রাবি, রুয়েট বন্ধ: বিপাকে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা!


Published: 2018-06-11 21:49:50 BdST, Updated: 2018-09-25 13:59:12 BdST

রাশেদ রাজন: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) এবং রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। গ্রীষ্মকালীন অবকাশ, পবিত্র মাহে রমজান ও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ছুটি শুরু হওয়ার পর থেকে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ব্যবসার অবস্থা খুবই শোচনীয়।

যাত্রী না থাকায় আর্থিক সংকটে পড়েছে স্থানীয় অটো এবং রিকশা চালকরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরকে কেন্দ্র করে জীবিকা নির্বাহ করা হাজার হাজার মানুষের জীবন এখন অনেকটাই থমকে গেছে।

বিনোদপুর বাজারের সবজি বিক্রেতা রাসেল। তার পরিবারে দুই ছেলে এক মেয়ে, স্ত্রী এবং মা-বাবা। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় তার পরিবারের প্রতিদিনের চাহিদা মেটানোর মত সবজি বিক্রি আর হয় না। রাসেল ক্যাম্পাসলাইভকে জানান, ঈদ আসতে আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। আমার না হোক অন্তত ছেলে মেয়ে, স্ত্রী এবং বাবা-মায়ের জন্য হলেও তো নতুন জামা-কাপড় কেনা দরকার। বেচাকেনার যে হাল তা দেখে মনে হচ্ছে না যে এ বারের ঈদটা ভাল ভাবে কাটবে।

সরেজমিনে ঘরে দেখা গেছে, বড় দুই ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় সব স্তরের ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বড় ক্ষতির মুখে পড়েন রাসেলের মতো ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা, যাদের প্রতিদিনের পণ্য বিক্রির অর্থ দিয়ে পুরো পরিবারটি চলে। তাদের ব্যবসা এখন লাটে উঠেছে। আর এদিকে অটো রিক্সাচালকরা বলছেন, যাত্রী না থাকায় পরিবারের নিত্যনৈমিতিক চাহিদা মেটাতে হিমসিম খেতে হচ্ছে। তারপরে তো আবার সামনে ঈদ।

রাবি এবং রুয়েট ক্যাম্পাসসহ তালাইমারি, ভদ্রা, পার্শবর্তী বিনোদপুর, কাজলা, ও স্টেশন বাজার এলাকার ক্ষুদ্রব্যবসায়ী, মুদির দোকানদার, রিকশা চালক, অটোচালক, কম্পিউটার দোকানী, ফ্লেক্সিলোডকারী, ফটো দোকানী, হোটেল মালিক সহ বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষ চরম বিপাকে পড়েছেন।

তারা এখন অনেকটাই বেকার জীবন পার করছেন। শুধু ক্যাম্পাসের ভেতরে খাবার, ফটোকপি কম্পোজ, বাইন্ডিং ও টুকিটাকি বিভিন্ন দ্রব্য ক্রয় করার জন্য প্রায় আড়াই শতাধিক দোকান খোলা থাকলেও দোকানে একেবারে ক্রেতা নাই বললেই চলে।

ক্যাম্পাসের খাবার হোটেল সাগর ক্যান্টিনের মালিক আব্দুল্লাহ জানান, ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে আমাদের ব্যবসা কিন্তু তারা না থাকায় আমার হোটেল বন্ধ রাখতে হচ্ছে। পরিবহন মার্কেটের কম্পিউটার দোকানদার মান্নান ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, ক্যাম্পাস খোলা থাকাকালীন সময়ে যে আয় হত এখন তার একগুণও হয় না।

তুহিন ফটোস্টাটের ইনসার জানান, দীর্ঘ দিন ক্যাম্পাস বন্ধ থাকার কারণে ছাত্র-ছাত্রী নেই কাদের নিয়ে কাজ করবো ফলে ব্যবসা এখন লাটে উঠেছে। এদিকে রাবি মেইন গেটে অটোচালক ফারুক ক্যাম্পাসলাইভকে জানান, ক্যাম্পাস বন্ধ। ছাত্রছাত্রী নেই। আয় ইনকাম তেমন আগের মতো হয় না।

স্টেডিয়াম মার্কেটের বুক বাইন্ডিং এর মালিক আরিফ জানালেন, ক্যাম্পাস বন্ধ। দোকান ভাড়া ও কর্মচারীর বেতন দেওয়া খুব কষ্টকর হয়ে পড়েছে। এজন্য ৩ জনের জায়গায় ১জন নিয়ে কাজ করছি।

বিনোদপুর বাজারের সবজি বিক্রেতা জাহিদ ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, ক্যাম্পাস খোলা থাকলে দিনে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকার বিক্রি করি। কিন্তু এখন পাঁচ থেকে আটশো টাকা বিক্রি হয়।

রিক্সাচালক জহির বলেন, আমি ক্যাম্পাস কেন্দ্রিক রিক্সাচালক। ক্যাম্পাস বন্ধ আমাদের আয় তেমন হয় হয় না। যা অল্প হয় তার মধ্যে আবার মালিককে ভাড়া দিতেই বেশির ভাগ টাকা চলে যায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসক্লাবের পাশের চা বিক্রেতা রুহুল বলেন, ক্যাম্পাস খোলা অবস্থায় প্রতি মাসে চা, বিস্কুট, পান, সিগারেট, কলাসহ প্রায় ৩৫ হাজার টাকা বিক্রি হতো। কিন্তু ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় গত মে মাসে মাত্র ১৫ হাজার টাকার কিনাবেচা হয়েছে। বেচাকোনার বেহাল দশা যার কারণে দোকানের একটা মাত্র কর্মচারী তার বেতন পর্যন্ত দিতে পারিনি।

এছাড়া জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালযের ১৬টি আবাসিক হলের ডাইনিং ও ক্যান্টিংসহ কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়ায় কর্মরত আছেন প্রায় আড়াই শতাধিক কর্মচারী। যারা এগুলো পরিচালনা করে নির্দিষ্ট অংশ পেয়ে থাকেন। তাদের কয়েকজন জানান, ক্যাম্পাস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাদের পরিবার পরিচালনা করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত ১০ মে থেকে রুয়েট ৪৪ দিন এবং রাবি ১৬ মে থেকে ৩৯ দিনের ছুটিতে গেছে গ্রীষ্মকালীন অবকাশ, পবিত্র মাহে রমজান ও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে। ছুটি শেষে রুয়েট এবং রাবি ক্যাম্পাস চালু হবে আমাগী ২৪ জুন ।

 


ঢাকা, ১১ জুন (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।