করোনাকালেও ৩ মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬ শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা!


Published: 2020-08-20 01:20:02 BdST, Updated: 2020-10-25 02:09:35 BdST

লাইভ প্রতিবেদক : প্রাণঘাতি করোনাকালেও বন্ধ হচ্ছে না বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার মিছিল। গত জুন থেকে ৩ মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬ শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন। প্রেম সংক্রান্ত বিষয় কিংবা পারিবারিক কলহের কারণে এমন ঘটনাগুলো ঘটছে। পর্যাপ্ত কাউন্সিলিংয়ের অভাবে মানসিক বিপর্যস্ত শিক্ষার্থীরা এভাবে আত্মহত্যা করছেন। সর্বশেষ আত্মহত্যা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইআর) ছাত্র ইমাম হোসাইন। ১৭ আগস্ট সকালে বরিশাল জেলার উজিরপুর থানায় নিজ গ্রামের বাড়িতে তিনি ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে আত্মহত্যা করেছেন। ইমাম হোসাইনের সাথে রাজধানীর ইডেন কলেজের এক ছাত্রীর প্রেমের সর্ম্পক ছিল। তবে বিষয়টি ওই মেয়ের পরিবার মেনে না নেওয়াতে ইমামের সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। এরপর ইমাম মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েছিল।

করোনার কারণে ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় ওই ছাত্র গ্রামের বাড়িতে অবস্থান করেছিলেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। থাকতেন কবি জসীম উদদীন হলে। ঢাবির ওই ছাত্রের ফেসবুকের কাভার ফটো ছিল ‘তোমাকে পাবো পাবো বলেই আত্মহত্যার তারিখটা পিছিয়ে দেই।’ আর প্রোফাইলে ছিল- ‘সিলিংয়ে ঝুলে গেলো সত্তা, নাম দিলে তার আত্মহত্যা।’

চলতি মাসের ৬ তারিখে তোরাবি বিনতে হক নামে সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) এক ছাত্রী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ২০১৮-১৯ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার বাড়ি নেত্রকোনার চল্লিশা ইউনিয়নের মোগরাটিয়া গ্রামে।

জানা যায়, ঘটনার আগে লেখাপড়া সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে মায়ের সঙ্গে রাগারাগি হয় তোরাবির। পরে তিনি নিজ রুমের দরজা বন্ধ করে ঘুমিয়ে পড়েন। দরজা বন্ধ থাকায় পরিবারের সদস্যরা ডাকাডাকি করলেও কোনো সাড়া-শব্দ মেলেনি। পরে খবর দেওয়া হলে রুমের দরজা ভেঙে তোরাবির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মায়ের সঙ্গে অভিমান করে তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

চলতি মাসের ১ তারিখে সুপ্রিয়া দাস নামের বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তিনি গণিত বিভাগের চতুর্থ ব্যাচের ছাত্রী ছিলেন। ওইদিন সন্ধ্যা ৬টায় ফারিদপুরের নিজ বাসায় তিনি আত্মহত্যা করেন।

এর আগে চলতি বছরের ১৫ জুন সুপ্রিয়ার প্রেমিক তপু মজুমদার আত্মহত্যা করে। এর দেড় মাস পরে এই ঘটনা ঘটল। সুপ্রিয়া দাসের এক সহপাঠীরা জানান, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) প্রাক্তন ছাত্র তপু মজুমদারের সঙ্গে উচ্চমাধ্যমিক থেকেই প্রেমের সম্পর্ক ছিল সুপ্রিয়ার। দুজনের বাসা একই এলাকায়। উভয় পরিবার মেনে নিয়েছিল দুজনের সম্পর্ক। করোনার মধ্যেও সুপ্রিয়ার বাসায় এসেছিল তপু মজুমদার।

গত ১০ জুলাই পারিবারিক কলহের জেরে গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) সাদিয়া কুতুব নামের এক ছাত্রী আত্মহত্যা করেন। তিনি সমাজবিজ্ঞান দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। ওইদিন দুপুরে গোপালগঞ্জে তাঁর নিজ বাড়িতে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান মজনুর রশিদ বলেন, যতটুকু জানতে পেরেছি, সে পারিবারিক কলহের জেরেই আত্মহত্যা করেছে বলে আমরা জানতে পেরেছি।

তিনি বলেন, গত ১৪ জুন রাতে দুজনের মধ্যে ঝগড়া হয়। কান্না করতে করতে সুপ্রিয়া ঘুমিয়ে পড়ে। ঘুম থেকে উঠে দেখতে পায় অনেক এসএমএস। তাৎক্ষণিক ফোন করে জানতে পারে তপু আত্মহত্যা করেছে। এরপরই মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে সুপ্রিয়া। তপু আত্মহত্যার জন্য সামাজিকভাবে তাকে দোষারোপসহ নানান কটূক্তি করা হয়। সামাজিক ও মানসিক চাপেই সুপ্রিয়া আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছে বলে মনে করেন তার কাছের বন্ধুরা।
১৫ জুন রাজধানীর দারুস সালামের একটি বাসা থেকে ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের প্রভাষক তপু মজুমদারের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

গত ২০ জুলাই চট্টগ্রাম মহানগরীর দেওয়ানবাজার এলাকায় নিজ বাসায় গলায় ওড়না পেঁচিয়ে নীলম ধর অর্পা (২৩) নামে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী আত্মহত্যা করেন। অর্পা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের ছাত্রী ছিলেন। তিনি ২০১৯ সালে লোকপ্রশাসন থেকে মাস্টার্স পাশ করে বের হন। বর্তমানে তিনি সরকারি চাকরির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।


ঢাকা, ২০ আগস্ট (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//সিএস

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।