একজন বিসিএস ক্যাডার ও বিজ্ঞানীর অবহেলিত জীবনের গল্প!


Published: 2019-03-17 02:31:10 BdST, Updated: 2019-05-24 15:40:09 BdST

রাকিব তালুকদার : ড. মোজাফ্ফর হোসেন। পড়াশোনা করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে। পিএইচডি করেছেন রসায়নের ওপর। বিসিএস ক্যাডার ড. মোজাফফর বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের অবসরপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল সাইন্টিফিক অফিসার ছিলেন। দিনগুলো তার ভালই কাটছিল। তবে বিপত্তিটা ঘটে যখন তিনি অবসরে যান। ২০১৪ সালে চাকরি থেকে অবসর নেয়ার পর অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। কিছুদিন চিকিৎসার পর স্ত্রী ও সন্তানসহ পরিবারের সদস্যরা ড. মোজাফফরকে বাড়িতে একা ফেলে রেখে চলে গেছেন। এখন আর তার কোন খোঁজ খবর নেন না স্ত্রী-সন্তানেরা। ড. মোজাফ্ফর এখন মানিকগঞ্জ শহরের কান্দা পৌলি গ্রামের বাড়িতে ধুঁকে ধুঁকে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। মানসিক ভারসাম্য হয়ে একাকী জীবন যাপন করছেন তিনি। অভিযোগ রয়েছে ড. মোজাফ্ফর হোসেনের অবসরের সব টাকা আর জমাজমি হাতিয়ে স্ত্রী তার দুই ছেলে ঢাকায় বসবাস করছেন। এদের একজন কলেজ ও অন্যজন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছেন।

তবে ড. মোজাফফরের স্ত্রী লিপি বলেন, তার স্বামীর দেখভালের জন্য একজন গৃহকর্মী রেখে দিয়েছেন। এজন্য মাসে তাকে ১০ হাজার টাকা গুনতে হয়। এরচেয়ে তিনি আর কি করতে পারেন? এমন প্রশ্ন রাখেন তিনি। উনার জন্য তো আর সবার ভবিষ্যৎ নষ্ট করে দেয়া যাবে না এমন মন্তব্যও করেন লিপি। তিনি আরও বলেন, তার স্বামী জটিল “অ্যালজেইমার” রোগে আক্রান্ত। ঢাকায় থাকা অবস্থায় প্রবিবেশীরা প্রতিদিনই তার স্বামীর অতিমাত্রার পাগলামির বিরুদ্ধে অভিযোগ দিতো। একারণে তাকে গ্রামের বাড়ীতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ড. মোজাফ্ফরের প্রতিবেশীদের অভিযোগ, গত তিন মাস ধরে স্ত্রী সন্তান কেউই তাকে দেখতে আসেন না। স্ত্রী-সন্তান আর সহায়-সম্পদ সবই আছে কিন্তু শেষ জীবনটা কাটছে চরম অবহেলা আর অনাদরে। মাঝে মাঝে মানষিক ভারসাম্যহীনতার কারণে তাকে রশি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। অথচ ড. মোজাফ্ফরের অবসর জীবনটা কাটানোর কথা ছিলো স্ত্রী-সন্তানদের সাথে আনন্দ উল্লাসে।

জানা গেছে, বান্দুটিয়া গ্রামের মৃত মোকছেদ মোল্লার ছেলে ডক্টর মোজাফ্ফর হোসেন পুর্ব পুরুষ থেকেই সম্পদশালী ছিলেন। গ্রামের সবাই এই বাড়িটিকে মাতবর বাড়ি বলেই এক নামে চিনেন।

মোজাফ্ফরের ভাগ্নি রেকেয়া বেগম বলেন, সাথে কথা হলে তিনি আরো জানান, মোজাফ্ফর কাউকে ভালোমতো চিনতে পারেন না তার মামা। মাঝে মধ্যে দু’একটি শুদ্ধ বাংলা বললেও বেশির ভাগ কথাই বোঝা যায় না। পায়খানা-প্রস্রাবেরও কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই তার। তবে খাবার দাবারের প্রতি দারুন আগ্রহ। সামনে দেখলে সে খাওয়ার জন্য পাগল হয়ে যায়। সব সময় শুধু খেতে চান।

ড. মোজাফ্ফরের বাল্যবন্ধু ডা. সাঈদ-আল মামুন জানান, সম্ভবত মোজাফ্ফর অ্যালজেইমার রোগে আক্রান্ত। এই রোগে আক্রান্তদের স্মরণশক্তি কমে যায়। অতীত বর্তমানের অভিজ্ঞতা ভুলে যায়। কাউকে চিনতে পারে না। অনেক সময় উত্তেজিত হয়ে বেশীমাত্রায় কথা বলে। কিন্তু এভাবে বিনা চিকিৎসায় তাকে নিঃসঙ্গভাবে ফেলে রাখলে অবস্থা আরো খারাপের দিকে যাবে। তাই তাকে পরিবারের সদস্যদের সময় দেয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।

ঢাকা, ১৭ মার্চ (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//সিএস

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।