ব্লু -হোয়েলসহ প্রাণঘাতী অনলাইন গেইম/চ্যালেঞ্জ থেকে সাবধান!


Published: 2017-10-10 13:46:43 BdST, Updated: 2017-11-18 12:22:51 BdST

মুদাসসির মাহমুদ : ডিজিটাল যুগ। তরুণ-তরুণীরা এখন ফেইসবুক, টুইটার, ইউটিউবসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে বুদ হয়ে থাকেন। রীতিমত ডিজিটাল জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন তারা। আর এ সুযোগে অনলাইনে কিছু ভয়ঙ্কর গেইম ছেড়ে দেয়া হয়েছে। যেগুলো প্রাণঘাতী ও বিপজ্জনক। এর মধ্যে ‘ব্লু -হোয়েল’ নামের অনলাইন গেম এর মধ্যেই বেশ আলোড়ন তুলেছে। বিশ্বজুড়ে তরুণ-তরুণীর প্রাণ কেড়ে নেওয়া ঘাতক এই গেম ছড়িয়ে পড়েছে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে। বাংলাদেশেরও কেউ কেউ এ ধরনের গেম খেলতে শুরু করেছে বলে আভাস মিলছে সামাজিক মাধ্যমে।

এর পাশাপাশি গেম বা গেমের আদলে চ্যালেঞ্জের নামে অনলাইনভিত্তিক বেশ কিছু খেলা খেলছে বাংলাদেশের কিছু কিশোর-তরুণ। এ ব্যাপারে সতর্কতা, সচেতনতা ও সাবধানতা অতীব জরুরী।

এসব খেলা সাধারণত মাইন্ড গেইম যা আপনাকে এমনভাবে আকৃষ্ট করবে যা থেকে বের হয়ে যাওয়াটা প্রায় অসম্ভব। তাই আগে থেকে সচেতনতা না আসলে ভয়ঙ্কর বিপদ হতে পারে। এসব খেলার ধরণ দেখলেই বোঝা যায় কোনো সুস্থ মানুষের পক্ষে এ ধরনের খেলা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।

রোমাঞ্চের নেশায় তরুণদের কেউ কেউ ‘দেখি না কী হয়’ কৌতূহল থেকে এ ধরনের খেলা শুরু করে। মূলত এখানে একজনকে দুঃসাহসী কিছু করার চ্যালেঞ্জ দেওয়া হয়, যার অনেকগুলোই সহিংস, আক্রমণাত্মক। মানসিকতার দিক দিয়ে অসুস্থ। তাই সেটি শুধু নেহাত খেলার মধ্যে থাকে না। সেটা হয়ে উঠে ভয়ংকর অনেক সময় প্রাণঘাতী।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতে ইতিমধ্যে ওই খেলাগুলো নিয়ে অভিভাবক মহলে দুশ্চিন্তা বাড়ছে। বাংলাদেশে এখনো অনেকটা সীমিত আকারেই আছে এসব ভয়ানক খেলা। কিন্তু এখনই সবার সতর্কতা জরুরি।

তবে সচেতনতার জন্য ওই চ্যালেঞ্জগুলোর ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু লেখা হলো না। তবে গেমগুলো সম্পর্কে কিছুটা ধারণা দিয়ে রাখা হলো। খোঁজ নিয়ে দেখুন আপনার কাছের কেউ ওই চ্যালেঞ্জগুলোয় জড়িয়ে পড়ছে কি না। আপনার সন্তানের প্রতি খেয়াল রাখুন। কোথায় যায়, কি করে সবসময় নজরদারিতে রাখুন। অভিভাবকদের পাশাপাশি শিক্ষকদেরও একটি বড় দায়িত্ব রয়েছে। সচেতনতা বাড়াতে হবে।

ঘোস্ট পেপার চ্যালেঞ্জ : মরিচের সবচেয়ে ঝাল একটি প্রজাতির নাম ‌‘ভূত জোলোকিয়া’, বাংলায় বলতে পারেন ভুতুড়ে মরিচ। এই মরিচ মুখে রেখে নিজেদের প্রতিক্রিয়া রেকর্ড করে কিশোর-কিশোরীরা। এই চ্যালেঞ্জ নিয়ে মুখে জ্বালাপোড়াসহ শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই সাবধান।

আইস সল্ট চ্যালেঞ্জ : হাতের মুঠোয় লবণ ও বরফ ধরে রেখে ওই চ্যালেঞ্জ করা হয়। এসময় অসহ্য যন্ত্রণা হয়ে থাকে। এই অনুভূতি কে সবচেয়ে বেশিক্ষণ সহ্য করতে পারে, সেটাই দেখা হয়। হাতে ক্ষত সৃষ্টি হওয়া থেকে শুরু করে মারাত্মক ইনফেকশনও হতে পারে। তাই এ থেকে সাবধান।

দ্য চোকিং গেম : বন্ধুর গলা চেপে তাকে বেহুঁশ করতে হবে। এমন বিদঘুটে চ্যালেঞ্জ সামাজিক গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে বেশ কিছুদিন ধরে। উদ্দেশ্য জ্ঞান ফেরার পর নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়া। স্পেস মাঙ্কি, ব্ল্যাকআউট, নকআউট ইত্যাদি নামেও এই গেমের চল রয়েছে।

দারুচিনি চ্যালেঞ্জ : দারুচিনি গুঁড়ো পানি ছাড়া মুখে পুরে রাখা হয়। মুখের ইনফেকশন ঘটার আশঙ্কা থাকে। এ ধরনের সব চ্যালেঞ্জই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা হয়। তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব কর্মকাণ্ডকে নিরুৎসাহিত করতে হবে। পাশাপাশি অনলাইনে যাতে এসব গেম না পাওয়া যায়, তারও ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

ডাক্ট টেপ চ্যালেঞ্জ : ডাক্ট টেপ পেঁচিয়ে ব্যবহারকারীকে একটি চেয়ারে আটকে রাখা হয়। ১৮০ সেকেন্ডের মধ্যে পালাতে হবে এর থেকে। পালানোর পুরো ঘটনা ভিডিও করে আপলোড করা হয় বিভিন্ন পোর্টালে। বেমক্কা চেয়ার উল্টে অনেকেই গুরুতর আহত হয়েছে। এমনি স্পর্শকাতর স্থানে আঘাতে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। সাবধান হোন।

আইবল চ্যালেঞ্জ : চোখ মদের বোতলে রেখে বোতল উপুড় করে ধরে রাখা হয়। যন্ত্রণা কতক্ষণ সহ্য করা যায়, তারই পরীক্ষা। এতে আপনার চোখের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে।

তাই স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি তরুণ-তরুণীদের বলছি সাবধান হোন। কৌতূহলের বশেও এসব চ্যালেঞ্জ নিতে যাবেন না। এতে আপনার প্রাণ যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এমন আরও অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে যেসব খুবই ভয়ংকর ও প্রাণহঘাতী। সতর্ক হোন, সতর্ক থাকতে পরামর্শ দিন।


ঢাকা, ১০ অক্টোবর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//জেএন

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।