ছবির ফেরিওয়ালাক্যাম্পাস ছবিয়ালদের দিনলিপি


Published: 2020-07-17 18:48:54 BdST, Updated: 2020-09-21 16:31:13 BdST

আর এস মাহমুদ হাসান, বশেমুরবিপ্রবি থেকে: ঝুকি জড়িয়ে আছে। নানান ঝক্কি ঝামেলা তো আছেই। রাত নেই- দিন নেই। সারাক্ষণ ছুটে চলা। বিরামহীন বলনে-চলনে। এতোটুকু ফুসরত নেই। যেখানেই ঘটনা সেখানেই ছুটে চলা। তবে স্বাধীনতা অফুরান। এরা আবার ফটোসাংবাদিক নন। এরা কেবলই ফটোগ্রাফার। এদের কেউ আসেন শখে, আবার কেউ আসেন নেশায় কেউ বা ভাব-বুনিয়া নিয়ে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেও তাদের কাজ কম নয়। মাঝে মধ্যে প্রাণের মায়া ছেড়ে ক্লিক করতে হয় ক্যামেরায়। ক্যাম্পাসের সংঘাত-সংকটে তারাও থাকেন। প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতে ফটোসাংবাদিকদের পাশাপাশি ওরা একটা জায়গা করে নিয়েছেন। তারা স্বপ্রণোদিত হয়ে বিভিন্ন ধরনের ছবি তোলার মাধ্যমে নিজ বিশ্ববিদ্যালয়কে উপস্থাপন করেন দেশ-বিদেশে। অংশগ্রহন করেন বিভিন্ন দেশি-বিদেশি ফটোগ্রাফি প্রতিযোগিতায়। কুঢ়িয়ে আনেন সম্মান। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রতি মাসে বা সপ্তাহে বিভিন্ন ধরনের ইভেন্ট হয়, সেখানকার ছবি তুলতে বিশ্ববিদ্যালয় ফটোগ্রাফারদের বিশেষ ভূমিকা রাখতে দেখা গেছে।

করোনাকালে দেশ-বিদেশে চলছে বিভিন্ন ধরনের ফটোগ্রাফিক কনটেস্ট। থেমে নেই ছবিয়ালদের ছবি তোলা। এই সময়ে ক্যাম্পাস ফটোগ্রাফারদের দিনকাল কেমন যাচ্ছে? কি ধরনের ছবি তুলতে পছন্দ করেন তারা? ফটোগ্রাফিতে তাদের প্রাপ্তি'ই বা কি? তারা কি এই কোয়ারেন্টাইনে, অনলাইন ফটোগ্রাফি কনটেস্টে অংশগ্রহণ করছেন? তাদের ছবি নিয়ে প্ল্যান কি আগামীতে? নতুন যারা ফটোগ্রাফিতে আসতে চান তাদের উদ্দেশ্যেই বা কি বলতে চান তারা?

সমসাময়িক এসব বিষয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) ক্যাম্পাস ফটোগ্রাফারদের হালচাল তুলে ধরেছেন আমাদের ক্যাম্পাসলাইভ প্রতিনিধি-আর এস মাহমুদ হাসান।

সাজ্জাদুল কবির, পরিবেশ বিজ্ঞান এবং দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ। তিনি ক্যাম্পাসলাইভকে জানান, করোনার এ সময়টাতে যতটা পারছি ক্রিয়েটিভ কিছু করার ট্রাই করে যাচ্ছি। নতুন নতুন টিপস, আইডিয়া, রুলস এইগুলো জানার ট্রাই করে সময় কাটছে। ফ্যামিলির সাথেও ভালো একটা সময় কাটাতে পারছি। তিনি বলেন, আমি প্রধানত পোট্রেট ফটোগ্রাফি করতে ভালোবাসি। আমার ফটোগ্রাফি শুরু হয়েছিল পোট্রেট মডেল শুট দিয়ে। তেমন কারো কাছে ফটোগ্রাফি শিখতে যেতে পারেনি কারণ পরিবার থেকে সেরকম সাপোর্টও পায়নি ৷

আবার কারো কাছে যে, ফটোগ্রাফির কোর্স করতে যাব এমন এবিলিটিও আমার ছিল না। আজকের এই অবস্থানে যতটুকু এসেছি সম্পূর্ন নিজের ইচ্ছাতে। স্ট্রিট ফটোগ্রাফিও ভালো লাগে তবে পোট্রেট তুলতে তুলতে এখন ব্রাইডাল পোট্রেট বেশি করা হয়। যার জন্য স্ট্রিটে তেমন যাওয়া হয়না ইচ্ছা থাকলেও। এই কোয়ারেন্টাইন অ্যাবস্ট্রাক্ট আর মাইক্রো ফটোগ্রাফিও করছি টুকটাক আর কিছু ছোট ভাইদের অ্যাডোব ফটোশপের কিছু কোর্স করাচ্ছি একটা মেসেঞ্জার গ্রুপে। আমি যা জানি সেটুকু শেখানোর ট্রাই করছি, মাঝে মাঝে ফটোগ্রাফি রিলেটেড আড্ডাও দেয়। এখনো পর্যন্ত আমি কোনো ফটো এক্সিবিশনে এপ্লাই করিনি। এইজন্য যে আমি পোট্রেট আর ব্রাইডাল পোট্রেট ফটোগ্রাফিই বেশি করি। 

সাজ্জাদুল কবির

 

ছবি নিয়ে আগামীতে আমার পরিকল্পনা বলতে ক্যাম্পাসের কাছের কিছু ছোট ভাইদের আর খুলনার কিছু বন্ধুরা মিলে একটা ওয়েডিং ফার্ম করেছি, ওটা নিয়েই অনেক দূর যাওয়ার ইচ্ছা আছে। কিন্তু ফ্যামিলিতে থেকে সাপোর্ট পায়না, মনের শক্তি দিয়ে কতদূর যেতে পারবো আল্লাহ ভালো জানেন। জীবনে জব করলেও ফটোগ্রাফিটা আমার জীবনের সাথে থাকবে ইনশাল্লাহ। ক্যাম্পাসের যারা নতুন ফটোগ্রাফি করতে চায় তাদের উদ্দেশ্যে বলবো আসলে ক্রিয়েটিভ যেকোনো কাজে কাউকে গুরু মানা উচিত, তার কর্মপদ্ধতি ফলো করা উচিত। আর ক্যাম্পাসে যারা অলরেডি ফটোগ্রাফি করে তাদের কাজও খুব ভালো। আল্লাহর রহমতে আমাদের ক্যাম্পাসে অনেক ভালো ভালো ফটোগ্রাফার আছে, শুধু বলব তারা নিজের ভালোবাসার জায়গা থেকে কাজটা করে যাক সফলতা একদিন আসবেই। আর ক্যাম্পাসের সবার জন্য বলব, কেউ যদি ফটোগ্রাফি রিলেটেড কিছু জানতে বা কাজ করতে চান সেক্ষেত্রে "স্থিরচিত্র" এর সকল মেম্বার সবসময় আপনাদের পাশে থাকবে।

কামরুজ্জামান রাজ, ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ। তিনি ক্যাম্পাসলাইভকে আলাপচারিতায় বলেন, এই সময়টা আসলেই সকলের জন্য চ্যালেঞ্জিং, আবার কারো জন্য লেজিও বটে। অভারঅল সবাই একটা মেন্টাল ব্রেক ডাউনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তাই এই সময়ে ক্রিয়েটিভ কাজ গুলোর ভিতরে বেশি সময় দেওয়া উচিত বলে আমি মনে করি, যেটা দৈনন্দিন ব্যস্ততার কারণে হত না। তাই চেষ্টা করি ঘরে থেকে নিজের ক্রিয়েটিভিটি এর স্কিল ডেভেলপ করতে।

কামরুজ্জামান রাজ

 

আগে স্ট্রিট ফটোগ্রাফির দিকে অনেক বেশি ঝোঁক ছিল সময়ের সাথে এখন ল্যান্ডস্কেপ ও পোট্রেট ফটো বেশি তোলা হয়। তবে সুযোগ পেলে অন্য ক্যাটাগরির ফটোগ্রাফিও করা হয়। কোয়ারেন্টাইনে বাসায় থেকে বিভিন্ন অনলাইন কোর্স থেকে ইন্সপ্রেশন নিয়ে বিভিন্ন রকম কম্পিটিশন, লাইটিং এক্সপেরিমেন্ট করে থাকি। সাথে ঘরে বসে নিজের ইউটিউব চ্যানেলে ফটোগ্রাফি রিলেটেড ভিডিও করি টুকটাক। কিছু অর্জনের পরিপ্রেক্ষিতে কখনো ফটোগ্রাফিকে দেখিনি, শখ আর প্যাশন থেকেই ছোটবেলা থেকেই ফটোগ্রাফি করি। ভার্সিটিতে শুরু থেকেই "ফটোগ্রাফিক সোসাইটি" এর সাথে থেকে সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন আর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, দৃক গ্যালারি, বিভিন্ন জেলা ফটোগ্রাফিক ক্লাবের ফটো এক্সিবিশনে নিজের তোলা ছবি বেস্ট ওয়াইল্ডলাইফ অ্যাওয়ার্ড সহ বেশকিছু ছোট ছোট প্রাপ্তি ফটোগ্রাফি থেকে আছে।

স্টুডেন্ট লাইফে কিছু ফটোগ্রাফিক কমার্শিয়াল কাজ থেকে ওয়েডিং ফটোগ্রাফি করে কিছু সাইট ইনকাম করা হয় আর লাইফে যেখানেই থাকি ছবি তোলা বা ভিডিও করার ক্রিয়েটিভ কাজগুলো সাথেই থাকবে কারণ দিনশেষে এগুলো থেকে আত্মতৃপ্তি পাই। ক্যাম্পাসের জুনিয়রদের বা যারা নতুন ফটোগ্রাফি করতে চায় তাদের জন্য একটাই কথা ফটোগ্রাফি একটা আর্ট, আর কোনরকম আর্ট এর জন্য খুব দামি গেজেটের প্রয়োজন হয়না। তাই হাতের কাছে যেটাই থাকুক তাই দিয়ে ক্রিয়েটিভিটির চর্চা চালিয়ে যেতে হবে কারন ফটোগ্রাফির মাধ্যমে পৃথিবীটাকে অন্যভাবে দেখা সম্ভব।

দীপ্ত পাল, গণিত বিভাগ। তিনি তার কাজের ব্যাপারে ক্যাম্পাসলাইভকে জানান, করোনার এই সময়টাতে বাসায় থেকে পরিবারকে সময় দিতে পারার ভেতর অন্যরকম ভালো লাগা কাজ করে। এ সময়ে একটা নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে গবেষণা করার সুযোগ তৈরী হয়েছে। তাই দিনগুলো খারাপ যাচ্ছে না। আমি ফটোগ্রাফি শুরু করছিলাম মূলত বন্যপ্রাণী এবং পরিবেশের উপর ভালোবাসা এবং তাদের আকর্ষিক মুহূর্তগুলো ফ্রেমবন্দি করার জন্য। তবে গত এক বছর যাবত ম্যাক্রো নিয়েও কাজ করছি। তাছাড়া মহাকাশ নিয়েও ফটোগ্রাফির চর্চা শুরু করেছি। যেকোনো ধরণের ফটোগ্রাফিকেই পছন্দ করি।

কোয়ারেন্টাইন আমাদের জীবনকে সীমিত করেছে। বাইরে যাবার ইচ্ছা থাকলেও উপায় নেই। তাই বন্যপ্রাণীদের ছবি তুলতে একটু বেগ পেতে হয়। তবে সারাক্ষণ বাসায় থাকার সুবাদে ম্যাক্রো এবং মহাকাশ নিয়েই কাজ করেই যাচ্ছি। অনেক নতুন নতুন জিনিস শিখছি, ভালো লাগছে। ফটোগ্রাফিতে প্রাপ্তির সংজ্ঞা মানুষভেদে ভিন্ন। কিছু অ্যাওয়ার্ড, টাকা, সার্টিফিকেট এগুলো দিয়ে ফটোগ্রাফির মতো ক্রিয়েটিভ বিষয় জাজ করা যায়না। অনেকগুলো দেশি-বিদেশি প্রাপ্তি আছে কিন্তু সেগুলো আমার স্বপ্নের তুলনায় নগন্য। তাছাড়া সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি বাবা-মা'র ভালোবাসা আর আমার ছবি যারা পছন্দ করেন তাদের সবার ভালোবাসা একটুকুই। শখের বশে শুরু করা ফটোগ্রাফিকে নিয়ে যেতে চাই অনেকদূর। “অনলাইন ফটোগ্রাফি কনটেস্ট” এর বিষয়ে আমি তেমন আগ্রহী না। এটার ফলাফল নির্ধারণ করা হয় দর্শকের লাইক, কমেন্ট, শেয়ার উপর ভিত্তি করে। আর লাইক, কমেন্ট, শেয়ার পেতে হলে আপনাকে অবশ্যই দর্শকের দ্বারে দ্বারে যেতে হবে আপনার প্রিয় ছবিটি নিয়ে। তাই বিষয়টা আমার কেমন যেন টানে না।ছবিগুলোর সুষ্ঠু নিবার্চন প্রক্রিয়া থাকা দরকার। তবেই ক্রিয়েটিভিটি বাড়বে।

দীপ্ত পাল

 

ফটোগ্রাফি নিয়ে দেশের বাইরে কাজ করার ইচ্ছা আছে। সবচেয়ে বড় ইচ্ছা আমার ছবি দিয়ে আমি নিজের দেশকে বাইরের বিশ্বে পরিচিত করে দিবো। ফটোগ্রাফির উপর পড়াশুনা করার ইচ্ছা আছে।কয়েকটা বিদেশি সংস্থার হয়ে কাজ করারও খুব বেশি ইচ্ছা আছে, জানি না হবে কিনা। যদিও বাংলাদেশে এর পরিব্যাপ্তি অনেক নগন্য। তবে রিসেন্ট সময়ে অনেক সংস্থা বাংলাদেশের ফটোগ্রাফি নিয়ে কাজ করছে। সেসব জায়গায় সুযোগ হলে অবশ্যই কাজ করবো। ফটোগ্রাফি দিয়ে অনেক ভালোবাসা, সম্মান, আগ্রহ, আলোচনা-সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়েছে। এগুলো খুব ভালো লাগে। যারা নতুন ফটোগ্রাফিতে আসতে চায় তাদের উদ্দেশ্যে আমি সব সময় বলি, একটা ক্যামেরা সেটাপের অনেক দাম, যে শখটা পূরণ করা বাংলাদেশের বেশিরভাগ পরিবারের কাছে দুঃসাধ্য দুর্সাধ্য। তাই যারা নতুন ফটোগ্রাফিতে আগ্রহী তারা যেন পরিবারের উপর অনেক বেশি চাপ না দেয়, বাবা মাকে এবিষয়ে কষ্ট না দেয়। যদি তারা ভালোবসে আপনাকে গিফ্ট করে তবে সেটার মতো আনন্দের কিছু নেই। এবার যারা অলরেডি শুরু করেছেন তাদের উদ্দেশ্যে, আপনাকে একটা বিষয়ে পারদর্শী হতে হলে অবশ্যই সে বিষয়ের সকল খুঁটিনাটি রপ্ত করতে হবে।

ক্যামেরার প্রতিটি বাটনের কাজ না পারলে আপনি ভালো ফটোগ্রাফার হতে পারবেন না। তাই আগে নিজের ক্যামেরা সম্পর্কে জানতে হবে, শিখতে হবে। প্রথম এক বছর অনেক ভুল হবে, তারপরও থেমে যাওয়া চলবে না। আমি অনেককে দেখেছি, অনেক টাকা দিয়ে ক্যামেরা কিনে মাঝপথে থেমে যেতে। এগুলো খুব কষ্ট দেয়। দরকার হলে ক্যাম্পাসের ফটোগ্রাফিক সোসাইটির সাথে যুক্ত হোন, নিজে ঘাটুন, বড়দের সাহায্য নিন, অনলাইন থেকে শিখুন। তারপরও শখ এবং স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে যান।

মেহেদী হাসান, পরিবেশ বিজ্ঞান এবং দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ। তিনি ফটোগ্রাসাংবাদিকদের নানান বিষয়ে ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, করোনাকালে যথারীতি নিয়ম মেনেই বাসাতে অবস্থান করছি। আমি সাধারণত প্রকৃতি এবং বন্য পরিবেশের ছবি তুলতে বেশি পছন্দ করি। আসলে করোনাকালের মধ্যে কোয়ারেন্টাইনে বাসা থেকে বাইরে কোথাও যাওয়া হয়না তবে বাসার আশেপাশে বেশ মোবাইল ফটোগ্রাফি করা হয়। ফটোগ্রাফি প্রাপ্তি বলতে দৃক গ্যালারিতে অনুষ্ঠিত সান্সগ্রাফি পরিচালিত বর্ষসেরা পুরষ্কার, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত সাটার লাইট পরিচালিত হেল্প দ্য ফিউচার চিত্রপ্রদর্শনী, বিইউপি তে অনুষ্ঠিত পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগ পরিচালিত ছবি প্রদর্শনী ইত্যাদিতে অংগ্রহণ করেছি।

মেহেদী হাসান

 

আর এই কোয়ারান্টাইনে বাসায় থেকে 'পরিবেশ দিবস' উপলক্ষ্যে অনলাইলে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছি এবং জয়ীও হয়েছি । আগামীতে ফটোগ্রাফি নিয়ে আমার প্লান বলতে ছবি তোলাটা আসলে ভালো লাগা থেকে আসে, প্রকৃতির সৌন্দর্য টাকে তুলে ধরার চেষ্টা করি মাত্র। পরবর্তীতে এই চেষ্টা অব্যাহত রেখে ভালো কিছু করার আশাতেই আছি। ক্যাম্পাসের ফটোগ্রাফার এবং ফটোগ্রাফি তে আসতে চাওয়া নতুনদেরকে বলতে চাই একটা ছবিই পারে কোন স্থান বা জায়গার সৌন্দর্য টাকে বা সেই স্থানে ঘটে যাওয়া মুহূর্তটাকে ফ্রেমবন্দী করতে সেক্ষেত্রে নিজের দেশের প্রকৃতির যে সৌন্দর্যের চিত্র সেটা সবার সামনে তুলে ধরে এগিয়ে যাওয়া।

নাজিফা আনজুম, ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ। তিনি একান্ত আলোচনায় ক্যাম্পাসলাইভ কে জানান, করোনাকালে দিনকালের কথা বলতে গেলে বলতে হবে খুব বোরিং সময় যাচ্ছে কারণ এভাবে এতদিন বাসার মধ্যে আটকে থাকা হয়না। কিন্তু সময়টাকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছি, বেশ কিছু গঠনমূলক কাজ এবং স্কিল ডেভলপমেন্ট করার চেষ্টা করে যাচ্ছি। আমি সাধারণত পোট্রেট, লাইফস্টাইল, স্ট্রিট, ল্যান্ডস্কেপ, অ্যাবস্ট্রাক্ট ও স্টক ফটোগ্রফি বেশি পছন্দ করি এবং এই ধরনের ফটো তুলে থাকি। এই কোয়ারেন্টাইনে বাড়িতে টুকটাক ছবি তুলছি, কিছু শর্ট ভিডিওগ্রাফি এবং স্পেশাল ট্রিক ইউজ করে করে ছবি তুলি। এখন বাড়িতে থাকা জিনিসপত্র দিয়েই ছবি তোলার চেষ্টা করি।

এ পর্যন্ত ফটোগ্রাফিতে প্রাপ্তির সংখ্যা আলহামদুলিল্লাহ্‌ ভালোই। বাংলাদেশের বড় একটি প্লাটফর্মে তৃতীয় স্থান, ২০২০ সালের ক্যালেন্ডার ফিচার, কিছু ন্যাশনাল কম্পেটিশন এ প্রথম এবং তৃতীয় স্থান সহ অনেকগুলো প্রতিযোগিতায় ভালো অবস্থান অর্জন করতে পেরেছি। কোয়ারেন্টাইনে থাকা অবস্থায় বেশ কিছু স্পেশাল ভিডিওগ্রাফি এন্ড ফটোগ্রাফি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছি। ছবি নিয়ে আগামীতে আরো অনেক কাজ করার ইচ্ছা আছে। ছবি তোলা বলতে গেলে মাত্র শুরু, এর পর আরও অনেক ট্রেনিং নিয়ে ফটোগ্রাফির স্কিল ডেভেলপমেন্ট করার ইচ্ছা আছে। দেশে এবং বিদেশে ভালো ভালো প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের ইচ্ছা আছে।ফটোগ্রাফার উপাধিটা ও অনেক ভারী, অনেক বড়, নিজেকে সেই পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছি। ক্যাম্পাসের অন্যান্য ফটোগ্রাফারদের কে উপদেশ দেওয়ার মত অবস্থানে এখনো আমি পৌঁছাতে পারিনি বলে মনে করি। কারণ, ক্যাম্পাসের স্বনামধন্য ফটোগ্রাফাররাই আমাকে শিখিয়েছেন এবং শেখাচ্ছেন। তাদের উদ্দেশ্যে শুধু একটাই অনুরোধ থাকবে যে আপনারা ক্যাম্পাসে ফটোগ্রাফিরর মতো বড় একটা প্লাটফর্মকে সবার সামনে ভালো করে উপস্থাপন করুন। সুযোগ করে দিন সবাইকে নিজের ফটোগ্রাফি স্কিল দেখানোর এবং পর্যাপ্ত ট্রেনিং, ফটো এক্সিবিশন এবং কম্পিটিশন এর আয়োজন করুন।

নাজিফা আনজুম

 

নতুন যারা ফটোগ্রাফিতে আসতে চাইবে তাদেরকে প্রথমেই সাদর আমন্ত্রণ জানাতে চাই। তাদের উদ্দেশ্যে বলব যে , ফটোগ্রাফি শুধুমাত্র মোবাইল বা ক্যামেরায় একটা কিছু দেখলাম আর ক্লিক করে বসলাম এমনটা না। It's an art, so it's your duty to tend the art. অনেক কিছু শেখার আছে এখানে যা আমি নিজেই শুরুতে জানতাম না। একটা ইমেজ আর ফটোগ্রাফি এক জিনিস না, ইমেজটাকে ফটোগ্রাফিতে রূপ দেয়ার দায়িত্ব তোমাদের, যা কিছু শিখতে চাও ক্যাম্পাসে অনেক ভালো ফটোগ্রাফার ভাই বোনদেরকে পাশে পাবে যারা সাধ্যমত সাহায্য করবে। পরামর্শ হিসেবে বলব, তোমরা বেশি বেশি ছবি তুলো, যত ছবি তুলবে তত জিনিসটা বুঝতে পারবে, নিজের ভুল বা কমতি গুলো নিজের চোখে পড়বে, আস্তে আস্তে আরো ভালো হবে। তখন নিজেই বলতে পারবে -''আমি ফটোগ্রাফার''।

মো: রুবেল শিকদার, কৃষি বিভাগ। তিনি সাবলিল ভাবে ক্যাম্পাসলাইভকে জানান, কোয়ারেন্টাইনে আল্লাহর রহমতে ভালোই আছি। সব ধরনের ছবি তুলতেই আমার ভালো লাগে, তবে আমি লাইফস্টাইল আর ন্যাচার ছবি তুলতে বেশি পছন্দ করি। এখন যেহেতু ক্যাম্পাস বন্ধ তাই বাড়িতেই ছবি তোলা হচ্ছে। ফটোগ্রাফিতে আমার অর্জন বলতে কিছুদিন আগে বাংলাদেশ ফটোগ্রাফি ফোরাম নামের একটি ফটো কনটেস্টে ১ম হয়ছি। এছাড়াও কয়েকটি ফটো কনটেস্টে নমিনেশন প্রাপ্তি আছি।

মো: রুবেল শিকদার

 

করোনাকালীন এই সময়ে বিভিন্ন ফটো এক্সিবিশনে অংশগ্রহণ করেছি। কুমিল্লা ফটোগ্রাফি সোসাইটি ফটো কনটেস্ট, সাতলা ফটোগ্রাফি কনটেস্ট প্রতিযোগিতা অংশগ্রহণ করেছি। বাংলাদেশ এতো সুন্দর একটি দেশ, ফটোগ্রাফির ম্যাধমে আমি তা বিশ্বে তুলে ধরার চেষ্টা করে যাবো। নতুন যারা ফটোগ্রাফিতে আসতে চায় তাদের উদ্দেশ্যে বলব ফটোগ্রাফিতে প্রচুর শ্রম দিতে হবে, প্রচুর পড়তে হবে, ভাল ভাল ছবিয়ালদের ছবি দেখতে হবে এবং বেশি বেশি ছবি তুলতে হবে।

শেখ জুবাইর আহমদ, পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগ। তিনি ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন,আলহামদুলিল্লাহ করোনাকালীন সময় ভালোই যাচ্ছে। প্রথম দিকে কিছুটা খারাপ লাগা কাজ করত, সময় গড়ানোর সাথে সাথে পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নিয়েছি। আর যেহেতু ছবি তুলতে পছন্দ করি সেহেতু বাসায় থেকে এটার পিছনে সময় দিতে দিতে কখন যে সময় চলে যায় বুঝতেই পারিনা। একদিক থেকে এটা ভালো হয়েছে যে ছবির পিছনে একটু টাইম দিতে পারছি। ভাবার সময় পাচ্ছি ৷ আর আমি যেহেতু কন্সেপ্টচুয়াল ছবি তুলতে বেশি পছন্দ করি সেজন্য ছবিটা কেমন হবে, কি ভাবে উপস্থাপন করা যায় সেটার জন্য ভাবতে সময় লাগে৷ আর এই ছুটিতে সেটা ভালো করেই করতে পারছি। ন্যাচারাল ছবি তুলতেও বেশ ভালো লাগে, কিন্তু এই ঘরবন্দী জীবনে বাইরে গিয়ে সেটা করা তো আর সম্ভব নাহ! সেজন্য ঘরে থেকেই ছবি তুলছি। আপাতত কন্সেপ্টচুয়াল সিরিজ ছবি বেশি করার চেষ্টা করছি৷ সাথে সাথে অনলাইনে ছবির নানা টিউটোরিয়াল দেখে ছবির কৌশল গুলো ভালোকরে রপ্ত করার চেষ্টা করতেছি এবং নিয়মিত অনলাইন ফটো কনটেস্ট গুলাতে অংশগ্রহণ করছি।

শেখ জুবাইর আহমদ

 

ফটোগ্রাফিতে প্রাপ্তি বলে তেমন বড় কিছু নাই। নিতান্তই নিজের শখের বসে ছবি তুলি। কোন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে পুরষ্কার প্রাপ্তির থেকে আমি যে ছবি তুলতে পারছি বা নিজের কাছে ভালো লাগা মুহূর্তগুলো কে ছবির ফ্রেমে আবদ্ধ করতে পারছি এটাই বড় পাওয়া। নিজের মনের কল্পনাগুলা ছবির মাধ্যমেই ফুটিয়ে তুলতে পারছি বা আমার একটা ছবির মাধ্যমে মানুষজনকে একটা মেসেজ দিতে পারছি এটাই বড় প্রাপ্তি। প্রফেশনাল না হয়ে বরং শখের ছবিয়াল হতে চাই। আর যারা আমার মত শখের বসে বা নিজের ভালো লাগা থেকে ছবি তুলতে চাই তাদের উচিত নিজের মনের ছবিকে আগে প্রাধান্য দেয়া৷ নিজের মনে অঙ্কিত চিত্রকে ক্যামেরার মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলাই আসল স্বার্থকতা৷

নুসরাত রিতা, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ। তিনি তার পেশার বিষয়ে ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, যেহেতু একদম ই বাসার বাইরে যাওয়া হচ্ছে না তাই ফ্যামিলির সবার সাথে গল্প করে, রান্না বান্না করে ইনডোর ফটোগ্রাফি করেই সময় পার করছি। আমি মোবাইল ফটোগ্রাফি করতে খুবই সাচ্ছন্দ্য বোধ করি। মোবাইল ফোন এর মাধ্যমে আশেপাশের সব ছোট ছোট সৌন্দর্যকে সবার সামনে ফুটিয়ে তোলাই আমার পছন্দের জায়গা। সেটা যে কোনো কিছু হতে পারে, ইনডোর বা আউটডোর। কোয়ারেইন্টাইনে বাসায় বসে ইনডোর ফটোগ্রাফিই বেশি করা হচ্ছে, তবে ফুড ফটোগ্রাফিটাই প্রাধান্য পাচ্ছে। বাইরের কোনো ফটো এক্সিবিশনে অংশ নেওয়া হয়ে ওঠেনি৷

নুসরাত রিতা

 

তবে ক্যাম্পাসের ফটোগ্রাফিক সোসাইটির সকল কার্যক্রমের সাথে যুক্ত থাকি। এই কোয়ারেন্টাইনে কোন অনলাইন প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া হয়নি। তবে বিভিন্ন পেজে এবং "বশেমুরবিপ্রবি ফটোগ্রাফিক সোসাইটি"র ফেসবুক গ্রুপে ছবি পোস্ট করি রেগুলার। যেহেতু ফটোগ্রাফিক সোসাইটির সাথে যুক্ত আছি এখানের অভিজ্ঞদের থেকে আগামীতে অনেক কিছু শিখতে চাই এবং বিভিন্ন ফটো এক্সিবিশনে অংশগ্রহন করার ইচ্ছা আছে। আমার ক্যারিয়ারে ফটোগ্রাফিকে কাজে লাগাতে চাই। ফটোগ্রাফি একটা শিল্প। ফটোগ্রাফির জন্য যে অত্যাধুনিক ডিভাইস প্রয়োজন এমনটা নয়। ফটোগ্রাফির প্রতি আগ্রহ আর ভালবাসা থাকলে যেকোনো ডিভাইস দিয়েই ভাল কিছু করা যায়। তাই নতুন ফটোগ্রাফার যারা ছবি তুলতে বা ফটোগ্রাফি প্রকাশের ক্ষেত্রে যারা বিব্রতবোধ করেন তাদের বলব ফটোগ্রাফিকে ভালবাসলেই হবে ডিভাইস মূখ্য নয়। প্রচেষ্টার মাধ্যমেই ভাল কিছু সম্ভব।

নিশাত লুবনা, প্রাণিসম্পদ বিজ্ঞান ও ভেটেরিনারি মেডিসিন বিভাগ। তিনি ক্যাম্পাসলাইভকে জানান, করোনাকালীন ছুটির এই সময়টাতে ঘরবন্দী জীবনযাপন করতে হচ্ছে, খুব বেশি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে যাওয়া হচ্ছেনা। এরইমাঝেই সপরিবারে করোনা আক্রান্ত হয়েছিলাম তারপর থেকে আরও কঠোরভাবে কোয়ারেনটাইন রুলস মেনে চলতে হচ্ছে। কারোনার পুরো সময়টাই পরিবারের সদস্যদের সাথেই কাটছে।আমি প্রাকৃতিক ও পোট্রেট ছবি তোলার প্রতিই আকর্ষণটা বেশি অনুভব করি। ড্রোন দিয়ে ছবি তোলার বিষয়টাও ভালো লাগে যদিও এটা এখনও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় আছে। এছাড়া কম বেশি প্রায় সব ধরণের ছবিই তোলা হয়। তবে লকডাউনের এই সময়টাতে ছবি তোলা হয় ঠিক কিন্তু আগের মতো বিস্তর ভাবে না। সীমিত পরিসরে আশেপাশে যা পাওয়া হয় ওইসবেরই ছবি তোলা হয়। স্কুলজীবন থেকেই ফটোগ্রাফি করতে ভালো লাগতো তাই ফটোগ্রাফি করতাম কিন্তু ওগুলো কখনও কোথাও প্রকাশ করা হয়নি। নিজের করা ফটোগ্রাফি গুলো অনলাইনে প্রকাশ করার সময়কাল খুব বেশি দিন না, তবে এই অল্পদিনে বিভিন্ন জায়গা থেকে যেরকম সাড়া পেয়েছি তা আমাকে যথেষ্ট অনুপ্ররণা দিয়েছে যা সামনের দিকে ফটোগ্রাফিকে নিজের ক্যারিয়ারের সাথে যুক্ত করার জন্য যথেষ্ট।

নিশাত লুবনা

 

কোয়ারেন্টাইন সময়ে অনলাইনে বিভিন্ন গ্রুপে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করছি, এসব প্রতিযোগিতা থেকে প্রতিনিয়তই নতুন কিছু শিখছি। সত্যি বলতে ছবি নিয়ে আগে তেমন কোন প্ল্যান ছিলোনা। ভালো লাগতো নিজের জগতকে ক্যামেরায় ফুটিয়ে তুলতে তাই করতাম। কিন্তু এখন এই ভালো লাগাটাকেই আমার ক্যারিয়ারে কাজে লাগাতে চাই। শাটারে হাত রেখেই সামনের দিকে যেতে চাই। যদিও ফটোগ্রাফি লাইফের অভিজ্ঞতা আমার খুব বেশি দিনের না তারপরও নতুন যারা ফটোগ্রাফিতে আসতে চান অনেকে আছেন যাদের ছবি তুলতে ভালো লাগে বা ছবির প্রতি অন্যরকম টান অনুভব করেন তারা চেষ্টা করে যান ইনশাআল্লাহ ভালো কিছু করবেন। ভালো ফটোগ্রাফি করতে হলো দামি ক্যামেরা লাগে আসলে ব্যাপারটা এমন না ছবি তোলার প্রতি ভালোবাসা, যত্নশীলতা আর প্রচেষ্টার প্রয়োজন, নিজের চিন্তাভাবনাগুলোকে নিজের ভালোলাগাগুলোকে ফুটিয়ে তুলায় মূখ্য বিষয়। তাই চেষ্টা করতে থাকুন।

নাজমুল হাসান নিলয়, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ। তার নানান বিষয়ে তিনি ক্যাম্পাসলাইভকে জানান, করোনাকালের এই সময়টার জন্য হয়তো আমরা কেউ প্রস্তুত ছিলাম না। প্রথম প্রথম অসহ্য লাগলেও এখন নিজেকে মানিয়ে নিয়েছি এই অবস্থার সাথে। আমি ফটোগ্রাফিটা শুরু করি একদম শখ থেকেই, এখনো সেই শখকেই সঙ্গ নিয়ে যাচ্ছি। মোবাইল দিয়েই টুকটাক ফটোগ্রাফি করার চেষ্টা করি, চোখে যা সুন্দর লাগে সেটাই মুঠোফোন বন্দী করার চেষ্টা করি, তারমধ্যে ন্যাচার, ল্যান্ডস্কেপ, কনসেপচুয়াল, স্ট্রিট ফটোগ্রাফিতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। কোয়ারেন্টাইনে বাড়ি থেকে ইনডোর ফটোগ্রাফি, ম্যানিপুলেশন, কনসেপ্টচুয়াল এই ক্যাটাগরিতে কাজ করার চেষ্টা করছি। ব্যাপারটা খুব আনন্দের, নতুন কিছু সৃষ্টি করছি, সময়ও ভালো কাটছে। ফটোগ্রাফিতে প্রাপ্তির খাতাটায় মানুষের ভালোবাসাই সর্বাধিক জায়গা নিয়ে আছে। নিজের তোলা ছবি নিয়ে কারোর প্রশংসাই আমার বড় প্রাপ্তি।

নাজমুল হাসান নিলয়

 

অনলাইনের প্রতিযোগিতায় খুব বেশি অংশগ্রহণ করা হয়না, তবে কিছু জায়গায় অংশগ্রহণ করেছিলাম, তারমধ্যে ২-৩ জায়গায় প্রাথমিকভাবে সিলেক্ট হয়েছি। আমার একটি ছবি World Wonderful Photography (WWP) তে নমিনেট হয়েছে। যেটার এক্সিবিশন হবে ভারতে। ছবি নিয়ে আগামীতে তেমন কোনো প্লান নেই, শখের কাজ শখে চালিয়ে যাবো দেখা যাক কতদূর সঙ্গ দিতে পারি।ক্যাম্পাসে এখন অনেক নতুন ও ভালো ফটোগ্রাফার দেখছি, সবার ছবিই প্রশংদার দাবিদার। আমি নিজেও এখনো শিখছি৷ তাদের উদ্দেশ্যে কিছু বলাটা আমার শোভা পায়না, তবে বলবো ফটোগ্রাফিটা পড়াশোনার পাশাপাশি চালিয়ে যেতে আর যেকোনো প্রয়োজনে ক্যাম্পাসের সিনিয়র ফটোগ্রাফারদের সাথে যোগাযোগ করতে। ফটোগ্রাফির জ্ঞান ছড়িয়ে যাক সবার মাঝে, ছবি তোলার বাহানায় স্মৃতি জমা থাকুক।

Caption

 

ঢাকা, ১৭ জুলাই (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//বিএসসি

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।