অদ্ভুত ভাইভা : আর্জেন্টিনার সাপোর্টার তাই চাকরি!


Published: 2018-06-09 00:49:48 BdST, Updated: 2018-07-23 06:26:25 BdST

সাজিদ খান তাজিন : গত দুই বছরে ১৯টি চাকরির মৌখিক পরীক্ষা দিলাম। সেগুলোর বিস্মৃতি মনে পড়লে আর কোন পরীক্ষাই দিতে ইচ্ছে হয় না। এক বড় ভাইয়ের পরামর্শে একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে সিভি পাঠিয়েছিলাম গতমাসে। সেটার ভাইভায় অনিচ্ছা স্বত্ত্বেও শুধু বাবা মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে উপস্থিত হলাম ফার্মগেটে তাদের অফিসে।

ভাইভার রুমে ঢুকেই সালাম দিলাম। ৩ জন মধ্যবয়সী লোক স্যুটবুট পরে বসে আছেন। মাঝখানের জন বসতে বললেন। বুঝে নিলাম তিনিই এখানে বস। সার্টিফিকেট ভরা আমার হাতের ফাইলটা চাইলেন তিনি।

ভাইভা শুরু হল!
— মিস্টার তাজিন, আপনি কি খুব ব্যস্ত থাকেন নাকি?
-জি স্যার, বুঝলাম না।
— চুল দাড়ি কাটাবার সময়টুকু বোধ হয় পেলেন না?
- আসলে ফেইসবুক, ইউটিউব নিয়ে পড়ে থাকি তো, খেয়াল থাকে না।
—শার্টটাও ইস্ত্রি করার সময় পেলেন না?
-স্যার এটা আমার না, এক বন্ধুর শার্ট। আসার সময় চেয়ারের উপর পেলাম। গায়ে দিয়ে চলে আসলাম।
— এতটা ইনসিন্সিয়ার হলেতো প্রাইভেট জব করা মুশকিল! আগের কোন অভিজ্ঞতা আছে?
-কেউ চাকরিই দেয় না স্যার অভিজ্ঞতা থাকবে কি করে?
—আপনার সিজিপিএ এত কম কেন?
- জানি না স্যার, আমিতো খাতা ভরেই লিখতাম। টিচাররা মার্ক দিতেন না।
—কোন এক্সট্রা কারিকুলার এক্টিভিটিস আছে আপনার?
- একবার পহেলা বৈশাখে সাকিব খানের ড্যান্স দিয়েছিলাম স্যার।
—সেই নাচটা দেখাতে পারবেন?
-সু পড়ে নাচা যায় না স্যার!
—একটা গান শোনান তাহলে।
- গলা ভাঙা স্যার, ঠান্ডা লাগছে
—তাহলে একটা কবিতা শোনান!
- সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি,
আমি যেন সারাদিন...
— আচ্ছা থাক থাক। ঠিক আছে। বাদ দেন।
- স্যার ফোনটা অনেক্ষণ ধরে ভাইব্রেট করছে। একটা কল আসছে। রিসিভ করব?
— (দীর্ঘশ্বাস) করুন! এটা আর বাদ রাখবেন কেন?
এক হাত দিয়ে আড়াল করে ফিসফিসিয়ে কথা শেষ করলাম।

— ফোনে আনব আনব বলছিলেন। নিশ্চয়ই গার্লফ্রেন্ড কিছু নিয়ে যেতে বলেছে।
- না স্যার। এক বন্ধু ঢাকা থেকে একটা ভাল মানের আর্জেন্টিনার জার্সি নিয়ে যেতে বলল।
— আপনিও কি আর্জেন্টিনার সাপোর্টার নাকি?
- জ্বি স্যার
— এতক্ষণ বলেননি কেন?
- কেন স্যার, আপনিও কি....
— আরে নাহ। আপনি জয়েন করতে পারবেন কবে থেকে?
- আপনি যেদিন বলবেন স্যার সেদিনই পারব।

পাশের চশমা পড়া ভদ্রলোক দেখলাম একটু নড়েচড়ে বসলেন। বোধ হয় কিছু একটা বলতে চান।

তার আগেই সেই বস স্যার আমাকে বললেন, আপনি আগামি সপ্তাহ থেকে বরিশাল ব্রাঞ্চে জয়েন করুন।

আমি ধন্যবাদ জানিয়ে বিদায় নিলাম। আসার সময় শুনলাম পাশের জন বলছে, স্যার যে ছেলের সিজিপিএ এত কম, কোন অভিজ্ঞতা নেই, মাস্টার্সের সার্টিফিকেটটাও নেই তার উপর এত ইরিস্পন্সিবল। এই ছেলেকে আপনি কেন রিক্রুট করলেন?

উত্তরটা শোনার জন্য আমি হাতের কলমটা ফেলে আবার উঠাতে লাগলাম।

তিনি বললেন, এই ছেলে জীবদ্দশায় যে টিমকে কখনো ট্রফি হাতে দেখেনি সে যদি এখনও সেই টিমকেই সাপোর্ট করে, তাহলে তার ধৈর্য আর অধ্যবসায় নিয়ে কোন সন্দেহ করা চলে না। এই কোম্পানি যদি কখনো ফুটপাতেও বসে যায়, আপনি আমি ছেড়ে চলে গেলেও এই ছেলে ছাড়বে না।

রাস্তায় নেমে একটা স্বস্তির নিশ্বাস ছাড়লাম। বন্ধুদের এত পচানির পরেও আর্জেন্টিনার সাপোর্ট ছাড়ি নাই। এতদিনে তার একটা ফল পেলাম।

আজকের ইফতারিটা বন্ধুদের নিয়ে একটু স্পেশাল ভাবেই করা উচিত। পাশের দোকান থেকে একটা বড় সাইজের 7 up কিনে বাসের জন্য অপেক্ষা করতে লাগলাম!

[বি:দ্র: এটি একটি রম্য ভাইভা। কারো মনে আঘাত দেয়া এর উদ্দেশ্য নয়। নিতান্তই বিনোদনের খোরাক এটি]

লেখক : সাজিদ খান তাজিন
শিক্ষার্থী, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

ঢাকা, ০৯ জুন (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//সিএস

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।