থাকছে না বিভাগ, দশম শ্রেণি পর্যন্ত যেকোন বিষয়ে পড়াশোনা


Published: 2017-12-06 00:35:46 BdST, Updated: 2017-12-17 16:06:04 BdST

লাইভ প্রতিবেদক : শিক্ষাব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। চালু হচ্ছে নতুন পদ্ধতি। ওই পদ্ধতির চালু হলে মাধ্যমিকে আর থাকবে না কোন বিভাগ। মানে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শাখার আলাদা বিভাগ থাকছেনা। শিক্ষার্থীরা ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত যেকোন বিষয়ে পড়াশোনা করতে পারবেন। ইচ্ছামতো বিষয় নির্বাচনের মাধ্যমে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করতে পারবেন তারা। তবে এইচএসসি স্তরে গিয়ে বিষয় নির্বাচন করে পড়তে হবে।

মাধ্যমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষা মন্ত্রণালয় গঠিত কমিটির বিশিষ্ট শিক্ষাবিদদরা এমন প্রস্তাব দিয়েছেন। তারা জেএসসি ও এসএসসিতে পরীক্ষার বিষয় কমানোরও প্রস্তাব দিয়েছেন। তাদের প্রস্তাব বাস্তবায়ন করতে ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে মন্ত্রণালয়।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (মাধ্যমিক-১) চৌধুরী মুফাত আহমেদ জানান, শিক্ষাক্রম পর্যালোচনা কমিটির সুপারিশগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। শিক্ষাবিদরা ইতিবাচক মত দিয়েছেন। অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মতামত নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। শিক্ষাবিদদের সুপারিশ বাস্তবায়ন হলে অনেকগুলো বিষয়ে পাবলিক পরীক্ষা কমবে।

প্রসঙ্গত, মাধ্যমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে পরামর্শ দিতে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয় গত বছর। কমিটির সদস্যদের নিয়ে গত বছর ২৫ ও ২৬ নভেম্বর কক্সবাজারে দুই দিনের আবাসিক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এতে শিক্ষাবিদরা বেশ কিছু সুপারিশ করেন। সুপারিশ বাস্তবায়নে কয়েকটি সাব-কমিটিও গঠন করা হয়। সুপারিশ বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে গত ৩০ নভেম্বর মন্ত্রণালয়ে একটি বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় শিক্ষাক্রম পর্যালোচনা সাব-কমিটি আট দফা সুপারিশ প্রস্তাব করেছেন। এতে ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষাক্রমের বিষয়বস্তু গুরুত্ব অনুসারে তিন গুচ্ছে ভাগ করার কথা বলা হয়েছে। ‘ক’ গুচ্ছে বাংলা, ইংরেজি ও গণিত। ‘খ’ গুচ্ছে বিজ্ঞান, সমাজ পাঠ (ইতিহাস, পৌরনীতি ও ভূগোল)। ‘ক’ ও ‘খ’ গুচ্ছ বাধ্যতামূলক। আর ‘গ’ গুচ্ছে তথ্য প্রযুক্তি, চারু-কারু কলা, শরীরচর্চা ও খেলা, ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা, কৃষি ও গার্হস্থ্য, নৃগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি।

এ গুচ্ছে প্রকৌশল প্রযুক্তি (বিদ্যুৎ, যন্ত্র, কাঠ, ধাতু ইত্যাদির ব্যবহারিক জ্ঞান ও প্রয়োগ) যুক্ত করার মত দিয়েছেন শিক্ষাবিদরা। অষ্টম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষায় চারু ও কারুকলা, ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা, কৃষি, গার্হস্থ্য বিজ্ঞান, শরীরচর্চা ও তথ্য প্রযুক্তি বিষয়গুলো বিদ্যালয়ভিত্তিক মূল্যায়নের সুপারিশ করা হয়েছে। সুপারিশ বাস্তবায়ন হলে বর্তমানে অষ্টম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষায় ১০টি বিষয় থেকে তিনটি কমবে। সাতটি বিষয়ে পরীক্ষা হবে।
শিক্ষাবিদদের মতে, ‘গ’ গুচ্ছের বিষয়ে জ্ঞান ও তত্ত্বের চেয়ে চর্চা, আগ্রহ বৃদ্ধি, মনোভাবের পরিবর্তন ও সৃজনশীলতার প্রকাশ এবং প্রায়োগিক দক্ষতা বেশি প্রয়োজন। এসব বিষয়ে পাবলিক পরীক্ষা না নিয়ে বিদ্যালয়ভিত্তিক ধারাবাহিক মূল্যায়ন ও এর সঙ্গে যুক্ত সুচিন্তিত সহশিক্ষাক্রমিক কার্যাবলির নিবিড় যোগ স্থাপন করতে হবে। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে শিক্ষকদের ধারণা দিতে নির্দেশিকা তৈরি ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।

প্রসঙ্গত, কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী এরই মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় অষ্টম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষায় ১৩টি বিষয় থেকে তিনটি বিষয়ের পরীক্ষা কমিয়ে ফেলেছে। সদ্য সমাপ্ত অষ্টম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষায় শারীরিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, কর্ম ও জীবনমুখী শিক্ষা এবং চারু ও কারুকলা বিষয়ে পরীক্ষা হয়নি। এসব বিষয়ে বিদ্যালয়ে ধারবাহিক মূল্যায়ন করা হয়েছে। আর এসএসসিতে শারীরিক শিক্ষা ও ক্যারিয়ার শিক্ষা বিষয়ের পরীক্ষা বাদ দেয়া হয়েছে।

আগামী বছর থেকে এই দুই বিষয়ে পরীক্ষা হবে না। তবে শ্রেণিকক্ষে মূল্যায়ন করা হবে। মূল্যায়নের নম্বর সংশ্লিষ্ট শিক্ষাবোর্ডে পাঠাতে হবে। মূল মার্কসিটে এসব বিষয়ের প্রাপ্ত নম্বর উল্লেখ থাকবে। তবে পরীক্ষার ফলাফলে কোনো প্রভাব পড়বে না।

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস প্রফেসর ড. মঞ্জুর আহমেদ বলেন, মাধ্যমিক স্তরে বিভাগভিত্তিক পড়াশুনার পরিবর্তে গুচ্ছভিত্তিক প্রস্তাব করা হয়েছে। এ পদ্ধতিতে সকল শিক্ষার্থী বিজ্ঞান, ভূগোল ও ইতিহাস বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করতে পারবে। উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে গিয়ে শিক্ষার্থীরা বিভাগ পছন্দ করে ভর্তি হবে।

ঢাকা, ০৬ ডিসেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//সিএস

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।