জবি শিক্ষার্থীদের ঈদ ভাবনা...


Published: 2020-07-31 13:02:18 BdST, Updated: 2020-08-06 01:15:55 BdST

জবি লাইভ: কোবিড ১৯ এর মহামারীতে আছে বিশ্ব।করোনার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ডেংগু, বন্যাসহ নানান সমস্যার মধ্যে এসেছে কোরবানির ঈদ। পবিত্র ইদ উল আযহা মুসলিম জাহানের বড় উৎসব। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ঈদ ভাবনা নিয়ে কথা বলেছেন ক্যাম্পাসলাইভ প্রতিনিধি মুজাহিদ বিল্লাহ।

ফাহাদ হৃদয়, একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগ : মুসলমান ধর্মের বিশেষ দুটি ধর্মীয় উৎসব হচ্ছে ঈদ। ঈদ আসে অনেক আনন্দ আর খুশি নিয়ে। আর কোরবানির ঈদ হচ্ছে আল্লাহর প্রতি ত্যাগ শিকার করা।মূলত কোন পশু কোরবানির মাধ্যমে এই ঈদ উদযাপন করা হয়। অনেক হাসি আনন্দের মাধ্যমে কেটে যায় ঈদের দিন।

কিন্তু বর্তমানে সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও হানা দিয়েছে মহামারী করোনা ভাইরাস। তার মধ্যে আবার দেশে বন্যার প্রকোপ। এই দুটো এবার ঈদের চিত্রটি ই পাল্টে দিবে। হয়তো কেউ ভয়ে কোলাকুলি করবে না, হয়তো কেউ ঈদগাহে গিয়ে নামাজ পড়বে না।

আর এই সব কিছুর মধ্যেও একটাই শুধু চাওয়া কোরবানির ত্যাগ করার মাধ্যমে যদি আল্লাহ আমাদের থেকে এই করোনা পরিস্থিতিটাকে স্বাভাবিক করে দিতো।

মোছা: শারমিন আক্তার সুবর্ণা, বাংলা বিভাগ : ঈদ নিয়ে অনেক রকমের ইচ্ছা ছিল। যা করোনার জন্য আর সম্ভব নয়। ইচ্ছে ছিল পরিবারের সবাইকে নিয়ে ঘুরব অনেক, পাশাপাশি বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে দেখা করব, আড্ডা দিব আর কুশল বিনিময় করব।

ঈদটা এমন করে কাটছে যে, কোনো আত্নীয়-স্বজন কারো সাথেই দেখা হচ্ছে না। না হচ্ছে ইচ্ছে মতো ঘুরাঘুরি, না হচ্ছে সবার সঙ্গে কুশল বিনিময় করা। ভেবেছিলাম ঈদুল ফিতরটা তো ভালো কাটে নাই তাই হয়তো ঈদুল আজহা টা ভালোই হবে। কিন্তু, না করোনা এখনো যায়। নাই, পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক হয় নাই। আর এতে মানুষের মন-মানসিকতাও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

মারজান আক্তার প্রিয়া, চারুকলা বিভাগ : কিভাবে কাটবে এইটা আসলে বলতে গেলে স্পেশাল কিছু না স্পেসিফিক কিছুও না। রোজার ঈদের মতই ঘরে কাটাব, বাবা-মা ভাইদের সাথে। পরিবারের সাথে আর কি। আশপাশের কিছু বন্ধুবান্ধবরা যারা কাছেই থাকে তাদের সাথে হয়ত দেখা করতে বা আড্ডা দেয়ার প্ল্যান আছে।

আসলে কোরবানি ঈদটা তো ভোজনরসিকদের জন্য অন্যতম আনন্দের, আমি অনেকটা ভোজনরসিকদের কাতারেই পরি, বাকিটা আর বলতে কি।

ফজলে রাব্বী আহমেদ, বাংলা বিভাগ : আমার কাছে ঈদ মানে আনন্দকে ভাগাভাগি করে নেওয়া। ঈদ মানে শুধু নিজে ভালো খেয়ে, ভালো পড়ে, নিজে ভালো থাকা নয়, পাশাপাশি অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়ে, তাদের পাশে দাঁড়িয়ে তাদেরকে নিয়ে আনন্দকে ভাগ করে নেওয়া। মুসলিমদের সবচেয়ে বড় দুটি উৎসব দুই ঈদ। একটি ইদ-উল-ফিতর এবং ইদ-উল-আযহা।

ইদ-উল-আযহা আরবী শব্দ, এর বাংলা অর্থ ত্যাগের উৎসব। মুসলিম উম্মাহ সৃষ্টিকর্তা কে খুশি করার জন্য ত্যাগ করে থাকেন। এর প্রধান উদ্দেশ্য হলো শুধুই তাকওয়া অর্জন।

আমি বিশ্বাস করি এই তাকওয়া অর্জনের মধ্য দিয়েই সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টি লাভের মাধ্যমে করোনা নামক মহামারী থেকে সৃষ্টিকর্তা আমাদের ক্ষমা করে দিবেন ইনশাআল্লাহ। আর আসেন আমরা সবাই সৃষ্টিকর্তার নিকট এই ঈদে প্রার্থনা করি যেন আমরা মুক্তি লাভ করতে পারি।

ছাবেকুন মোস্তফা, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ : বিশ্বজুড়ে প্রায় অর্ধবছর ধরে চলছে করোনার তান্ডব। তবে সময়তো আর থেমে নেই। দেখতে দেখতে চলে এলো, মুসলিম সম্প্রদায়ের বড় উৎসব ঈদুল আজহা।

কিন্তু করোনাকালে দেশের এই অসুস্থ পরিস্থিতিতে ঈদের সেই আমেজ আর নেই। ঈদ মানে আনন্দ, ঈদ মানেই খুশি। আর ঈদুল আজহা মানেই তো অন্য এক আমেজ। ছোট বড় সবার আগ্রহ থাকে পশু কেনা, সেই পশুকে কোরবানি করা।

কিন্তু, করোনায় সেই সব ধারাবাহিকতায় ভাটা পড়েছে। অন্যান্য বারের মতন এবার সেই আমেজ কারোর মধ্যেই নেই। সবার মাঝেই বিরাজ করছে এক স্থবিরতা।

করোনার কারণে দীর্ঘ সময় ধরে দেশে লকডাউন চলেছে। এই অবস্থায় খেটে-খাওয়া মানুষদের জীবন থমকে গেছে, অনেকেই হারিয়েছেন জীবিকা, চাকুরি হারিয়ে পথে নেমেছেন অনেকেই।

তাই এবারের ঈদে আগের সেই আনন্দ খুঁজে পাওয়া ভার। আগে যারা কোরবানি দিতেন, তাদের অনেকের ঘরে হয়তো এবার খাবারও নেই। তাই এই ঈদ আনন্দের হতে পারে না। তবে এই ঈদকে অর্থবহ করতে, ঈদুল আজহার অর্থ থেকেই শিক্ষা নেওয়া উচিত।

নিজের স্বার্থকে বাদ দিয়ে ত্যাগের শিক্ষা নিয়ে, সমাজের উঁচু শ্রেনীর মানুষরা যদি, খেটে খাওয়া মানুষদের পাশে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়ে দু'বেলা খাবারের ব্যবস্থা করে তাহলেই স্বার্থক হবে ঈদুল আজহা।

তন্বী আক্তার, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ : মুসলমানদের প্রধান ধর্মীয় উৎসবের অন্যতম একটি ধর্মীয় উৎসব হল ‘ঈদ-উল আযহা'। মহান আল্লাহ তায়া’লার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে প্রিয় পশুকে কুরবানি করা হয় এই দিনে।

করোনাকালীন এই সময়ে ঈদ-উল আযহার আগমণ। বস্তুত এই মহামারিতে সকলের পক্ষে কুরবানি করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই সামর্থ্যবানদের উচিৎ সমাজের সকল অসহায়দের নিয়ে কুরবানি করা। নামের জন্য কুরবানি না করে আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে যেন কুরবানি হয় সেই বিষয়টির দিকে খেয়াল রাখা।

যথাসম্ভব নিজের অবস্থান থেকে অন্যকে সাহায্য করা।করোনাকালীন এই সময়ে বাহিরে ঘুরাঘুরি না করে আম্মুকে রান্নার কাজে সহযোগিতা ছাড়াও অনলাইনে বন্ধুদের সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করে কাটাব।

এই নির্মমতার করোনাকাল পেরিয়ে নতুন ভোর আসবেই। আমরা সফল হবোই, ইনশাআল্লাহ। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, পৃথিবী যেন খুব শীঘ্রই তার আগের চিরচেনা রূপে ফিরে আসে।

রিয়াজুর রহমান শোভন, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ : মুসলিম দের দুইটা উৎসব। ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আযাহা। ঈদুল আযাহা মানে হল আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য পশু জবেহ করা। আর সেই গোশত তিন ভাগে ভাগ করে বিলিয়ে দেয়া।

ঈদুল আযাহা প্রত্যেক মুসলমানের উপর ফরয এমন নয়, যাদের সামর্থ্য আছে শুধু তারাই কুরবানি করে থাকে। কিন্তু গরীবদের একটা হক থেকেই যায় কুরবানির গোশতের উপর। মহান রব্বুল আলামিনের আদেশ পালনে এই আত্মত্যাগ।

ঈদ শব্দটি শুনলেই মনের ভিতর যেন একরাশ আনন্দ ডিগবাজি খায়। ঈদ মানেই আনন্দ, ঈদ মানেই ছুটি আর আযাহার কথা মনে পড়লে মাথায় চলে আসে গরুর গোশতের সাথে গরম রুটি। কিন্তু করোনার মহামারিতে ঈদের রং টা এবার পালটে গেছে।

করুন এই অবস্থায় অনেক মধ্যবিত্ত পরিবার ও কুরবানিতে অংশগ্রহণ নিতে পারছেন না। বেশির ভাগ মানুষ চাকরি হারিয়ে বেকার। তাদের এই অবস্থায় ঈদ মানে হতাশা। কত মানুষ যে মরেছে অকালে, পরিবার হয়েছে দেউলিয়া, হারিয়েছে বাড়িঘর, জমিবিটা গেছে খোয়া।

অর্থনৈতিক মন্দায় পড়ে অনেক গরু ব্যবসায়ী পড়েছে লসে, না পারছে গরুকে খেতে দিতে, না পারছে নিজের পরিবারকে সামলাতে। গরু থাকলেও ক্রেতা নেই, কমে গেছে ক্রেতার সংখ্যা। পরিশেষে এখন এই অবস্থায় ঈদ উদযাপন করা কঠিন, চারদিকে হাহাকার একমাত্র পরম করুনাময় পারে আমাদের এই খুশিকে আবার ফিরিয়ে দিতে, সকল অভাব দূর করে আবার সুস্থ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে দিতে।

আর যারা উচ্চবিত্ত আছে তারা যেন গোশত পৌছে দেয় হকদারদের দুয়ারে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। বঞ্চিত না হয় আপনার আমার চারপাশের প্রতিবেশীরা, লক্ষ্য রাখতে হবে। পরিশেষে সবাইকে জানাই ঈদ মোবারক।।

করোনার এই সময়ে বাসায় থাকুন।পশু কুরবানীর সময় যতটা দূরত্ব মেনে অবস্থান করা যায় সেটিই ভাল।সকলে সুস্থ থাকুন সাবধানে থাকুন।

ঢাকা, ৩১ জুলাই (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।