নতুন বছর শুরু হোক নতুন প্রত্যয়ে


Published: 2021-01-01 20:13:40 BdST, Updated: 2021-01-19 17:21:53 BdST

২০২০! রীতিমতো ঘটনাবহুল একটি বছর, যে বছর জুড়েই ছিল প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) এর খবর। ভাইরাসটি সারা পৃথিবীকে করেছে তছনছ, এর প্রভাবে পুরো বিশ্ব হয়েছে ভীত-সন্ত্রস্ত। বেঁচে থাকাটাই ছিল যেন বছরের সবচেয়ে বড় সুখবর।

প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি মিলিয়ে বিদায় নিয়েছে ঘটনাবহুল বছর ২০২০, ইতিহাসের পাতায় যুক্ত হয়েছে আরো একটি নতুন বছর ২০২১। বছরের প্রায় পুরোটা সময়ই বন্ধ ছিল ক্যাম্পাস। যার প্রভাব পড়েছে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পড়াশোনায়৷ অনলাইন ক্লাস, পরীক্ষা, বাজে নেটওয়ার্ক, উচ্চ মূল্যের ডাটা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা ছিল বছরজুড়েই।

একইসঙ্গে দেশের অন্যতম বিদ্যাপীঠ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ও (বশেমুরবিপ্রবি) ঘটেছে নানা আলোচিত ঘটনা। কয়েকজন বশেমুরবিপ্রবিয়ানের ২০ এর প্রাপ্তি ও অপ্রাপ্তি এবং ২১ এর প্রত্যাশা তুলে ধরেছেন আমাদের ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম প্রতিনিধি আর এস মাহমুদ হাসান


জুবায়ের হাসান নিলয়, বাংলা বিভাগ (মাস্টার্স)
"ক্লেদাক্ত ও হতাশায় ২০, নতুন সম্ভাবনায় ২১"
২০২০ সাল সারা বিশ্বের নিকট বিষে বিষময়। করোনার থাবা শুধু জীবনযাপনকে ক্লেদাক্ত ও বিপর্যস্ত করে তুলেছে তা নয়, এর প্রভাব পড়েছে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পড়াশোনায়৷ বিশেষ করে, আমাদের দেশে দীর্ঘ নয় মাসের মতো এখনো বন্ধ রয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। তাই, শিক্ষার্থীরা মানসিকভাবে চূড়ান্ত রকমের অবসাদে ভুগছে৷

২০২০ সাল ছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বড় রকমের হতাশা ও হাহাকারের বছর৷ ২০১৯ সালে ভিসি আন্দোলনের পর, ভিসি পদত্যাগ করলেও এরপর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের দৈন্য ও ভগ্নদশা চূড়ান্তভাবে সামনে আসছে ৷ ২০২০ এর শুরু থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ে নানা আন্দোলন চলমান। ইতিহাস ইন্সটিটিউট বিভাগের অনুমোদনে আন্দোলন, ইটিই বিভাগ ইইই বিভাগে রূপান্তরের জন্য আন্দোলন, অস্থায়ী কর্মচারীদের স্থায়ীকরণের জন্য আন্দোলনসহ বছর শেষে শিক্ষকদের আপগ্রেডেশনের জন্য আন্দোলন।

জুবায়ের হাসান নিলয়

 

অবশ্য প্রাপ্তির বিষয় একটি, এই বছরে বিশ্ববিদ্যালয় নতুন ভিসি অধ্যাপক ড. এ কিউ এম মাহবুব স্যারকে পেল ৷ প্রথম থেকেই স্যারের বিভিন্ন কাজ আশার আলো দেখাচ্ছে। তন্মধ্যে, ২০২০-২১ সেশনে বিশ্ববিদ্যালয়ের আসনসংখ্যা অর্ধেক করা, একাডেমিক ভবন, হল ও বিভিন্ন নির্মাণের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। এই বছরও বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে নেতিবাচক সংবাদের পরিমাণ ছিল বেশি।

আশা করি ২০২১ সাল বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নতুন পুনর্জন্মের বছর হবে। আমাদের সবার প্রত্যাশা, নতুন ভিসি মহোদয় শিক্ষার্থীবান্ধব হবেন। ২০২১ এ দ্রুততম সময়ে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ফি কমিয়ে আনবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়নে কাজ করবেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের মান উচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যেতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন৷ ২০২০ এর ক্লেদাক্ততা ও জীর্ণতা ভুলে ২০২১ সাল বশেমুরবিপ্রবির জন্য শুভকর হোক। বশেমুরবিপ্রবিতে নতুন প্রাণসঞ্চারের স্ফুরণ ঘটুক, বঙ্গবন্ধুর নামাঙ্কিত বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াক- এটাই কামনা।


কামরুল হাসান মোল্লা, ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ (২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষ)
"২০ এর অপ্রাপ্তিগুলো ঘুচবে নতুন বছরে"
২০২০ এর প্রাপ্তি বলতে গেলে বলতে হবে বশেমুরবিপ্রবি ফিরে পেয়েছে বাক স্বাধীনতা। পেয়েছে নতুন একজন শিক্ষার্থী বান্ধব উপাচার্য। মুজিব বর্ষ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

আর অপ্রাপ্তি বলতে ২০২০ সালের ১৭ অক্টোবর ২০১৯ থেকে এখন পর্যন্ত ইটিই বিভাগ প্রায় ১ বছরের বেশি সময় একাডেমিক কার্যক্রমের বাহিরে, অস্তিত্বের সংকটে ইতিহাস বিভাগ। যদিও প্রশাসন আশ্বাস দিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া এই বছর প্রাকৃতিক দূর্যোগ (আম্পান) ও করোনা মহামারী তে বেহাল দশা হয়েছে দূর্যোগপ্রবন এলাকার শিক্ষার্থীদের।

কামরুল হাসান মোল্লা

 

২১ এ প্রত্যাশা করব বছরের প্রথম থেকে কোন শিক্ষার্থী যাতে একাডেমিক কার্যক্রমের বাহিরে না থাকে। প্রত্যেক ডিপার্টমেন্টে প্রফেসর নিয়োগ ও গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা যেন নেয়া হোক। বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ও মেইন গেইট সহ যেসকল কাজ অসম্পূর্ণ আছে তাও সম্পূর্ণ করা হোক। যদি করোনা মহামারী এভাবে চলমান থাকে তবে প্রত্যেক শিক্ষার্থীদের ডাটা ব্যবহারের নিশ্চয়তার মধ্যমে একাডেমিক কার্যক্রম সক্রিয় রাখতে হবে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সেমিস্টার ফি ও বেতন কমাতে প্রশাসনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

খাদিজা তুল কোবরা, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ (তৃতীয় বর্ষ)
"বিশ্ববিদ্যালয় খুলবে কবে?"
হাজারো শিক্ষার্থীর মনে একটাই প্রশ্ন বারংবার বিধে রয়েছে সেটা হচ্ছে- বিশ্ববিদ্যালয় খুলবে কবে? ২০২০ একটা বছর, যেখানে প্রাপ্তির খাতা বলতে গেলে শূণ্যই বলা চলে। ২টি সেমিস্টার, ১টি বছর প্রাপ্তির ঝুলিতে যোগ হয়নি কিছুই। বিশ্ববিদ্যালয় কবে খুলবে তা আমার জানা নেই। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় গুলি একটু ভিন্ন ধাঁচের। অতীতের বহু অভিজ্ঞতায় বিশ্ববিদ্যালয় গুলি খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিতে কিছুটা আশঙ্কা প্রকাশ পায়। এমতাবস্থায় কিছু পদক্ষেপ নেয়া সমীচিন বলে মনে করি।

খাদিজা তুল কোবরা

 

এক্ষেত্রে প্রথম ধাপে স্নাতকোত্তর পরিক্ষার্থীদের যাদের শুধুমাত্র পরীক্ষা, থিসিস, প্রজেক্ট এবং ভাইভা বাকি আছে অন্ততপক্ষে তাদের পরীক্ষাগুলো নিয়ে নিলে হল গুলোর ওপর চাপ কমবে। এরপর পর্যায়ক্রমে স্নাতক শেষ বর্ষের শিক্ষার্থীদের সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে টার্মিনাল পরীক্ষাগুলো শেষ করা যেতে পারে। এ দুটি ধাপ শেষ হতে হতে বোঝা যাবে করোনা পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নিচ্ছে।

নয়তো এভাবে চলতে থাকলে আমাদের মতো একটা উন্নয়নশীল দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা, শিক্ষা ব্যবস্থা সর্বোপরি দেশের কাঠামো কোনদিকে চলে যাবে আন্দাজ করতে পারছেন নিশ্চয়ই! এ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষ এ প্রসঙ্গ বিবেচনা করে দেখতে পারেন।

মিল্টন হুসাইন, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ (তৃতীয় বর্ষ)
"একটি নতুন ভোরের খোঁজে"

"মিশেছি প্রকৃতির রেশে, প্রতিক্ষণ আসতে চায় মন।
জ্ঞান অন্বেষণে মোরা, থমকে যাবো কি কিয়ক্ষণ?"

অরণ্যে ঘেরা আর পক্ষিকূলের কিচিরমিচির শব্দে মুখরিত প্রাণের ক্যাম্পাসে ফেরার জন্য মন ব্যাকুল হয়ে আছে। মায়ের কোল ছেড়ে শত মাইল পাড়ি দিয়ে এসেছি জ্ঞান অন্বেষণে। উদ্দেশ্য দুইটি। প্রথমত, বাবা মায়ের ঐ ঠোঁটের কোনের হাসিটা খুঁজে বের করা। দ্বিতীয়ত, উন্নয়নশীল দেশটাকে উন্নত করবার লক্ষে জ্ঞানের সমস্তটা উজাড় করে দেওয়া।

আমার কাছে সফলতার সংজ্ঞাটা একটু আলাদা। যেদিন আমি ঐ কুল হারা মানুষদের মুখে হাসি ফুটাতে পারবো, সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষগুলো যখন আমাকে দেখে একটুখানি হাসি ছুড়ে দিবে সেদিন বুঝব আমি সফল হয়েছি। এ লক্ষেই অনেক প্রতিকূলতার মধ্যে জ্ঞান আহরণে মন দিয়েছিলাম। পর্যাপ্ত শিক্ষক মহোদয় আর রুমের অভাবে হয়তো একটা সময় ক্লাস করার মতো পরিবেশ না পেলেও সমস্যাগুলি ধীরে ধীরে কাটিয়ে উঠছিলাম ঠিক সেই মুহূর্তেই করোনা পরিস্থিতি সব এলোমেলো করে দিলো।

মিল্টন হুসাইন

 

অপ্রাপ্তিগুলোর ভীড়ে প্রাপ্তিগুলো নেহাত কম না। ইতোমধ্যে আমরা দেখতে পাচ্ছি বেশ কতকগুলি অবকাঠামোগত উন্নয়ন। কাজগুলি বেশ দ্রুতগতিতে সামনের দিকে এগোচ্ছে। আমাদের এখনও বেশ কতকগুলি শিক্ষাক্ষেত্র উন্নয়ন প্রয়োজন। আমরা চাই গবেষণা ক্ষেত্র, থিসিস ক্ষেত্র, সাথে সংশ্লিষ্ট পরিবেশ, অবকাঠামো। শ্রদ্ধেয় ভাইস চ্যান্সেলর মহোদয় যেন সার্বিক দিকে নজর দেন সেই কামনা করি, সাথে ওনার দীর্ঘায়ু কামনা করি।

সানজানা রহমান, কৃষি বিভাগ (দ্বিতীয় বর্ষ)
"আলো আসবে ফিরে"
আসলে ২০২০ সালে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আমার প্রাপ্তি অপ্রাপ্তির প্রশ্ন তুলতে হলে আমি বলব প্রাপ্তির থেকে অপ্রাপ্তি-ই বেশি। আমাদের শিক্ষাগত দিক বিবেচনা করতে গেলে বলবো এই করোনাকালীন সময়ে আমাদের প্রশাসন এমন কোনো সিদ্ধান্তে আসতে পারেনি যেখনে শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। এর উপর অন্য দিক গুলো যদি দেখি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কিছুদিন পরপর ছোট বড় চুরির খরব শোনা গেছে, এমনকি হল থেকেও চুরির খবর শোনা গেছে। এছাড়াও ক্লাস রুম সংকট তো আছেই।

সানজানা রহমান

 

তবে এতো গুলা অপ্রাপ্তির মধ্যে ২০২০ এর প্রাপ্তি কিছু না কিছু আছে। একাডেমিক ভবনের কাজ শুরু হয়েছে আশাকরি করোনা পরিস্থিতি শান্ত হলে বিশ্ববিদ্যালয় খোলার পর ক্লাস রুম সংকট আর থাকবেনা। আর এই করোনা মহামারি কত দিন থাকবে তা সৃষ্টিকর্তা ছাড়া আমরা কেউ জানিনা। যদিও ২০২১ এর ফেব্রুয়ারীতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত ব্যাপারে শুনেছি।

২০২১ এ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে আমার আশা আমাদের শিক্ষাগত দিক যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেই পদক্ষেপ নেওয়া। ইতোমধ্যে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন নেতিবাচক কারনে প্রায়ই নিউজের হেডলাইনে হয়েছে। যেটা খুবই দুঃখজনক। নতুন বছর শুরুর সাথে সাথে আমি একটি দূর্নীতিমুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় চাই যেটা শিক্ষার্থীদের জন্য আর যেখানে থাকবে জ্ঞানের প্রাসারতা। ২০২১ এ বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে এটাই আমার প্রত্যাশা।

মেহেদী হাসান মিলন, ফুড এন্ড এগ্রোপ্রসেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ (দ্বিতীয় বর্ষ)
"হতাশার ২০২০"
বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২০ বছরটা ছিল অপ্রাপ্তি আর হতাশায় পরিপূর্ণ। কোন আকাঙ্ক্ষায় যেন পূর্ণতা পায়নি বছরটাতে। দুই বছর অতিবাহিত হওয়ার পরেও পায়নি নিজ বিভাগের কোনো স্থায়ী শিক্ষক আর স্থায়ী সিলেবাস। নতুন বছরে ৩ জন শিক্ষক নিয়োগের কথা থাকলেও বছর শেষে সেটা শুধু কাগজ-কলমেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। ভবিষ্যৎ নিয়ে এখন মনে রয়েছে সংশয় আর চোখে-মুখে চিন্তার বিশাল ছাপ।

মেহেদী হাসান মিলন

 

অপ্রাপ্তির জায়গা থেকে বের হয়ে এসে যদি প্রাপ্তির কথা চিন্তা করি সেটা নতুন ভিসি মহোদয় স্যারের আগমন। প্রত্যাশা রাখি স্যারের হাত ধরেই বদলে যাবে সবকিছু, সমাধান হবে সকল সমস্যার। যেতে চাই স্বাভাবিক জীবনে, ফিরে পেতে চাই নিয়মিত ক্লাস-পরীক্ষা।

তাজকিয়া আকবর ঋতু, প্রানিসম্পদ বিজ্ঞান ও ভেটেরিনারি মেডিসিন বিভাগ (প্রথম বর্ষ)
"সব অপ্রাপ্তি গুলো যেন প্রাপ্তিতে পরিনত হয়"
সালটা ২০২০। অনেক বড় কিছু প্রাপ্তি আর ছোট ছোট কিছু অপ্রাপ্তি নিয়ে বছরটা প্রায় শেষের পথে।

১লা জানুয়ারি ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম দিন, যা হয়তো স্মৃতির পাতায় বিশেষ একটা দিন হিসেবে জমা হয়ে থাকবে। তারপর পছন্দের ডিপার্টমেন্টে ভর্তি হতে পারা আর অসম্ভব ভালো কিছু বন্ধু পাওয়া আমার কাছে প্রাপ্তির একটা বিশেষ জায়গা জুড়ে আছে। এর সাথে আরও পেয়েছি কিছু বন্ধুসুলভ সিনিয়র ভাইয়া-আপুদের আর আমাদের শ্রদ্ধেয় শিক্ষকদের যাদের সবাইকে নিয়েই আমাদের একটা পরিবার।

তাজকিয়া আকবর ঋতু

 

সবকিছু সুস্থ স্বাভাবিক নিয়মে এগিয়ে গেলেও হঠাৎ করেই করোনার ছোবলে থমকে গেল সারা পৃথিবী। ২ মাস ১৭ দিনের মাথায় নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবনকে স্ট্যাচু করে চলে এলাম বাসায়। প্রথম কয়েকদিন ভালো লাগলেও তারপর থেকে শুরু হলো খারাপ লাগা। ক্যাম্পাস, ক্লাস, বন্ধুদের মিস করতে শুরু করলাম। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের নবীনবরন, প্রথম নববর্ষ, প্রথম সেমিস্টার পরীক্ষা দেয়া, প্রথম ভাইভা, প্রথম প্রেজেন্টেশন দেয়ার অভিজ্ঞতা সবকিছুকেই অপ্রাপ্তির খাতায় লিখে রাখতে হলো।

পৃথিবীর অসুখ সেরে গেলে যেন সবাই মিলে আবার সেই প্রানোচ্ছল ক্যাম্পাসে দেখা হয় সেই আশায় এখন দিন গুনি। নতুন বছরে প্রত্যাশা থাকবে সব অপ্রাপ্তি গুলো যেন প্রাপ্তিতে পরিনত হয়। আর সবাই যেন খুব বেশি সুস্থ আর হাসিখুশি থাকে।

তানজিমা বারী মৌসি, লোক প্রশাসন বিভাগ (প্রথম বর্ষ)
"অন্ধকার কেটে আলো আসুক নেমে"
২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী হিসেবে আশাবাদী ছিলাম সবাই মিলে ২০২০ সাল টায় ক্যাম্পাসের প্রতিটা দিন আনন্দঘন মূহুর্ত কাটাবো। কিন্তু প্রকৃতির চরম ভয়াবহতায় আমরা সবাই আজ ঘরে বন্দি। এই একটা বছর আমাদের আপনজনকে যেমন কেড়ে নিয়েছে, বিপদের সম্মুখীন করেছে, তেমনি পরিবারের সাথে আষ্টেপৃষ্ঠে থাকারও সুযোগ দিয়েছে।

তানজিমা বারী মৌসি

 

সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করি যেন মেঘের আধার কেটে যেমন সূর্য প্রস্ফুটিত হয়, ঠিক তেমনি ২০২০ এর সকল ভয়াবহতা অন্ধকার কেটে গিয়ে ২০২১ হোক সবার জন্য আলোকিত, আনন্দময় ও সুস্থতায় পরিপূর্ণ একটি বছর।

ঢাকা, ০১ জানুয়ারি (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।