নামের মিল : খুনের মামলায় ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রের সাজা!


Published: 2017-11-03 01:27:24 BdST, Updated: 2017-11-18 12:12:50 BdST

টাঙ্গাইল লাইভ : মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হত্যা মামলায় একজনের অপরাধের সাজা ভোগ করছেন অন্যজন। হত্যা মামলার কারণে সাদ্দাম হোসেন নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই ছাত্রকে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। সাদ্দাম মাভাবিপ্রবির পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের ৪র্থ বর্ষের দ্বিতীয় সেমিস্টারের ছাত্র। নামের মিল থাকায় তাকে আসামি করে হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

গত ২০১৬ সালের ২০ জানুয়ারি টাঙ্গাইল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করলে আদালত সাদ্দামকে জেল হাজতে পাঠায়। পরে একই বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি জামিনে মুক্তি পান তিনি। সাদ্দামের দাবি, একই বিভাগের অন্য এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে তার নামের মিল থাকায় এমনটা হয়েছে। তিনি এ ঘটনার দিন বাইরে অবস্থান করেছিলেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে গত ২০১৫ সালের ১৩ মে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাদাত খালেদ মোশারফ নিহত হন।

এ ঘটনায় ১৬ মে মোশারফের বাবা মুক্তিযোদ্ধা মো. শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে ১৪ জনের বিরুদ্ধে টাঙ্গাইল সদর থানায় মামলা করেন। পরবর্তীতে একই বছরের ৩ ডিসেম্বর আসামিদের জবানবন্দি ও সাক্ষীদের তথ্য যাচাই শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৬ শিক্ষার্থীকে অভিযুক্ত করে অভিযোগ গঠন করা হয়।

টাঙ্গাইল বিচারিক হাকিম আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও টাঙ্গাইল গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক অশোক কুমার সিংহ। পরবর্তীতে ১৩ নম্বর আসামি মো. সাদ্দাম হোসেন সম্পর্কে বিভ্রান্তি তৈরি হয়।

এ ব্যাপারে মো. সাদ্দাম হোসেন বলেন, আমি ঘটনার সঙ্গে জড়িত নই। আমার বিভাগের অন্য এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে আমার নামের মিল থাকায় এমনটা হয়েছে। চার্জশিটে বলা হয়েছে, আসামি তৃতীয় বর্ষ দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী। কিন্তু আমি তখন দ্বিতীয় বর্ষ দ্বিতীয় সেমিস্টারের ছাত্র ছিলাম।

সাদ্দাম আরও বলেন, যেহেতু আমার নামে মামলা হয়েছে, তাই আদালতকে সম্মান জানিয়ে গত ২০১৬ সালের ২০ জানুয়ারি হাজিরা দিয়েছিলাম। তখন জেলও খেটেছি ১৫ দিন। আমি এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত নই, এই মর্মে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরীয় বডির সদস্যরা, আমার বিভাগীয় প্রধান ও কয়েকজন সাক্ষী প্রত্যয়ন করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড. মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। আমরা যতটুকু জানতে পেরেছি মো. সাদ্দাম হোসেন ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয়।

এ প্রসঙ্গে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও টাঙ্গাইল গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক অশোক কুমার সিংহ বলেন, যাচাই-বাছাই করেই চার্জশিট দেয়া হয়েছে। ঘটনাটি অনেকদিন আগের। এখন নানা কারণে সাক্ষীরা বক্তব্য পরিবর্তন করতে পারেন।

 

ঢাকা, ০৩ নভেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//সিএস

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।