শাবিতে এবার পাঁচ লাখ টাকার চুক্তিতে ভর্তি!


Published: 2017-11-19 02:15:21 BdST, Updated: 2018-04-25 04:39:14 BdST

লাইভ প্রতিবেদক : শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবি) ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি পরীক্ষায় ফের জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। ভর্তিচ্ছুদের ৩ থেকে ৫ লাখ টাকায় ভর্তির সুযোগ করে দেয়া হয়েছে। অাবার কেউ কেউ কম টাকায়ও জালিয়াত চক্রের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে বলে জানা গেছে। তারা ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে শাবিতে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। ওই চক্রের দুই সদস্যকে আটক করা হলেও জালিয়াতির ক্রীড়নকদের এখনও সনাক্ত করতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কিংবা আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
একাধিক সূত্রমতে মাত্র দুইজন আটক হলেও ডিজিটাল জালিয়াতির মাধ্যমে এবার শাবিতে অনেকেই ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। প্রশাসনের চোখকে ফাঁকি দিয়ে তারা শাবিতে চান্স পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। যদিও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দাবি এবার শাবিতে যথাযত তৎপরতা ও কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ভর্তি পরীক্ষা হয়েছে। তাই এখানে জালিয়াতির সুযোগ নেই। যারা এর সঙ্গে জড়িত তাদের মধ্য কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। জালিয়াত চক্রকে পাকড়াও করতে প্রশাসন সক্রিয় ভূমিকায় রয়েছে।

এর আগওে গত বছর শাবিতে ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগে বেশ কয়েকজন আটক হলেও সেটি পরবর্তীতে ধামাচাপা পড়ে যায়। সেসময় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কয়েক নেতকর্মী ভর্তি জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত বলে প্রমাণ পাওয়া গেলেও তা আমলে নেয়া হয়নি। এনিয়ে গঠিত তদন্ত কমিটি আলোর মুখ দেখেনি। চলতি বছর শাবিতে ফের ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির কারণে এর সঙ্গে জড়িত সংশ্লিষ্টদের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

জানা গেছে, শনিবার বিকালে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় ইলেকট্রনিক ডিভাইসসহ আটকদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা চাঞ্চল্যকর তথ্য দেয়। তারা জানান, ডিজিটাল ডিভাইসে উত্তর সরবরাহের জন্য বড় অংকের টাকা দিতে হয়েছে জালিয়াত চক্রকে। এরমধ্যে আটক একজনের দাবি জনপ্রতি ৫ লাখ টাকা করে এবং অপরজনের ভাষ্য অনুযায়ী আড়াই লাখ টাকা করে তাদের কাছ থেকে নিয়েছে জালিয়াত চক্র। জালিয়াত চক্রের ডিভাইস নিয়ে পরীক্ষায় ১৫ জনের একটি টিম অংশ নেয় বলেও তথ্য দেন আটকরা। এর আগে সিলেট নগরীর রাজা জিসি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে একজন ও লিডিং ইউনিভার্সিটি কেন্দ্র থেকে আরেকজন পরীক্ষার্থীকে ডিভাইসসহ আটক করা হয়।

সূত্র জানায়, বিজ্ঞান বিভাগের বি ইউনিটের পরীক্ষায় নগরীর রাজা জিসি হাই স্কুল থেকে ডিজিটাল ডিভাইসসহ আটক করা হয় গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানার বাড়ই পাড়ার বেলায়েত হোসেনের ছেলে ভর্তিচ্ছু মেহেদী হাসানকে। একই সময়ে লিডিং ইউনিভার্সিটি কেন্দ্র থেকে ডিভাইসসহ সানোয়ার হোসেন নামে আরেকজন পরীক্ষার্থীকে আটক করে কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর জহিরর উদ্দিন আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক মেহেদী হাসান জানান, একটি জালিয়াত চক্রের সঙ্গে ৫ লাখ টাকার চুক্তি করে ডিভাইসটি সংগ্রহ করেছেন। ঢাকার একটি কোচিংয়ে পড়ার সময় তার সঙ্গে চাঁদপুরের এক বন্ধুর পরিচয় হয়। তার মাধ্যমে তিনি পাচঁ লাখ টাকায় চুক্তিবদ্ধ হন। পরীক্ষা শুরুর পরপরই ডিভাইসের মাধ্যমে বাইরে পাঠালে উত্তর চলে আসে। তবে কারা তার সঙ্গে কথা বলছিল তা তিনি জানেন না। মেহেদীর দাবি, নিজে কোনো প্রশ্ন পাঠাননি, তার কাছে হেডফোনের মাধ্যমে উত্তর পাঠান বাইরে থাকা চক্রের সদস্য।


ঢাকা, ১৯ নভেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//সিএস

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।