তার পিঠের ওপরে লাগলে তিনি ফ্লোরে লুটিয়ে পড়েন।

পেছন থেকে লোকজন ছুটাছুটি করে মিম্বরের দিকে এসে একের পর এক তার ওপর পরে। পুলিশ লাশ সরাতে গিয়ে ওমর জাহিদকে জীবিত পেয়ে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে তার স্ত্রী হাসপাতালে ছুটে যান। গুলিটি তার পিঠের ওপরে লেগে বেরিয়ে যাওয়ায় তিনি আশ্চর্যজনকভাবে বেঁচে যান।

ওমর জাহিদ মাসুমের ভগ্নিপতি সানা উল্লাহ জানান, সন্ত্রাসী হামলার খবর পেয়ে তাদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করি। ঘটনার বেশ কয়েক ঘণ্টা পর মাসুমের স্ত্রী টিনা আক্তার গুলিবিদ্ধ হওয়ার সংবাদ দেয়।

হাসপাতাল থেকে রাতেই পুলিশ তাকে বাসায় পৌঁছে দেয়। এখন অনেকটা স্বাভাবিক। তবে বাসা থেকে বের না হতে এবং সাবধানে চলাচলের জন্য জানিয়েছে পুলিশ।

ঢাকা, ১৬ মার্চ (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।