অপরূপ সৌন্দর্যের লীলা ভুমি ‘মধুটিলা ইকোপার্ক’


Published: 2019-01-06 20:35:53 BdST, Updated: 2019-06-18 17:35:32 BdST

রফিক মজিদ: ভারতের মেঘালয় রাজ্যের সীমান্ত ঘেষা শেরপুর জেলার প্রায় ৩৫ কিলো-মিটার সীমান্ত জুড়ে রয়েছে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি গারো পাহাড়। এই গারো পাহাড়ে দেশের পার্বত্য এলাকার মতো সুউচ্চ পর্বত বা পাহাড় ও লেক নেই।

তবে এখানকার শাল-গজাড়ি, ইউকিলিপটাস-একাশিয়া, সেগুন-মেহগিনি, মিনঝিরিসহ নানা প্রজাতির গাছগালি ঘিরে প্রাকৃতিক ভাবে সৃষ্ঠি হয়েছে অপরূপ সৌন্দর্যের মধুটিলা ইকোপার্ক।

কোথাও উূঁচু নিচু টিলা আর পাহাড়ি টিলা বেয়ে ছুটে চলেছে ছোট ছোট ঝর্ণা, ঝোড়া। বয়ে যাওয়া পানির কলকল শব্দ যে কোন প্রকৃতি প্রেমিকের হৃদয়কে আন্দোলিত করে তুলে। সেই সঙ্গে ওই সব পাহাড়ি টিলার উপর এবং সমতলে শত শত বছর ধরে বসবাসকারী নৃ-গোষ্ঠির নানা সম্প্রদায়দের লোকদের সংস্কৃতি ও জীবন-জীবিকা পাহাড়ের সৌন্দর্যকে আরো বৃদ্ধি করেছে।

পাহাড়ের চূড়ায় ওয়াচ টাওয়ারে দাড়িয়ে উচু-নিচু পাহাড়ের গায় মেঘ-রোদ্দুরের খেলা আর সীমান্তের ওপারের ভারতীয় অধিবাসিদের ঘর-বাড়ি’র দৃশ্য মন ছুয়ে যায়, হৃদয়কে উদ্বেলিত করে। সেই সাথে এই গারো পহাড়ে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বেড়াতে আসা হাজার হাজার নর-নারী ও প্রেমিক-প্রেমিকার এ যেন মিলন মেলা ও হাট বসে।

জানা গেছে, ১৯৯৯ সনে শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার উত্তরে ময়মনসিংহ বন বিভাগের ব্যবস্থাপনাধীন মধুটিলা ইকোপার্ক গড়ে উঠেছে। পোড়াগাঁও ইউনিয়নের মধুটিলা ফরেষ্ট রেঞ্জের সমেশ্চূড়া বীটের আওতায় ৩৮০ একর পাহাড়ি টিলার উপর “মধুটিলা ইকো পার্ক” নামে মনোরম পিকনিক স্পট গড়ে তোলা হয়।

মধুটিলা ইকোপার্ক

 

এরপর থেকেই নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক নৈস্বর্গিক ওই পিকনিক কেন্দ্রে হাজার হাজার ভ্রমণ পিপাসুদের পদচারনায় ভরে উঠেছে। প্রতি বছর শীত মওসুমে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শিক্ষা সফর ও বনভোজনে বাস, মাক্রোবাস, প্রাইভেট কার করে হাজার হাজার ভ্রমন পিপাসুরা বেড়াতে আসছে।

ইকোপার্ক সূত্রে জানা গেছে, এই ইকো পার্কে বর্তমানে সুদৃশ্য প্রধান ফটক, ডিসপ্লে মডেল, তথ্য কেন্দ্র, গাড়ী পার্কিং জোন, ক্যান্টিন, ওয়াচ টাওয়ার, মিনি চিড়িয়াখানা, মনোরম লেক ও বোটিং, স্টার ব্রীজ, স্ট্রেম্পিং রোড বা সুউ”চ পাহাড়ে উঠার জন্য ধাপ রাস্তা (সিঁড়ি), মিনি শিশু পার্ক, মহুয়া রেষ্ট হাউজ, স্টীলের ছাতা, ইকো ফ্রেন্ডলি বেঞ্চ, আধুনিক পাবলিক টয়লেট, পার্কের প্রবেশ পথ ধরে যাওয়া বিভিন্ন সড়কের পার্শ্বে স্থাপন করা হয়েছে হাতি, হরিণ, রয়েল বেঙ্গল টাইগার, সিংহ, বানর, কুমির, ক্যাঙ্গারু, মৎস্য কন্যা, মাছ, ব্যাঙসহ বিভিন্ন জীব জন্তুর ভাষ্কর্য রয়েছে।

এছাড়া আরো রয়েছে বিরল প্রজাতি, পশু পাখি আকৃষ্ট, ঔষধী ও সৌন্দর্য বর্ধক প্রজাতির গাছের বাগান, মৌসুমী ফুলের বাগান এবং সাত রঙের গোলাপ বাগান। পার্কের উচু টিলার উপর ৩ কামরা বিশিষ্ট সুদৃশ্য বাংলো বা ‘মহুয়া রেস্ট হাউজ’ ব্যাবহার করতে হলে ময়মনসিংহ অথবা শেরপুর বন বিভাগ অফিস থেকে প্রতিদিনের জন্য ৪ হাজার ৫০০ টাকা এবং ২০০ টাকা ভ্যাটসহ মোট ৪৭০০ টাকায় ভাড়া নিতে হবে।

ভ্রমনকারীরা জানায়, যেহেতু সরকার এই পার্ক থেকে বছরে লক্ষ লক্ষ টাকা আয় করছে, তাই এই পর্কের সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও রক্ষনা বেক্ষনের জন্য জরুরী বরাদ্দের প্রয়োজন।

ইকোপার্কের দায়িত্বরত মধুটিলা রেঞ্জের রেঞ্জার আব্দুল করিম জানান, যেভাবে এই পার্কে দর্শনার্থী বা ভ্রমণ পিপাসুদের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে ভবিষ্যতে সরকারের এই স্পট থেকে বছরে কোটি টাকার উপরে রাজস্ব আয় হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।

তবে সেজন্য দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ভ্রমণ পিপাসুদের নিরাপত্তা, পার্কের সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধিসহ ইকো পার্ক থেকে নন্নী বাজার মোড় পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার রাস্তা প্রসস্তকরণ খুবই জরুরী। এতে দেশের দূর দুরান্তের বিভিন্ন লাক্সারী বাস ও কোচ সহজেই ইকো পার্কে আসতে পারবে।

 

 

ঢাকা, ০৬ জানুয়ারি (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমআই

 

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।