বেরোবিতে ৯ বছরেও প্রণীত হয়নি সংবিধি-প্রবিধি, প্রশাসনে গতি নেই!


Published: 2017-11-06 20:32:57 BdST, Updated: 2017-11-21 21:42:49 BdST

 

এস এম আল-আমিন,বেরোবি: বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েগেছে অবহেলা আর অযতনে। বার বার নানান পক্ষ থেকে চাপ দিলেও কিছুই কিছু হচ্ছে না। চলছে খুড়িয়ে। একারণে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে কোন গতি নেই। মন্তর গতি লক্ষ্য করাগেছে।

প্রতিষ্ঠার নয় বছর পেরিয়ে গেলেও পূর্ণাঙ্গ সংবিধি-প্রবিধি প্রণয়ন করা হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় আইনে সংবিধি-প্রবিধি’র কথা উল্লেখ থাকলেও তা চূড়ান্ত করতে উদ্যোগ নেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

সংবিধি-প্রবিধি না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম নানাভাবে ব্যহত হচ্ছে বলে জানা গেছে।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০০৯ এর ৩৯ নং ধারাতে সংবিধি প্রণয়নের অনুচ্ছেদে (২ নং) বলা হয়েছে, ‘তফসিলে বর্ণিত সংবিধি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সংবিধি হইবে’।

৩ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে , ‘সিন্ডিকেট কর্তৃক প্রণীত সকল সংবিধি অনুমোদনের জন্য চ্যান্সেলরের নিকট পেশ করিতে হইবে’ এবং ৪ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ‘চ্যান্সেলর কর্তৃক অনুমোদিত না হইলে সিন্ডিকেট এর প্রস্তাবিত কোনো সংবিধি বৈধ হবে না।’

৪১ নং ধারাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি প্রণয়ন সম্পর্কে বলা হয়েছে, ‘সিন্ডকেট মঞ্জুরী কমিশনের সুপারিশক্রমে এবং চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি প্রণয়ন করিবে’।

বিশ্ববিদ্যালয় আইন সংবিধি-প্রবিধির কথা উল্লেখ থাকলেও অজানা কারণে তা প্রণীত হয়নি। এতে বিগত সময়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন ব্যবস্থা নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। অনেক সময় একই বিষয়ে দুই ধরনের সিদ্বান্ত নেয়া হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায় , নিজস্ব বিধি-প্রবিধি না থাকায় বিভিন্ন বিষয়ে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনসরণ করে থাকে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এতে বিগত সময়ে একই বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন সিদ্বান্ত নেয়ার ঘটনা ঘটেছে।

জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে সাবেক ভিসি ড. আব্দুল জলিল মিয়ার সময় একটি খসড়া সংবিধি-প্রবিধি চ্যান্সেলরের কাছে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তুু পরবর্তীতে তা কার্যকর করা হয়নি। তৃতীয় ভিসির প্রশাসন এ বিষয়ে কোন উদ্যোগ নেয়নি।

এছাড়া বিশ্বিবিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের নীতিমালা, ব্যাচেলর ডিগ্রী, মাস্টার্স ও পরিবহন নীতিমালা থাকলেও হয়নি পেনশন ও ছুটিসহ অন্যান্য নীতিমালা। সাবেক ভিসি স্ব‍াক্ষরিত ২০১৩ সালের ২০ ডিসেম্বও নামেমাত্র একটি পরিবহন নীতিমালা হলেও তা পূর্নাঙ্গ রূপ পায়নি এখনো।

এদিকে শিক্ষার্থীদের আচরণ-শৃঙ্খলা নীতিমালা হলেও তার পূর্নাঙ্গ বাস্তবায়ন নেই।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সিনিয়র শিক্ষক বলেন, সংবিধি-প্রবিধি তৈরিতে বিগত ভিসিগণ কোন আগ্রহ দেখাননি।

তাদের শঙ্কা ছিল সংবিধি-প্রবিধি থাকলে তারা ইচ্ছামত প্রশাসন চালাতে পারবেন না। তাই নাানা অজুহাতে সংবিধি-প্রবিধি তৈরিতে বিলম্ব করেছেন। তিনি আরও বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয়ে একই অপরাধে দুই ধরণের শাস্তি প্রদানের ঘটনা ঘটেছে।

বিগত ভিসিগণ নিজেদের স্বার্থে অন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ধার করা বিধি দ্বারা বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার ইব্রাহীম কবীর ক্যাম্পাসলাইভকে জানান, অনেক আগেই সংবিধি-প্রবিধি মন্ত্রাণালয়ে জমা দেয়া হয়েছে।

সেটি চূরান্ত হয়নি। দু’দিন আগে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একটি সভায় বিষয়টি উত্থাপিত হয়েছে। বর্তমান প্রশাসন সংবিধি-প্রবিধি প্রণয়নে কাজ করছে।

 

ঢাকা, ০৬ নভেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//বিএসসি

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।