ফুল-পাখিতে শোভিত কুবির আর্ডেন


Published: 2018-03-31 22:32:52 BdST, Updated: 2018-07-23 12:03:16 BdST

এমদাদুল হক সরকার: ফুল ফোটার ঋতুর কথা উঠলেই প্রথমেই আসে ঋতুরাজ বসস্তের কথা। প্রকৃতিতে এখন বসন্ত কাল। বসন্ত মানেই কৃষ্ণচূড়া, শিমুল, পলাশসহ নানা ফুলের সৌন্দর্য্য আর সৌরভে আকাশ বাতাসে আনন্দের হিল্লোল।

বসন্তের কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ও তার ব্যতিক্রম নয়। ক্যাম্পাসের মূল ফটক থেকে ইট বিছানো ক্যাফেটরিয়া রাস্তা দিয়ে এগুলেই ক্যাফেটেরিয়ার আগে কলা ও মানবিক অনুষদের পেছনে লাল মাটির পাহাড়ের উপর ইংরেজি বিভাগের ছোট্ট একখন্ড যায়গা চোখে পড়বে। নানা রঙ্গের ফুল আর পাখির কিচিরমিচির শব্দে হৃদয় ছুয়ে যাবে।

ইংরেজি বিভাগ জায়গাটির নাম দিয়েছে ফরেস্ট অব আর্ডেন। আর্ডেন মানে স্বর্গ। প্রকৃতি প্রমীদের কাছে এ যেন সত্যিই স্বর্গ। কামিনী, গোলাপ, গন্ধরাজ, গাধা, বেলী, ডালিয়াসহ নানা রঙ্গের ফুলের বাহার। তার পাশেই রয়েছে লাল শাক, মুলা শাক, লাউ, টমেটোসহ হরেক রকম শাক সবজি।

ফরেস্ট অব আর্ডেনের পূর্ব পার্শ্বে রয়েছে এক পায়ে দায়িয়ে কয়েকটি তালগাছ। তাছাড়া শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে সেখানে বৃক্ষরোপন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। সেখানে বাসা বেধেছে পাখিরা।

বসন্তের কোকিলসহ অসংখ্য পাখির কিচিরমিচির শব্দে মন হারিয়ে যায় প্রকৃতির গহীন ভুবনে। পশ্চিম পাশ্বে রয়েছে বসার বেঞ্চ। সেখানে বসে শিক্ষার্থীরা প্রকৃতির সাথে একাকার হয়ে প্রিয়জনদের নিয়ে আড্ডা, গল্পে মেতে ওঠেন। শিক্ষার্থী এমদাদুল এইচ সরকার বলেন, "যখন এখানে আসি এটা আমাদের ওয়ার্ডসওয়ার্থের টিনটার্ন নদীর তীরে, স্পেনসারের আর্কেডিয়ায়, রবীন্দ্রনাথের শান্তি নিকেতনে, শেক্সপিয়ারের ফরেস্ট অব আর্ডেন বা হুমায়ুন আহমেদের নুহাশ পল্লীতে আশ্রয় নেয়ার মত প্রশান্তি দেয়।"

ইংরেজি বিভাগের শিক্ষকরা প্রায়শই শিক্ষার্থীদের প্রেজেন্টেশন বদ্ধ ক্লাস রুমে না নিয়ে আর্ডেনের মনোমুগ্ধকর প্রকৃতিতে নিয়ে থাকেন। ফরেস্ট অব আর্ডেনকে যিনি আর্ডেন করে তুলেছেন সেই প্রকৃতিপ্রেমি মানুষটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের পঞ্চম ব্যাচের শিক্ষার্থী শরিফুল ইসলাম।

কুবির আর্ডেন

ফরেস্ট অব আর্ডেন নিয়ে তিনি বলেন," পাহাড়কোলে একখন্ড জমি যেথায় বৃক্ষ ফুল শাকসবজি আর পাখির কিচির মিচিরে শোভিত হবে। সেথায় ছাত্রছাত্রীরা মনের আনন্দে প্রকৃতিকে উপভোগ করবে। এরকম স্বপ্ন দেখতে কার না ভালো লাগে? বিভাগের প্রিয় শিক্ষকদের পরামর্শে সেই স্বপ্নের বাস্তবায়নই আজকের ফরেস্ট অব আর্ডেন"।

ফরেস্ট অব আর্ডেনের প্রকৃতির এ অপরূপ সৌন্দর্যের সংস্পর্শ প্রিয় জনের কথা মনে করিয়ে দেয়। মন যেন প্রিয় মানুষের সান্নিধ্য চায়। হয়তো ইচ্ছা হয় হারিয়ে যেতে প্রিয়জনের হাতটি ধরে। তাইতো ক্লাসের শেষে, রৌদ্র উজ্জ্বল দুপুরে, বিকালে, জ্যোত্স্না রাতে অথবা ক্লাস ফাঁকি দিয়ে শিক্ষার্থীদের ফরেস্ট অব আর্ডেনের বসার বেঞ্চ গুলোতে বসে প্রকৃতিকে উপভোগ করতে দেখা যায়।

দশম ব্যাচের শিক্ষার্থী জাহেদ নহিম বলেন, "লাল মাটির এই সবুজ ঘেরা ক্যাম্পাসকে আরো বিমোহিত করেছে ফরেস্ট অব আর্ডেন তার আপন সৌন্দর্যে। সত্যিই হারিয়ে যেতে ইচ্ছে করে বসন্তের কোন এক বিকেলে ফরেস্ট অব আর্ডেনে।" ফরেস্ট অব আর্ডেনে আড্ডা দিতে এসে বাংলাদেশ স্টাডি ফোরাম কুবি-এর সভাপতি হাফছা জাহান বলেন, " যতবার এখানে আসি তত বার ফরেস্ট অব আর্ডেনের প্রেমে পড়ি"।

এমদাদুল হক সরকার
শিক্ষার্থী
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়।

 

ঢাকা, ৩১ মার্চ (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।