১৭৫ একরে প্রকৃতির একক আধিপত্য!


Published: 2020-09-27 15:34:43 BdST, Updated: 2020-10-26 18:23:25 BdST

আজাহার ইসলামঃ ‘মহামারিতে সবকিছু স্থবির হয়ে গেলেও প্রকৃতি নিজের রূপের আবর্তন করা থেমে দেয়নি। প্রকৃতি এখন আরো অনেক বেশি সতেজ। কোলাহল মুক্ত ক্যাম্পাস, সাথে বৃষ্টির স্পর্শ সেই সতেজতার মাত্রা কে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে।’ বলছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ল’ অ্যান্ড ল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী নুসরাত মাহাজাবিন।

ছবি: বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস

 

চীনের উহান প্রদেশ থেকে ছড়িয়ে পড়া ক্ষুদ্র এক অণুজীবের তান্ডব ক্রমশ বেড়েই চলছে। একইসাথে বাড়ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলোর ছুটি। সেই সূত্র ধরেই দীর্ঘ ৭ মাস ধরে বন্ধ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন কোলাহলপূর্ণ স্থান এখন বিরানভূমিতে পরিণত হয়েছে। নেই শিক্ষার্থীদের আনাগোনা, হৈ-হুল্লোড়। ফলে সুনসান ক্যাম্পাস ভরে উঠেছে সবুজের সমারহে। এ যেন প্রকৃতির একক আধিপত্য!

ছবি: বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস

 

ক্যাম্পাসে আড্ডার প্রাণ ডায়না চত্বর। সর্বদাই শিক্ষার্থীদের কোলাহল, আড্ডায় মুখরিত থাকে এ জনপ্রিয় স্থানটি। এখানে শিক্ষার্থীদের অবাধ বিচরণে ঘাস উঠে গিয়ে যেন হয়ে পড়েছিল প্রাণহীন।

ছবি: বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস

 

কিন্তু করোনামহামারিতে ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় নিজের যৌবন মেলে ধরেছে এ চত্বর। ফুল ফুটেছে ডায়না চত্বর এলাকার গাছগুলোতে। চত্বরটির ঘাস ফিরে পেয়েছে তার নিজস্ব সজীবতা।

ছবি: বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস

 

বর্ষাকাল না হলেও বৃষ্টি লেগেই রয়েছে ক্যাম্পাস সংলগ্ন এলাকায়। বৃষ্টি যেন সজীব ক্যাম্পাসকে আরো মোহনিয় করে তুলেছে। প্রাণ ফিরেছে মৃতপ্রায় গাছ, আগাছা, ঘাসেও। বিকেল হলেই পেয়ারাতলে ছোট ছোট ঘাসের উপর প্রেমিক-প্রমিকা, বন্ধু-বান্ধুবীর আলাপণ শুরু হয়। চলতে থাকে পশ্চিম দিগন্তে অস্ত নামার আগ পর্যন্ত। কেউ বা আবার ক্ষুদ্র সবুজ ঘাসের উপর নুয়ে পড়ে নীলাকাশের বৈভবে হারিয়ে যায়। সে স্থান এখন ছেঁয়ে গেছে নানান গাছগাছালি ও কাশফুলে।

ছবি: বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস

 

ক্যাম্পাসের ফুটবল মাঠ, ক্রিকেট মাঠ ও বিভিন্ন চত্বর দীর্ঘদিন শিক্ষার্থীদের পদচারণা না পেয়ে যেন রূপের ডালি বিছিয়েছে আপন পনে। পসরা মেলে ধরেছে নানান প্রজাতির বৃক্ষরাজি। বৃষ্টিস্নাত পরিবেশ প্রকৃতির সৌন্দর্যকেও বহুগুণে বাড়িয়ে তুলেছে। সরু রাস্তার পাশে ঠাই দাঁড়িয়ে দৃষ্টি মেলে ধরতেই হারিয়ে যায় সবুজ প্রকৃতির মাঝে ক্ষণিকের জন্য মনে পড়ে যায় জীবনানন্দ দাশের কবিতা ‘এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে।’

ছবি: বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস

 

মহামারির ফলে ক্যাম্পাস প্রায় জনশূন্য। সীমিত পরিসরে অফিস ও হল খোলা রয়েছে। স্বল্প সংখ্যক শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীর আনানোগা থাকলেও ক্যাম্পাসে বিরাজ করছে নিস্তব্ধতা। তবে নানান প্রজাতির পাখির কিচিরমিচির সুরের ঝলকানি সেই নিস্তব্ধতাকে ভেঙে দিয়েছে। ক্যাম্পাসের রাস্তাঘাটও রয়েছে ঝঁকঝকে। অসচেতন শিক্ষার্থীদের ফেলা ময়লা আবর্জনা এখন আর চোখে মেলে না।

ছবি: বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস

 

ক্যাম্পাসের অনুষদ ভবনের সামনে রয়েছে দুটি বটবৃক্ষ। বটবৃক্ষকে ঘিরে রয়েছে বসার স্থান। শিক্ষার্থীরা ক্লাসের ফাঁকে অবসর সময় কাটায় এ স্থানে চারপাশে বসে। ক্যাম্পাস বন্ধ হওয়ার সময় বৃক্ষ গুলি বেশ বড় ছিলনা।

ছবি: বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস

 

এখনো বেশ বড় না হলেও নিজের মত করে মেলে ধরেছে নিজের সৌন্দর্য। দেখলে মনে হবে সারাটাদিন বটবৃক্ষের নিচে বসে থাকি। আর যদি সাথে প্রিয় মানুষ থাকে। গল্পগুজব করতে করতে কখন সময় ফুরিয়ে আসবে কেউ টেরই পাবেনা।

ছবি: বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস

 

এদিকে বিচরণ শূন্য মফিজ লেক ভরে উঠেছে সবুজের সমারহে। লেকের দক্ষিণ-পশ্চিমকোণে অবস্থিত একটি ওয়াচটাওয়ার। যেখান থেকে লেকের সৌন্দর্যের সুধায় নয়ন জুড়িয়ে যায়। সারাক্ষণ লেক পূর্ণ থাকতো প্রেমিক জুগলের পদচারণায়।

ছবি: বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস

 

যা ছিল লেকের প্রধান আকর্ষণ। কিন্তু করোনাভাইরাস সেই আকর্ষণ পাল্টিয়ে প্রকৃতিকে নিজের রূপে সাজার সুযোগ করে দিয়েছে। বর্তমানে লেকে ঘুরতে গেলে মুগ্ধ না হওয়ার জোঁ নেই।

ছবি: বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস

 

প্রকৃতি যেন নিজস্ব রূপ ফিরে পেয়েছে। ১৭৫ একরের সবুজ ক্যাম্পাসে ষোলকলা ঢেলে দিয়েছে প্রকৃতি। শুধু তাই নয়। যে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের কোলাহল ও যানবাহনের প্যাঁপুঁসহ নানান শব্দে পাখিরা মনের আনন্দে ঘুরতে পারতো না, সেই ক্যাম্পাসে পাখিদের কলকাকলি বেড়েছে বহুগুণে।

ছবি: বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস

 

আজাহার ইসলাম
শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কুষ্টিয়া

ঢাকা, ২৭ সেপ্টেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।