করোনায় মাদারীপুরের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দিনলিপি


Published: 2020-07-13 13:12:51 BdST, Updated: 2020-09-24 01:43:27 BdST

কোভিড-১৯ রোগী সনাক্ত হয় ৮ মার্চ, এবং করোনা উপসর্গ নিয়ে প্রথম মারা যায় ১৮ মার্চ। তার কিছুদিন পর‌পর‌ই প্রায় ১৭ মার্চ থেকে করোনার প্রাদুর্ভাবে বাংলাদেশের প্রায় সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বন্ধ ঘোষণা করে। বেশিরভাগ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইনে ক্লাশ শুরু করেছে।

করোনার সংক্রমণ ক্রমশ বেড়ে যাওয়ার ফলে প্রায় তিন-চার মাস ঘরবন্দি এ সকল শিক্ষার্থীরা চলুন জেনে নেওয়া যাক, করোনার দিনগুলো কীভাবে তারা কাটাচ্ছে, তাদের অভিজ্ঞতা, তাদের প্রত্যাশাগুলো জানালেন ক্যাম্পাসলাইভকে: ইমরান হোসেন, কেএনজিসি (কবি নজরুল সরকারি কলেজ)।

কাজী মো.জাকির হোসেন, জাহাঙ্গীরনগরবিশ্ববিদ্যাল, ঠিকানাঃশিবচর, মাদারীপুর।

কাজী মো.জাকির হোসেন

 

তিনি ক্যাম্পাস লাইভকে স্বেচ্ছায় জানান, প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য নিয়ে সবুজের সমারোহে ঘেরা এবং পাখপাখালির কলকাকলির সুরে উল্লসিত ও উচ্ছ্বসিত সংস্কৃতির রাজধানী (জাবি) তে যখন এয়ার ফাইনাল পরীক্ষার প্রিপারেশন চলছে অতি উৎসাহে, তখনই হঠাৎ স্থবির হয়ে গেল পরীক্ষার সকল আয়োজন।

বন্ধ হয়ে গেল অনির্দিষ্টকালের জন্য ভালোবাসার ক্যাম্পাস। ভেবেছিলাম, স্বল্প দিনের মধ্যেই ফিরে পাবো স্বাভাবিক জীবন, যেখানে রূটিন মাফিক ক্লাস-পড়াশোনা, বন্ধুদের সাথে চা ও খুনসুটির আড্ডা এবং টিউশন ইত্যাদি এসবই নিত্যদিনের সঙ্গী। তাই সাময়িক সময় জন্য বাড়িতে থাকার প্রস্তুতি নিয়েই গৃহে এসেছিলাম।

প্রথম দিকে ফ্যামিলির সাথে নিজেকে জড়িয়ে নিতে পেরে অনেক দিন দূরে থাকার কারণে সৃষ্ট মায়া-মমতা ও ভালোবাসার ঘাড়তিটকু পুরণ করে নিলেও, এখন আর ভালো লাগছে না ভয় আর আতঙ্কে পরিপূর্ণ 'হোম কোয়ারেন্টাইন' নামে এই কারারুদ্ধ জীবন। চারদিকে করোনার ছড়াছড়ি নিয়ে সৃষ্ট মানুষের মধ্যকার সিরিয়াসনেসের বাড়াবাড়িটাও ক্রমশ হারিয়ে যেতে বসেছে,যদিও দেশের সার্বিক পরিস্থিতি দিন দিন অবনতির দিকেই যাচ্ছে।

ফলে, ছোটদের সাথে খেলাধুলা আর গ্রাম্য প্রকৃতির টানে সমবয়সীদের সাথে সীমিত পরিসরে ঘোরাফেরা থেকে নিজেকে ঘুটিয়ে নিতে পারিনি একেবারে। তবুও ভালো লাগছে না করোনায় আবির্ভূত একঘেয়েমির এই হোম কোয়ারেন্টাইনের খাঁচার আবদ্ধ জীবন। স্রষ্টার নির্দেশে প্রকৃতি তার আপন নিয়মেই চলছে, শুধু মরীচিকার মতো মনে হচ্ছে, থমকে দাঁড়িয়েছে আমাদের জীবন।

তবুও করুণাময়ের বাণী বুকে ধারণ করে মানিয়ে নিচ্ছি নিজেকে। কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, "হে ঈমানদাররা! তোমরা ধৈর্য ধারণ করো, ধৈর্যে প্রতিযোগিতা করো এবং সর্বদা আল্লাহর পথে প্রস্তুত থাকো, আল্লাহকে ভয় করো, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো।" (সুরা: আলে ইমরান, আয়াত: ২০০) এই বিশ্বাসে, দূরের ঘন- নিবিড় অন্ধকার থেকে নিকটের নতুন উদিত ভোরের ক্ষণ গুনছি। আর বলছি, "মেঘ দেখে কেউ করিসনে ভয়, আড়ালে তাহার সূর্য হাসে।

মোঃ খালিদ হাসান, বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়,ঠিকানাঃশিবচর,মাদারীপুর।

মোঃ খালিদ হাসান

 

তিনি ক্যাম্পাস লাইভকে বলেন, চার মাস আগে ঠিক বিকেলে যখন বিশ্ববিদ্যালয় এর হল থেকে বাসার উদ্দেশ্যে রওনা হই তখন কল্পনাতেও আসেনি এত দীর্ঘ দিন প্রাণময় দ্বিতীয় বাড়িটি থেকে এভাবে আলাদা হয়ে থাকতে হবে। অপেক্ষার দিনগুলো বেড়েই চলেছে, তার সাথে বেড়ে চলছে সংশয়। নির্ধারিত সময়ে কি আবার ক্লাস, পরীক্ষা শুরু হবে ,প্রাণ পাবে আবার সেই উচ্ছলতা?

পরিবারের সাথে সময় কেটে যাচ্ছে ভালই তবুও যেন বিশ্ববিদ্যালয়ের চেনা প্রিয় মুখগুলোর সাথে রাত দুইটা তিনটা পর্যন্ত টংয়ের দোকানের ক্যাম্পাসের মাঠে হলের ছাদে বসে আড্ডা, একসাথে ক্লাস টেস্টের পড়া জমিয়ে এক রাতেই তা কভার করা, ক্লাসের ফাঁকে মামার দোকানে আড্ডা, জাদুঘরের মত ল্যাব গুলোতে কাটানো সময় গুলোর সাথে যে ভালোবাসা মিশে আছে তা ক্ষণে ক্ষণে মনকে নাড়া দিচ্ছে।

এখন এলাকার বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিলেও তা অনেকটা সময় মেপে এবং অনেকে সীমাবদ্ধতার মধ্যেই ঘুরতে হয় করোনার প্রকোপ এর কারণে। পুরো ঢাকা ই যেন আমাদের সুর টা পাল্টে করোনার কারণে নিজের বাড়ির আঙিনা ও যেন আজ অচেনা লাগে। সারাদিন কাটে বাসায় টুকটাক কাজ মেসেঞ্জারে বন্ধুদের খোঁজখবর নেয়া আর ফেসবুক স্ক্রোলিং এর মাধ্যমে। অনলাইন ক্লাস না হওয়ায় পড়াশোনার কোনো চাপ নেই। বিকেল বেলায় বাইরে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিলেও সময়ের গণ্ডিতে সেই আড্ডা আর প্রাণবন্ত হয়না।

গ্রামে এলেই আগে পাড়া-মহল্লায় খেলতে যাওয়ার যে হিড়িক তা এখন আর নেই। তবু এসেছে অনেক কাজে সময়ানুবর্তিতা, পরিবারের সাথে ভালো সময় কাটানো। তবুও সময় গুলো তার নিজ গতিতে চললেও জীবন যেন থেমে গেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণ থেকে চলে আসার পরই। চিরচেনা দ্বিতীয় বাড়ির অভাব যেন মিটতে চাচ্ছে না কোনোভাবে। তাই আটকে থাকা পিছনের অনুভূতিগুলো জমা থাকুক সযত্নে। অনুভূতির গুলোর মাঝে আবার ডুবে যাব খুব তাড়াতাড়ি এটাই এখন প্রত্যাশা।

সাদিয়া আক্তার, রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগ, ১ম বর্ষ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, ঠিকানা: শিবচর, মাদারীপুর।

সাদিয়া আক্তার

 

তিনি ক্যাম্পাস লাইভকে জানান, গত ১৭ই মার্চ, দিনটিতে মহা আয়োজন করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের জন্মবার্ষিকী পালন করার কথা ছিল সেদিন ই করোনার ভয়াবহতার কারনে ভার্সিটি বন্ধ করে দিতে হয়েছিল। লম্বা একটা ছুটি পেয়ে খুশি হয়েছিলাম বটে, তবে সেই খুশির রেশ তখন ই কেটে গেছিল যখন দেখতেছিলাম করোনা দিন দিন মহামারি আকার ধারন করতেছে।

সময়ের অনাদেয় পরিস্থিতির সাথে সাথে নিজেকেও আটকে রেখেছি চার দেয়ালের মাঝে।যথাসম্ভব সতর্কতা অবলম্বন করার চেষ্টা করি।হ্যাঁ, এইটা সত্য যে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারছি না, ঠিক, এইটা ভেবে নিজেকে গুটিয়ে ফেললে কি ঠিক হবে?

তাই ভেবেই সব কিছুর সাথে সাথে টুক টাক পড়াশুনাও করতে হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অনলাইন ক্লাসের আয়োজন করেছে, এই বিষয়টি আমার দৃষ্টিকোন থেকে পজিটিভ চিন্তায় দেখি। যা ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনার মধ্যে রাখে।

তাছাড়া, এই করোনাকালীন সময়টা যতটা সম্ভব ভালো ভাবে ব্যয় করতে নানান অনলাইন কোর্স ও করে নেওয়া হচ্ছে, সেল্ফ ডেভেলপমেন্ট বিষয় টি কে একটু বেশি ই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। শিখে নেওয়া হচ্ছে কম্পিউটার বিষয়ক কিছু কাজ।

নিজের স্বাস্থ্যের প্রতি যত্ন নেওয়া, পাশাপাশি পরিবারের অন্যদের প্রতি খেয়াল রাখা, নিয়মিত পড়াশোনা করা সহ দৈনিক ঘটে যাওয়া ঘটনা গুলো তে চোখ রাখার মধ্য দিয়েও বিভিন্ন ধরনের জড়তা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।অবশেষে একটা ই কথা থেকে যায়, ঘরে থাকুন, সুস্থ থাকুন।

নাইম হোসেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঠিকানা: শিবচর মাদারীপুর।

নাইম হোসেন

 

তিনি ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, করোনার এ ক্রান্তিকালে আমি নানা ধরনের সমস্যায় মোকাবেলা করছি, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলোঃ পড়াশোনার সমস্যা; বাড়িতে প্রয়োজনীয় বই না থাকার এবং নিয়ে আসা সম্ভব না হওয়ার কারণে পড়াশোনা আশানুরূপ হচ্ছে না।
মেসের সমস্যা: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাএ হওয়ায় আমাকে মেসে থাকতে হয় কিন্তু এখন বাসায় অবস্থান করেও মেস ভাড়া ঠিকই গুনতে হচ্ছে।

বাবার উপর নির্ভরশীলতা: ঢাকা থাকা অবস্থায় আমি টউশন করে পড়াশোনা এবং নিজের ব্যয় নির্বাহ করতাম কিন্তু এখন বাবা -মায়ের উপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
নেটওয়ার্ক সমস্যা: অনলাইন ক্লাস হচ্ছে কিন্তু নেটওয়ার্ক কভারেজ ভালো না হওয়ায় আমি ঠিক মত ক্লাস করতে পারছি না।

মূল্যবান সময়ের অপচয়: পড়াশোনার সুষ্ঠু পরিবেশ ও বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কারণে মূল্যবান সময়ের অপচয় হচ্ছে।
সর্বোপরি অনিবার্য একাটা বিষয় ঘটতে যাচ্ছে সেটা হলো সেশনজট যার ফলে প্রত্যেকটা শিক্ষার্থীর জীবন থেকে হয়তো একটি মূল্যবান বছর চলে যাবে।

মেহেদী হাসান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, গোপালগঞ্জ, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ ৩য় বর্ষ, ঠিকানা: মাদারীপুর।

মেহেদী হাসান

 

তিনি ক্যাম্পাসলাইভকে জানালানে, করোনার ভাইরাসের কারনে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে গেল হুট করেই বই খাতা না নিয়ে বাড়িতে চলে আসি। তখন আমার ধারনা ছিলো না যে কত দিন বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকবে। প্রথমে দুই মাসের মতো লেখা পড়া থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলাম তাই কিছুটা মনস্তাত্ত্বিক চাপে ছিলাম, তাছাড়া দেশের সামগ্রিক অবস্থা টা ও দিন দিন খারাপ হতে থাকে এতে করে মানসিক ভাবে হতাশয় দিন কাটতে থাকে।

তবে এই হতাশা থেকে বের হওয়ার জন্য গত মাস থেকে স্বল্প পরিসরে চাকরির পড়াশোনা শুরু করি। এখন নিয়মিত চাকরির পড়াশোনার পাশাপাশি খেলা ধুলা করি বিকেল বেলা যাতে মন ভালো থাকে। দেশের অনেক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইনে ক্লাশ শুরু হলেও আমাদের ক্যাম্পাসে এখনও অনলাইন ক্লাস শুরু হয় নি। তবে ক্লাস যাতে শুরু করা যায় এই জন্য প্রস্তুতি হিসেবে কিছু অনলাইন মিটিং হইছে।

অনলাইন ক্লাস হলে ক্ষতি টা সামান্য পুষিয়ে নেওয়া যাবে তবে বাস্তবিক পক্ষে অনলাইন ক্লাস শুরু করা খুব সহজ হবে না। কেনো না সব শিক্ষার্থীদের স্মার্টফোন বা ইন্টারনেট ব্যাবোহারের সুযোগ নেই। সেই ক্ষেএে অনেক শিক্ষার্থী শিক্ষা বঞ্চিত হবে। যার ফলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে।

তাছাড়া অনলাইনে ক্লাস নেবার বিষয়ে অনেক শিক্ষক অভিজ্ঞ নয়। যার জন্য আমি মনে করি এখনো অনলাইনে ক্লাস করার উপযুক্ত সময় বা পরিস্থিতি আমাদের আসে নি। পরিশেষে বলতে পারি মহান আল্লাহ যেনো খুব দ্রুত এই মহামারীর হাত থেকে আমাদের রক্ষা করেন। এর সাথে সবার সুস্বাস্থ্য এবং দীর্ঘ আয়ু কামনা করি।

জারিন তাসনিম রাইসা, ইংরেজি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঠিকানা: কালকিনি, মাদারীপুর।

জারিন তাসনিম রাইসা

 

তিনি ক্যাম্পাসলাইভকে খোলামেলা জানালেন, করোনাকালীন বিশ্বের কিছুই যেন আর স্বাভাবিক নিয়মে চলছে না। তাই যেই আমি বেশিরভাগ সময় প্রিয় ক্যাম্পাসের আনাচে-কানাচেতে ঘুরে বেড়াতাম তাকে এখন চার দেয়ালের মাঝে সময় পার করতে হচ্ছে। তবে পরিবারের সাথে অনেকটা সময় কাটাতে পারায় ভালো লাগছে যা সাধারণত নানামুখী ব্যস্ততার কারণে হয়ে উঠতো না।

এই চার দেয়ালের মাঝেও যে একটা জগৎ আছে আর তা যে বাইরের জগতের বিপরীতে কতোটা স্নেহপূর্ণ, নিরাপদ, শান্তিদায়ক হতে পারে তা এখন অনুধাবন করছি। আর বাবা মায়ের সাথে কাজে সাহায্য করায় বুঝতে পারছি তারা আমাদের সুখের জন্য কতোটা ত্যাগ স্বীকার করেন। কালকিনি উপজেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর উদ্যোগে এই করোনার সময়ে যেসব দরিদ্র ব্যক্তি কাজে যেতে পারছেন না তাদের জন্য ত্রাণের ব্যবস্হা করেছি।

পরবর্তীতে, PDF (Physically Developnent Foundation) এর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত "Book Recording Challenge" এ দৃষ্টি-প্রতিবন্ধী বন্ধুদের জন্য বঙ্গবন্ধুর লেখা "আমার দেখা নয়াচীন" বইটি রেকর্ড করে দিয়েছি। আবার, ক্যাম্পাসে থাকা অবস্হায় ক্লাস, বিভিন্ন সংগঠনের দায়িত্ব, নানাবিধ প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ, নিজের পাঠ্যবই পড়াসহ অন্যান্য কাজের চাপে ইচ্ছা থাকা সত্বেও পাঠ্য বইয়ের বাইরে অন্য বই পড়ার সময় হতো না।

তবে এই প্যানডেমিকের সময়টাকে কাজে লাগিয়ে Thomas Hardy, Emily Bronte, Herper Lee সহ বেশ কিছু ইংরেজি সাহিত্যিকের বিখ্যাত কিছু উপন্যাস পড়ে ফেলেছি। পাশাপাশি, পেইন্টিংয়ের প্রতি যে টান অনুভব করতাম তা আরও বেড়ে গিয়েছে যার ফলশ্রুতিতে বেশ কিছু impressionistic পেইন্টিং বানিয়েছি।

এছাড়াও, অস্কার জয়ী ভালো কিছু মুভি দেখে শিল্পের রসবোধকে আরেকটু ক্ষুরোধার করার সুযোগও হয়েছে এর মাধ্যমে। সম্প্রতি Evolution 360 এর উদ্যোগে আয়োজিত Fund Raising Event এ অংশগ্রহণ করেছি নারী নির্যাতনের ওপর ছোটগল্প লেখা আর কোভিড ১৯ এর পর কীভাবে সভ্যতার ওপর প্রকৃতির আধিপত্য বিস্তার হয়েছে তার ওপর ছবি আঁকার মাধ্যমে।

এখন একাডেমিক পড়াশোনায় মনোযোগ দিয়েছি সাথে অনলাইনে বিশ্বের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ইংরেজির ওপর কিছু কোর্স করছি। আশা করি দেশ খুব শীঘ্রই সুস্হ অবস্হায় ফিরে আসবে আর তখন এই করোনাকালীন সময়ের অভিজ্ঞতাগুলো জীবনের মূল্যবান স্মৃতির সাথে অমলিন হয়ে রবে৷

মুকুল হোসেন, তৃতীয় বর্ষ (সম্মান), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়,ঠিকানা: শিবচর মাদারীপুর।

মুকুল হোসেন

 

তিনি বলেন, বাড়িতে কয়েকদিন থাকব তারপর আবার ঢাকা চলে আসব, পড়াশোনা আগের মতই চলতে থাকবে,এই ভাবনা নিয়ে ঢাকা থেকে চলে এসেছিলাম কিন্তু আজ ১১১ দিন হওয়ার পরেই কয়েকদিন শেষ হল না। প্রথমে বাড়িতে সময় যেন যাচ্ছিল না। পড়াশোনার সাথে সংযোগ করতে পারছিলাম না প্রথম কারণ হল মহামারীর আতঙ্ক, দ্বিতীয় কারণ প্রয়োজনীয় বইপত্র সঙ্গে আনা হয় নি। তখন বইয়ের সফটকপিই ছিল একমাত্র ভরসা। সারাদিন নিউজ দেখে আর গল্প-উপন্যাস পড়েই দিন পার করার চেষ্টা করছিলাম। তাতেও একঘেয়েমি কাটছিল না।

তারপর শুরু করলাম সবজির বাগান করা। বাড়ির সামনে পতিত জমি পরিষ্কার করে কিছু অংশে পুইশাক এবং করলার মাচা করে দিলাম। বাকি অংশে পেপে গাছ লাগানো হল। জুলাই থেকে অনলাইন ক্লাস শুরু হয়েছে। মহামারীর কারণে একাডেমিক কার্যক্রম যে নিথর হয়ে পরেছিল তার কিছুটা হলেও অনলাইন ক্লাসের মাধ্যমে পুনরুজ্জীবিত হয়েছে।একাডেমিক পড়াশোনায় মনোযোগী হতে হচ্ছে আর বাকি সময়টা সবজির বাগানে কাটাচ্ছি। আর প্রতিদিনই ভাবছি ক্যাম্পাসে ফিরে যাওয়ার কথা, অপেক্ষা করছি মহামারী অবসানের।

কাজী জাহিদুল হাসান রাজন, মাস্টার্স, পদার্থ বিজ্ঞান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঠিকানাঃ শিবচর, মাদারীপুর।

কাজী জাহিদুল হাসান রাজন

 

বাংলাদেশে করনার অস্তিত্বের প্রমান পাবার পরই মাদারীপুর জেলার আমার নিজ উপজেলা শিবচরকে লকডাউন ঘোষনা করা হয়। প্রশাসন তার কঠোরতার সর্বোচ্চ প্রয়োগ ঘটায় আমাদ্রর উপজেলায়। নিজ গ্রামে অবস্থানের সময় উপলব্ধি করতে থাকি যে গামের মানুষজন স্বাস্থ্য সচেতনতায় অনেকটি অপরিপক্ক। তাই করোনার প্রথমদিকেই নিজ উদ্যোগে ও প্রশাসনের সহায়তায় পুরো গ্রামে জীবানু নাশক ছিটিয়ে এবং স্বল্প খরচে জীবানু নাশক তৈরির প্রস্তুতপ্রণালীও শিখানোর উদ্যোগ গ্রহন করি।

এছাড়াও গ্রামবাসীকে ঘরে থেকে নিত্য প্রয়োজনীয় কাজগুলো করতে সহায়তা করা এবং সচেতন্তা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নানান কর্মসূচি গ্রহন করি। আল্লাহর অশেষ রহমতে প্রথম লক ডাউন হওয়া উপজালার গ্রাম হওয়া স্বত্তেও এখনো করনার কোন রোগী আমাদের গ্রামে সনাক্ত হই নাই।

ঢাকা, ১৩ জুলাই (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//আইকে//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।