ফাল্গুন-ভালোবাসা দিবস: সুবিধা করতে পাচ্ছে না ফুল ব্যবসয়ীরা


Published: 2020-02-14 19:47:41 BdST, Updated: 2020-04-08 15:50:36 BdST

ঢাবি লাইভঃ রাজধানীতে ফুলের বাজারে চাহিদা বছর জুড়ে থাকলেও পহেলা ফাল্গুন, নববর্ষ ও ভালাবাসা দিবসে ফুলের দোকান গুলোতে থাকে বাড়তি চাপ। তবে এবছর ফাল্গুন ও ভালাবাসা দিবস একই দিনে হওয়ায় তেমন সুবিধা করতে পারছেন না শাহবাগের ফুলের দােকানগুলোতে।

ফেব্রুয়ারি মাসের ১৩ তারিখ ফাল্গুন মাসের প্রথম দিন পালিত হতো, আর ১৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্বজুড়ে পালন করা হয় ভালোবাসা দিবস। বাংলা বর্ষপঞ্জিতে সংশোধনের কারণে এখন থেকে দুটি দিবসই বাংলাদেশে একই দিনে পড়েছে। দিবস দুটি একদিনে হওয়ায় সমস্যায় পড়েছেন ফুল ব্যবসায়ীরা।

রাজধানীর প্রায় সিংহভাগ মানুষের ফুলের চাহিদা পূরণ করে শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরের ফুলের বাজার। ফাল্গুন ও ভালোবাসা দিবস একই দিনে হওয়ার পরও এসব দোকানগুলোত মানুষের ভিড় হাতেগোনা। এর কারন হিসাবে দােকানদাররা বলছেন, শহরের মহল্লাগুলোর মোড়ে মহল্লায় দােকানে ফুল পাওয়া পাশাপাশি অস্থায়ী ফুলের দোকানগুলোর প্রভাবে শাহবাগে ক্রেতার তেমন চাপ নেই। তাছাড়াও অতিরিক্ত যানজটের কারনে দূর থেকে তেমন ফুল কিনতে আসছেন না বলে জানায় তারা।

বৃহস্পতিবার শাহবাগের ফুল দােকান ঘুরে ও ক্রেতা-বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে এসব তথ্য জানা যায়। তবে অন্যবারের থেকে এবছর দাকানগুলাতে ফুলের পরিমাণ তুলনামূলক কম ছিল। এর কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীরা বলেন, দেশের বাজারে ফুলের একটি বড় অংশ আসে চীন থেকে। কিন্তু এ বছর করোনা ভাইরাস আতঙ্কে চীন থেকে আসা ফুলের জাহাজ সাগরে আটকে আছে। তাই ফুল বাজারে ফুলের সরবরাহ কিছুটা কম।

শাহবাগ বটতলা ক্ষুদ্র ফুল ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমদ ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, এবছর অন্য বছরর তুলনায় ক্রেতার আনাগোনা কম। তবে একেবারে খারপ না। মানুষ কম আসার কারণ হিসেবে তিনি দেখিয়েছেন- মেট্রােরেলের কারণে শাহবাগ রোডে অধিকাংশ সময় প্রচণ্ড জ্যাম থাকে। তাই জ্যাম উপেক্ষা করে মানুষ আসতে চায় না। পাশাপাশি এই জ্যাম ভেঙে না এসে পাড়া মহল্লার দোকান থেকে দাম একটু বেশি দিয়ে হলেও কিনে নিচ্ছে। ফলে বাজারে গ্রাহকের চাপ তেমন নেই।

তিনি বলেন, এবারে ফুলের সরবরাহ কম থাকলেও দুটি দিবস একইদিনে হওয়ায় চাহিদাও কম। তাই তা ফুলের দামে তেমন প্রভাব ফেলছে না।

নিউ অপরাজিতা দােকানের বিক্রয়কর্মী রিপন মিয়া ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, 'সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকলেও ক্রেতার তেমন ভিড় নাই এবারে। দুইটি দিবস একই দিন পড়ায় এমনিতেই একদিন কম তার ওপর ক্রেতাও কম । তাই লাভ কম হলেও দাম কমিয়ে ফুল বিক্রি করেতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত তেমন বেচাকেনা হচ্ছে না। দুটি দিবস একসাথে হওয়ায় আমাদের প্রত্যাশা ছিল উৎসবের দিন বাজার জমজমাট থাকবে। কিন্তু আমরা এখন পর্যন্ত তেমন সুবিধা করতে পারছি না।

মেহরাব পুষ্পালয়ের ম্যানজার দুলাল মিয়া বলেন, ‘এখন পর্যন্ত বিক্রি নিয়ে আমরা হতাশায় ভুগছি। এরকম একটা দিবসেও ক্রেতা কম। প্রতিবার যেখানে কাস্টমারের ভিড়ে দাঁড়ানার জায়গা থাকতো না সেখান দোকানের সামনে আমরা দাঁড়িয়ে অলস সময় কাটাচ্ছি।

তিনি বলেন, যেহেতু ফাগুন ও ভালাবাসা দিবস একই দিনে উদযাপিত হবে তাই আমরা আশা করছি দিনের অবশিষ্ট সময় ভালো বিক্রি হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তাহমিনা হক ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, বকুল তলায় বসন্ত উৎসব হচ্ছে তাই বসন্ত বরণে ফুল কিনতে আসলাম। ফুলের দাম ঠিক থাকলেও এবারে গোলাপের মান তেমন ভালো মনে হচ্ছে না।

ধানমন্ডি থেকে ফুল কিনতে আসা আফরোজা বেগম ক্যাম্পাসলাইভকে জানান, ফুলের দাম তেমন বেশি না প্রতিদিনের দামেই বিক্রি করছে। তবে গোলাপের দাম কিছুটা বেশি। ফ্রেশ ফুল পাচ্ছি না, অনেক আগের ফুল রয়েছে। কয়েকটা দোকান ঘুরে ফুল কিনলাম। বসন্ত ও ভালোবাসা দিবস একসাথে হওয়ায় সে উপলক্ষে ফুলের আমদানি আরও থাকা উচিত ছিল।

ঢাকা, ১৪ ফেব্রুয়ারি (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।