স্থবির শিক্ষা ব্যবস্থা, সমস্যা অনেক, সমাধান কোথায়?


Published: 2020-07-07 15:35:30 BdST, Updated: 2020-08-06 01:02:49 BdST

হাসনাত কবীরঃ বৈষয়িক মহামারী করোনার কারণে জনজীবন স্থবির ও বিপর্যস্ত। আগে পরিশ্রম করে ক্লান্ত হয়েছি আর এখন ঘরে থাকতে থাকতে ক্লান্ত হচ্ছি। প্রতি নিয়ত সময় পার হচ্ছে বিভিন্ন উৎকণ্ঠা নিয়ে। জীবন ও জীবিকার তাগিদে সীমিত পরিসরে দেশে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু হয়েছে কিন্তু করোনা তার সক্রিয়তা বজায় রেখে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে।

অর্থনীতির চাকা হয়তো কিছুটা শক্তি সঞ্চয় করে ধীর লয়ে চলবে, তবে জীবনের চাকা কতক্ষণ ঘুরবে আল্লাহ ভালো জানেন। এদিকে দেশীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা করোনার আয়ুস্কাল সম্পর্কে এখনো সঠিক কোন ধারণা দিতে পারছেন না। ফলে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব নয়। সমস্যা অনেক, সমাধান কোথায়?

ইতিমধ্যে সংসদ টেলিভিশন চ্যানেলের মাধ্যমে প্রাকপ্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত ছাত্র-ছাত্রীর শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর পাশাপাশি শহর কেন্দ্রীক কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্ব উদ্যোগে অনলাইনে পাঠদান সীমিত পরিসরে শুরু করেছে। যা প্রশংসার দাবি রাখে। শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে সংসদ টেলিভিশনের মতো করে আরও একটি টেলিভিশন চ্যানেলে একাদশ, দ্বাদশ এবং স্নাতক পাশ শ্রেণীর পাঠদান সীমিত পরিসরে শুরু করা যেতে পারে।

সেক্ষেত্রে বিটিভি হতে পারে আদর্শ। বিটিভি টেলিভিশন চ্যানেলের সুবিধা হচ্ছে এটি গ্রাম পর্যায়ে বিস্তৃত। টিভির আরও একটি বড় সুবিধা হলো অনেক জন একসাথে দেখা যায়। ফলে কোন ছাত্র-ছাত্রীর টেলিভিশন না থাকলে সে পাশের বন্ধু/প্রতিবেশীর সাহায্য পেতে পারে।

সম্প্রতি সরকারের উচ্চ পর্যায়ে এইচ. এস. সি. পরীক্ষার সংখ্যা ও সময় দুটোই কমিয়ে লিখিত পরীক্ষা গ্রহণের চিন্তা ভাবনা করছে বলে জানা যাচ্ছে। তবে সামাজিক দুরত্ব এবং স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়গুলো থেকেই যাচ্ছে। শিক্ষাবোর্ড, অধিনস্ত কলেজের চেয়ে অনেক কম সংখ্যক কলেজকে পরীক্ষা কেন্দ্র করে থাকে। কেন্দ্রর সংখ্যা দুই-তিন গুন বৃদ্ধি করা হলে সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে পরীক্ষা গ্রহণ সম্ভব হবে।

সমস্ত কলেজ ও প্রয়োজনে মাধ্যমিক স্কুলকে কেন্দ্র করা যেতে পারে। আবার পরীক্ষা কেন্দ্রের সামনের জটলা কঠোর ভাবে নিয়ন্ত্রণ করা দরকার। সেটা কতটুকু সফল হবে, সঙ্কা থেকেই যায়? পরীক্ষা গ্রহণের পর আর একটা বিষয় সামনে আসবে, এইসব ছাত্র-ছাত্রীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি নিয়ে। অন্যদিকে এস. এস. সি পাশ করা ছাত্র-ছাত্রীদের কলেজে ভর্তি প্রক্রিয়ার এখনো কোনো দিক নির্দেশনা নেই।

কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় দেশের উচ্চশিক্ষায় নিয়োজিত ছাত্র-ছাত্রীও গৃহবন্দি। উন্নত বিশ্বের অনেক দেশেই সংক্রমণ কমে আসায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দিয়েছে। আমাদের দেশে আপাতত এধরনের কোন সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। করোনাকালীন সময়ে দেশের উচ্চশিক্ষা কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ বলা যায় যদিও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সর্বশেষ ২০১৮ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন থেকে জানা যায় যে প্রায় ৩৬ - ৩৭ লক্ষ ছাত্র-ছাত্রী ৩৭ টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে (অধিভুক্ত কলেজ সহ) বিভিন্ন প্রোগ্রামে পড়াশোনা করছে। যারমধ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ২৮ লক্ষ, উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ৩ লক্ষ, ইসলামী আরবী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ২ লক্ষ ৪০ হাজার, এবং বাকি ৩৪ টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ২ লক্ষ ৭০ হাজার ছাত্র-ছাত্রী স্নাতক পাস, স্নাতক সম্মান ও মাস্টার্স বিষয়ে পড়াশোনা করছে।

এই বিপুল সংখ্যক ছাত্র-ছাত্রীকে অনলাইনে পাঠদানের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য অনেকের ব্যক্তিগত ও বিভিন্ন অনলাইন জরিপ থেকে ছাত্র-ছাত্রীদের উচ্চ শিক্ষায় প্রতিবন্ধকতা হিসেবে আর্থিক সক্ষমতা, দ্রুত গতির ইন্টারনেট সেবা এবং পরীক্ষা গ্রহণ সহ আরও কিছু বিষয় মুখ্য হয়ে উঠে এসেছে। স্বাভাবিক অবস্থায় পাঠদান ও পরীক্ষা গ্রহণ করার সময় অনেকেই আমরা বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হয়।

আর অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হলে আরও নানাবিধ সমস্যা হবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সমস্যার সমাধান বের করে আমাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতে হবে। তাই ছাত্র-ছাত্রীদের অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ থেকে কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়ে আনার জন্য সম্প্রতি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ইউজিসির সাথে আলোচনা করে ডেটা প্রদান সাপেক্ষে অনলাইনে ক্লাস (ব্যবহারিক ক্লাস ও পরীক্ষা ছাড়া) পরিচালনা করতে সম্মত হয়েছে।

এতে ছাত্রদের পাঠ্যক্রম এগিয়ে থাকবে। যদি করোনাকাল দীর্ঘ হয়, তবে পরীক্ষা নেওয়া না হলে অর্থাৎ প্রমোশনের দিকনির্দেশনা না থাকলে সবকিছুই স্থবির হয়ে যাবে। তাই ক্লাস শুরুর পাশাপাশি ব্যবহারিক ক্লাস ও পরীক্ষা গ্রহণের কর্ম পরিকল্পনা তৈরিতে মনোনিবেশ করতে হবে।

এক স্তরের সঙ্গে অন্য স্তর ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এক জায়গায় স্থবির হলে অন্য গুলোর অবস্থানে পরিবর্তন হবে না। শুধু একটা বিশেষ সমস্যাকে প্রাধান্য না দিয়ে সামগ্রিক (প্রথম শ্রেণী হতে গ্রাজুয়েশন পর্যন্ত) শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে চিন্তা করতে হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে এগিয়ে আসতে হবে একটি বাস্তব সম্মত পরিকল্পনা নিয়ে।

মোঃ হাসনাত কবীর
অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর
ইনফরমেশন এন্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।

ঢাকা, ০৭ জুলাই (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//আরআর//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।