খুবিতে এমসিজের পথচলা...


Published: 2018-10-24 10:10:40 BdST, Updated: 2018-12-15 01:58:07 BdST

সাজিদা ফেরদৌস: দিনটি ছিলো জানুয়ারি মাসের তিন তারিখ, সাল ২০১৬। সকাল সকাল বেশ তড়িঘড়ি করে ক্যাম্পাসের উদ্দেশ্যে বের হয়েছি। অচেনা জায়গা, অচেনা মানুষ। মনের এক কোণে কেমন যেন একটা অজানা ভয় জমতে শুরু করল। কেমন হবে সবাই। এসব ভাবতে ভাবতে কখন যেন পৌছে গেলাম।

শীতের সকাল। চারিদিক কুয়াশাছন্ন। শিশিরে ভেজা মাঠ। শীত এসে সবুজ শ্যামল ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য যেন আরও বেরে গেছে। ক্যাম্পাসে সবাই যে যার কাজে ব্যস্ত। অনেকে তড়িঘড়ি করে ক্লাসে যাচ্ছে আবার অনেকে দল বেধে যাচ্ছে তপনদার দোকানের চা খেতে।

এসব দেখতে দেখতে পৌছে গেলাম কবি জীবনানন্দ দাস একাডেমিক ভবনে। তিন তলায় পৌছাতেই একজন শিক্ষক এসে বললেন, তুমি কোন ডিসিপ্লিনে ভর্তি হয়েছো? স্যার কে বললাম আমি গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা ডিসিপ্লিনের (এমসিজে) শিক্ষার্থী। তারপর তিনি আমাকে আমাদের ক্লাসরুম দেখিয়ে দিলেন।

রুমে ঢুকতেই দেখি অনেকে চলে এসেছে। শুরু হল পরিচয় পর্ব। নিমিষেই সব ভয় কোথায় যেন পালিয়ে গেল। মনে হলে সবাই যেন কত দিনের চেনা। ৩৮ জন শিক্ষার্থী এবং ২ জন শিক্ষক নিয়ে শুরু হল খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমসিজের পথচলা।

নতুন ডিসিপ্লিন, তাই লোকবল কম। কিন্তু তাতে কি, কোন কাজেই পিছিয়ে ছিলনা এমসিজে। মাত্র একদিনের আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয় নববর্ষের মেলায় স্টল দেওয়া থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় দিবস, পিঠা উৎসব, খেলাধূলা সবকিছুতে নিজেদের পারদর্শিতা দেখিয়েছে
এমসিজে।

শিক্ষামেলায় এমসিজের অংশগ্রহণ সহশিক্ষা কার্যক্রমের কথা। পড়াশোনাতেও সমানভাবে এগিয়ে এমসিজে। প্রথম সেমিস্টার পরিক্ষার ফলাফল প্রকাশ হল। স্কুল ফার্স্ট হল এমসিজে ডিসিপ্লিন থেকে। পরবর্তি সেমিস্টার পরীক্ষার ফল ছিল প্রশংসানীয়।

দেখতে দেখতে প্রায় তিনটি বছর কখন যেন পার হয়ে গেল। এমসিজে পরিবার পেয়েছে নতুন সদস্যদের। সবাই অপেক্ষায় আছি আরও কিছু নতুন সদস্যদের জন্য। তারা এলে যেন সম্পূর্ন হবে এমসিজের এ পথচলা।

এমসিজে ডিসিপ্লিনের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মাসুদ-ঊন-নবী শুভ বলেন, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা ডিসিপ্লিনের কাজ মূলত সমাজের সকল স্তরের মানুষের জন্য। সব ধরণের মানুষের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে লেখনির মাধ্যমে সমাজের উন্নয়ন সাধনই আমাদের প্রধান কাজ।

২০১৬ সাল থেকে যাত্রা শুরু করা খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা ডিসিপ্লিন সৃষ্টিশীলতায় বিশ্বাসী। ডিসিপ্লিন চালু হওয়ার প্রথম পর্যায় থেকেই শিক্ষক-শিক্ষার্থীবৃন্দ একটা পরিবার হয়ে পথ চলছি। চিরাচরিত ধ্যান ধারণার বাইরে গিয়ে যুগের সাথে তাল মিলিয়ে আমরা আমাদের শিক্ষালব্ধ জ্ঞান দৈনন্দিন জীবনে কাজে লাগিয়ে সমাজ তথা মানব সেবায় নিয়োজিত থাকতে পারবে বলে আমাদের বিশ্বাস। সবার অভিন্ন প্রচেষ্টা দেশ, সমাজ ও মানুষের জন্য ভালো কিছু করার।

তৃতীয় বর্ষের আরেক শিক্ষার্থী ফাহমিদা খান বলেন, এটা একটা অসাধারণ জায়গা যেখানে বইয়ের গৎবাঁধা শিক্ষা না বরং মানুষ হতে শেখায়। সবাইকে নিয়ে আমরা এক পরিবার।

 

 


ঢাকা, ২৪ অক্টোবর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।