করোনায় করুন পরিস্থিতিতে সাভারের নিম্ন আয়ের মানুষ


Published: 2020-04-07 21:45:31 BdST, Updated: 2020-06-05 03:45:04 BdST

মুশফিকুর রহিম, সাভার : কি যাতনা বিষে বুঝিবে সে কিসে কভু আশীবিষে দংশনে যারে।
কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদারের এই পঙক্তি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে সাপে কাঁটার যন্ত্রণা কত কষ্টের, যাকে সাপে কাঁটেনি সে কখনোই বোঝে না এর কি ব্যথা।

ঠিক তেমনি সমাজের বিত্তবানরা বোঝেননা সমাজের নিপীড়িত হত দরিদ্রের কষ্টের কথা। সারা বিশ্ব জুড়ে চলছে করোনার মহামারী, তেমনি বাংলাদেশ ও ছড়াচ্ছে এর প্রভাব তাড়াতাড়ি। একে একে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে অফিস আদালত, কলকারখানা এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ সকল কার্যক্রম এখন কার্যত অচল।

দেশে অনেকটাই লকডাউন চলছে। গণপরিবহন সহ সমস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থাও বন্ধ হয়েছে আগেই। এতে স্থবির হয়ে আছে দেশ। ভোগান্তির নেই কোন শেষ। এই দূর্যোগে সমাজের ধনাঢ্য শ্রেণির জন্য তেমন কোন প্রভাব না ফেললেও বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ।

যারা দিন এতে দিন খায়, তাদের চলা দায়। এবিষয়ে ক্যাম্পাসলাইভ টুয়েন্টি ফোর ডটকমের প্রতিনিধির সাথে কথা হয় নিম্ন আয়ের কিছু মানুষের সাথে। রিক্সা চালক কালাম বলেন, আমরা অনেক কষ্টে আছি স্যার। আমাদের দেখার কেউ নাই।

তিনি বলেন, আগে রিক্সা চালাইয়া মুটামুটি ৮০০/৭০০ টাকা রোজগার করতাম। বর্তমানে তা নেমে আসছে ২০০ /৩০০ টাকায়। যা দিয়ে আট জনের সংসার চালানো দায়। কোন সাহায্য সহযোগিতা পেয়েছেন কি? জানতে চাইলে তিনি বলেন আমারে কে দেবে?

তিনি আরোও বলে, সাভারের ৬ নং ওয়াডের কাউন্সিলর আবদুল সাত্তার কিছু সাহার্য্য বিতরণ করছেন। কিন্তু আমি পাই নাই। এরপর কথা হয় এক দিন মজুরের সাথে। তিনি ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন আমাদের কোন কাজ নেই। বন্ধ হয়ে গেছে আয় রোজগারের সকল পথ।

সুদের উপর টাকা নিয়া চলতাছি। এরপর কথা হয় আবু তাহের নামক আরেকজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর সাথে। তিনি ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, সরকারের নির্দেশে আমাদের দোকান পাট বন্ধ। আয়- রোজগারের পথ এখন রুদ্ধ। কি আর করা জমা টাকা দিয়ে কোন ভাবে চলছি।

এতে পরিবারের চালাতে হচ্ছে অতি কষ্টে। এভাবে চলতে থাকলে হয়তো ছেলে ও মেয়ের পড়াশোনা পরবে হুমকির মুখে। এছাড়াও আছে বাড়ি ভাড়ার চাপ। সবমিলিয়ে আমরা এখন চরম বিপাকে।

তাই আমাদের সকলের উচিত মহান আল্লাহ কাছে প্রার্থনা করা। তিনি যেন করোনা নামক মহামারী রোগ থেকে আমাদের সকলেই হেফাজত করেন। দ্রুত আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরার তৌফিক দান করেন।

এছাড়াও কথা হয় সমাজের আরো কিছু নিম্নের শ্রেণীর মানুষের সাথে। যারা একেবারেই গরীব, তারা আছে চরম বিপাকে তাদের দেখারও কেউ নেই। খোঁজ খবর নেওয়ারও কেউ নেই। তারা জানে না এই করোনা কি? নেই কোন সচেতনতা। তাদের জিজ্ঞেস করেছিলাম আপনারা এভাবে অপরিষ্কার থাকলে আপনাদের তো এ রোগের আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা আছে?

জবাবে তারা বলেন, পেটে নাই ভাত, তোর পরিষ্কার নিয়ে তুই থাক। আমি তাদেরও জিজ্ঞেস করেছিলাম আপনারা কোন সাহায্য সহযোগিতা পেয়েছেন কি না? জবাবে
তারা বলেন আমরা কোন সাহায্য সহযোগিতা পাইনি।

এলাকাবাসী জানান, দেশের সকল দায়িত্বশীল মহলের প্রতি আমাদের আকুল আবেদন, এই খেটে খাওয়া মানুষগুলো আমাদের সমাজ ও রাস্ট্রের বাইরের নয় । ওনারা বাঁচলে, বাঁচবে দেশ। তাই সমাজ বা রাষ্ট্রের বিত্তশালীদের এগিয়ে আসার অনুরোধ জানান তারা।

ঢাকা, ০৭ এপ্রিল (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।