পিটিই একাডেমিক : ইংরেজি দক্ষতা যাচাইয়ের পরীক্ষা


Published: 2019-03-03 20:15:41 BdST, Updated: 2019-07-21 02:40:00 BdST

সৈয়দ রবিউস সামস: আমাদের দেশের বিপুল সংখক ছাত্র-ছাত্রী এবং তরুণ পেশাজীবীদের মধ্যে সাম্প্রতিককালে উচ্চ শিক্ষার জন্য অথবা স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য উন্নত দেশে অভিবাসী হওয়ার প্রবণতা লক্ষণীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

এর পেছনে অনেকগুলো কারণ বিদ্যমান। উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থার সুবিধা গ্রহণ, উচ্চতর গবেষণার সুযোগ, একবিংশ শতাব্দীর উপযোগী করে নিজেদের দক্ষতা গড়ে তোলা, পেশাগত ক্ষেত্রে মান উন্নয়ন, উন্নত জীবনধারায় নিজেদের সম্পৃক্ত করা এবং সর্বোপরি একটি সুনিশ্চিত ও সাফল্যময় জীবনের প্রত্যাশায় তারা বিদেশের মাটিতে পাড়ি জমাতে চান।

বিদেশে পড়াশোনা বা স্থায়ী বসবাসের জন্য সর্বাধিক পছন্দের দেশগুলির মধ্যে পছন্দের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, নিউজিল্যান্ড এবং জার্মানি। পড়ালেখার জন্য এশিয়ার দেশ গুলোর মধ্যে ভারত, মালয়েশিয়া, সৌদি আরব, জাপান এবং সম্প্রতি চীন বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের মধ্যে অন্যতম পছন্দের গন্তব্য হিসাবে গণ্য করা হচ্ছে।

ইউনেস্কো ইনস্টিটিউট ফর স্ট্যাটিস্টিকস রিপোর্ট অনুযায়ী ২০১৭ সালে ৬০,৩৯০ জন বাংলাদেশি উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে গিয়েছেন। বিদেশে উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে যারা সহযোগিতা করে থাকেন এই রকম সংশ্লিট ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উচ্চশিক্ষা এবং অভিবাসনের উদ্দেশ্যে দেশের বাইরে পাড়ি জমানোর এই প্রবণতা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং উচ্চ মধ্যবিত্ত শ্রেণীর দ্রুত বিকাশের কারণে বিদেশে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ ক্রমশ জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।

উল্লেখিত ইংরেজিভাষী দেশগুলিতে বা কিছু ক্ষেত্রে অ-ইংরেজিভাষী দেশগুলিতেও ছাত্র-ছাত্রীদের পছন্দসই মানসম্পন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে ভর্তির জন্য অথবা বিদেশে স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার জন্য ইংরেজি ভাষার দক্ষতার প্রমান দেখানো আবশ্যক। পিয়ারসন টেস্ট অফ ইংলিশ একাডেমিক ( PTE Academic / পি টি ই একাডেমিক) সারা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন দেশের সরকারী সংস্থাগুলোর কাছে একটি বিশ্বস্ত ইংরেজি ভাষার দক্ষতা পরিমাপের পরীক্ষা হিসেবে স্বীকৃত।

বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় গুলিতে ভর্তিসহ অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডের অভিবাসন হওয়ার আবেদনের জন্য এটি একটি গ্রহণযোগ্য ইংরেজি দক্ষতার পরীক্ষা। বিশ্বের নাম করা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোসহ বিভিন্ন শিক্ষাগত প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ইংরেজি দক্ষতা পরিমাপের মাধ্যম হিসেবে পিটিই একাডেমিক পরীক্ষা ব্যবহার করে থাকে।

এছাড়াও, বিভিন্ন মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষা বৃত্তি এবং সংস্থা যেমন শিভেনিং স্কলারশিপস, অস্ট্রেলিয়া অ্যাওয়ার্ডস, ইউকে বার স্ট্যান্ডার্ড বোর্ড সহ বিভিন্ন সংস্থা পিটিই একাডেমিক স্কোর গ্রহণ করে থাকে।

যারা ভাল মানের বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজ গুলোতে ভর্তি হতে চান, সেই সাথে স্কলারশিপের জন্য আবেদন করতে চান, তাদের জন্য প্রচলিত ইংরেজি দক্ষতা যাচাইয়ের পরীক্ষা গুলোতে ভাল স্কোর থাকতে হয়। পিটিই একাডেমিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীর সাথে কথা বলে জানা যায়, কাঙ্খিত স্কোর সেই সাথে তিনি দ্রুত ফলাফল হাতে পাওয়ার জন্য এই পরীক্ষার জুড়ি মেলা ভার।

ইংরেজি ভাষার চারটি (শ্রবণ, পঠন , লিখন এবং কথন) দক্ষতাসহ প্রত্যেকটি ধাপ যেহেতু কম্পিউটারের মাধ্যমে সকল পরীক্ষার্থীদের একই পদ্ধতিতে সম্পন্ন করা হয়, তাই পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ এবং বিচ্যুতিমুক্ত। অর্থাৎ ফলাফলের ক্ষেত্রে মানবসৃষ্ট কোনো ত্রূটি বা প্রভাব পড়ার কোন সুযোগ নেই।

লক্ষ্য করা যায়, অনেকগুলি কারণে সাম্পতিক সময়ে ইংরেজি দক্ষতা পরিমাপের পরীক্ষা হিসেবে পি টি ই একাডেমিক বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। তার মধ্যে অন্যতম কারন পরীক্ষার্থীদের ইংরেজি দক্ষতা এবং সার্বিক প্রস্তূতির সঙ্গে ফলাফলের সামঞ্জস্য।

অনেক সহজে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করার সুবিধা এবং দ্রুত ফলাফল পাওয়ার সুবিধা (সর্বোচ্চ ৫ কার্য দিবসের মধ্যে) এটিকে অধিক জনপ্রিয় করে তুলছে। পুরো পরীক্ষাটি যেহেতু টানা ৩ ঘন্টার মধ্যে সম্পন্ন করা যায়, পরীক্ষার্থীর পূর্ণ মনোনিবেশ, প্রস্তূতি এবং সময় সাশ্রয়ের ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত কার্যকর।

পরীক্ষাটি বেছে নেয়ার আরেকটি কারণ হল কোন প্রকার অতিরিক্ত ফি ছাড়াই পরীক্ষার্থীরা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী যে কোনো সংখক প্রতিষ্ঠানে খুব দ্রুততম সময়ে অনলাইন একাউন্টের মাধ্যমে স্কোর পাঠাতে পারেন। পরীক্ষাটি বিশ্ববিদ্যালয় সহ বিভিন্ন স্তরের শিক্ষা কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার জন্য অ-ইংরেজি ভাষাভাষীদের ইংরেজি ভাষায় যোগাযোগের দক্ষতার মূল্যায়ন করার জন্য করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, সারা বিশ্ব জুড়ে ২৫০ টিরও বেশি পরীক্ষা কেন্দ্রের বছরে ৩৬০ দিনই শতভাগ কম্পিউটার-ভিত্তিক পিটিই একাডেমিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পাম-ভেইন স্ক্যানিং, ডিজিটাল স্বাক্ষর, র‍্যন্ডমাইজড পরীক্ষার ফর্ম, নিরাপদ কাগজবিহীন ফলাফল এবং সার্বক্ষণিক সিসিটিভি তত্ত্বাবধান এই পরীক্ষার সার্বিক নিরাপত্তা এবং তথ্য-সুরক্ষা নিশ্চিত করে।

আমরা জানি যে, প্রত্যেকটি মানুষের একটি নিজস্ব বাচনভঙ্গি আছে এবং এটি একান্তই স্বতন্ত্র। ইংরেজী দক্ষতার সঙ্গে বাচনভঙ্গির তফাৎ রয়েছে। পিটিই একাডেমিক কম্পিউটারের মাধ্যমে সব ধরনের উচ্চারণ চিহ্নিত করতে পারে।

১৩০টি ভিন্ন ভিন্ন ভাষার উচ্চারণকে ব্যবহার করে স্বয়ংক্রিয় ফলাফল নির্ধারণ প্রক্রিয়াটি কম্পিউটারের মাধ্যমে সংযুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে, পিটিই একাডেমিকের স্বয়ংক্রিয় স্কোরিং প্রযুক্তি প্রত্যেকের উচ্চারণের ভঙ্গিকে সমানভাবে এবং নির্ভুলভাবে চিহ্নিত করতে পারে। বাচনভঙ্গির ভিন্নতার কারণে কোনো পরীক্ষার্থী তাই কোনো সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়না। তাছাড়া পিটিই একাডেমিক বাস্তব জীবনের এবং প্রত্যাহিক জীবনের ব্যবহৃত ভাষাকে গুরুত্ব দিয়ে থাকে, তাই মূলত ভাষার প্রয়োগ এবং দক্ষতা অধিকতর গুরুত্ব পেয়ে থাকে।

পিটিই একাডেমিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য ঢাকাস্থ ধানমন্ডি ও উত্তরায় দুটি পরীক্ষা কেন্দ্র রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ছুটির দিনগুলো ছাড়া বছরের বাকী দিনগুলোতে প্রতিদিন দুইটি সেশনে (সকাল ১০.০০ এবং দুপুর ২.৩০ টায়) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

সাধারণত পরীক্ষার ৪৮ ঘন্টা আগেও রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করা যায়। পরীক্ষার প্রস্তূতি এবং বিস্তারিত তথ্যের জন্য www.pearsonpte.com এই ওয়েবসাইট টি অত্যন্ত তথ্যবহূল এবং কার্যকরী।

পরীক্ষা সংক্রান্ত বিভিন্ন টিপস এবং নিয়মিত তথ্যের জন্য facebook.com/Pearson.bangladesh/ ভিজিট করা যেতে পারে।


সৈয়দ রবিউস সামস
লেখক ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক ও প্রধান নির্বাহী, র'দিয়া আইএনসি। মন্তব্য পাঠাতে ইমেল করতে পারেন radiadhk@gmail.com

 

ঢাকা, ০৩ মার্চ (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।