হিরোইক হৃদয় : সেই ভাইরাল ছবির ফটোগ্রাফারের গল্প


Published: 2018-11-30 12:37:46 BdST, Updated: 2018-12-11 02:27:45 BdST

লাইভ প্রতিবেদক : একজন হৃদয় সরকারের জীবন বদলে যাওয়ার গল্পটা আমরা জানি। একটি ছবি তার জীবনাটাকেই বদলে দিয়েছে। শুধু হৃদয় নয় তার মায়ের জীবনও পাল্টে গেছে। তবে এর পেছনের গল্পের নায়কের কথা আমরা কয়জনই বা জানি। যেই ছেলেটির একটি ছবি দেশজুড়ে তোলপাড় করেছে। ছড়িয়ে পড়েছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও। একজন মায়ের তরুণ সন্তানকে কোলে নিয়ে হেঁটে যাওয়ার সেই ছবিটি ভাইরাল হয় সামাজিক মাধ্যমে। এরপর থেকে ওই সন্তান হৃদয় সরকারের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি এবং মা সীমা সরকারের নাম বিবিসি ১০০ নারীর তালিকায় আসার গল্পটা অনেকেরই জানা। নানা চড়াই উৎরাই পেরিয়ে অবশেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সমস্ত আনুষ্ঠানিকতা শেষ করতে পেরে স্বস্তির হাসি সীমা সরকারের মুখে। হৃদয় সরকার পেয়েছেন তাঁর পছন্দের বিষয়- আন্তর্জাতিক সম্পর্ক।

খোঁজ নয়ে জানা গেছে, সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল ওই ছবিটি যিনি তুলেছেন এম এ আল মামুন নামে এক ছাত্র। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মনোবিজ্ঞানে ৪র্থ বর্ষে পড়ছেন তিনি। ঠাকুরগাঁওয়ের আল মামুন ছবিটি তোলেন তার নিজের আবাসিক হল বিজয় একাত্তরে।

তিনি বলেন, আমার কাজিনও ভর্তি পরীক্ষা দিতে এসেছিল। ওর সাথে কথা বলতে বলতেই হঠাৎ চোখে পড়ে হৃদয়কে কোলে নিচ্ছে তার মা। আমার কাছে অবাক লাগে। আমি কিন্তু ছবিতে এটিই দেখাতে চেয়েছি যে সামনে একজন হেঁটে যাচ্ছে যে হাঁটতে পারে, আর আরেকজন হাঁটতে পারে না’- এভাবেই ছবিটি তোলার পেছনের গল্প বলছিলেন মামুন।
সামাজিক মাধ্যমে ছবিটি পোস্ট করার পরই সেটি ভাইরাল হয়ে যায়। প্রচুর লাইক, শেয়ার ও কমেন্ট পড়তে থাকে।

মামুন বলেন, আমিও আমার মায়ের কাছে থাকি না। একদিন মায়ের সাথে কথা না হলে ভালো লাগে না। মা বিষয়টাই আসলে অন্যরকম। আমি তাদের স্যালুট জানাই। আমি ছবি তুলেছি কিন্তু পেছনের গল্প যে এত বিশাল তা জানা ছিলনা। এখন একটা ছবি যদি হৃদয়ের জীবনে কোন সুযোগ তৈরি করে দেয়, সেটা দারুণ।

হৃদয় সরকার বলেন, আমার এক বন্ধু আমাকে ফোন করে জানায় যে আমার ছবি ভাইরাল হয়ে গেছে। এরপর আমি অনলাইনে খুঁজতে থাকি এ ছবিটি কে তুলেছে। সাতদিন পর অবশেষে ফেসবুকে তার সাথে আমার যোগাযোগ হয়।

হৃদয়ের মা সীমা সরকার মামুনকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ও আমার আরেকটা সন্তানের মতোই, ও আমার জন্য যা করেছে, আমি ওর জন্য প্রাণখুলে দোয়া করি ও যাতে অনেক বড় হয়।

ভাইরাল হওয়া ছবিটি নিয়ে আরেকটা নতুন তথ্য দিলেন হৃদয়। ঐ ছবিতে সামনে থাকা মেয়েটিও তাঁর সহপাঠী, একইসাথে কোচিং ও ভর্তি পরীক্ষা দিতে এসেছিলেন তারা।
অন্যদের জন্য তার পরামর্শ-‘আমাদের জীবনটা খুবই ছোট। তাই যে কোন প্রতিবন্ধকতায় আপসেট না হয়ে, যে অবস্থায় থাকি না কেন সেখান থেকে উন্নতির চেষ্টা করা উচিত।

কার্টেসি : বিবিসি বাংলা

ঢাকা, ৩০ নভেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//সিএস

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।